আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
পাওয়ার, সোলার, রিয়েল এস্টেট, কন-এক্সপো উদ্বোধন

বিদ্যুৎ-জ্বালানি উৎপাদন, আবাসন শিল্পসংশ্লিষ্ট পণ্য ও সেবা, নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রাংশ নিয়ে রাজধানী ঢাকায় চলছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ছয় প্রদর্শনী। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) থেকে রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আইসিসিবি সেমিনার কক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ‘১৯তম পাওয়ার বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৭’, ‘১৪ তম সোলার বাংলাদেশ এক্সপো ২০১৭’, ‘২১তম কন-এক্সপো বাংলাদেশ ২০১৭’, ‘১৮তম রিয়েল এস্টেট এক্সপো বাংলাদেশ ২০১৭’, ‘২য় ইন্টারন্যাশনাল সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপো বাংলাদেশ ২০১৭’, এবং ‘ওয়াটার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০১৭’ শীর্ষক প্রদর্শনীর শুভ উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। আন্তর্জাতিক আয়োজক সংস্থা কনফারেন্স এন্ড এক্সিবিশন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড- সেমস্ গ্লোবাল আয়োজিত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

একই সাথে সিটির তিনটি হলে উক্ত প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, ভারত, রাশিয়া, জাপান, আমেরিকা, ইউক্রেন, সিঙ্গাপুর, চায়না, ইংল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইউএই, সাউথ কোরিয়া, ইতালি, জার্মানি ও তুরস্কের ভোক্তা/উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, সৌর বিদ্যুৎ, জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নির্মাণসামগ্রী, নির্মাণকৌশল, যন্ত্রাংশ, সেফটি ও সিকিউরিটি, ওয়াটার, ওয়েস্ট ওয়াটার টেকনোলজি ও আবাসন শিল্পের পণ্য ও সেবার সমাহার থাকছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেমস্ গ্লোবালের সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, বিশ্বের ১৫টি দেশ, ২৫০টি প্রতিষ্ঠান, ৩৫০টি স্টলের এই প্রদর্শনী ভোক্তা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য একটি যুপোপযোগী প্লাটফর্ম, যেখানে কার্যকরী যোগাযোগের মাধ্যোমে উদ্যোক্তারা নতুন নতুন প্রযুক্তি ও সেবার সাথে পরিচিত হতে পারবেন। ভোক্তা, উদ্যোক্তা, আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সরাসরি সাক্ষাৎ এবং আলাপচারিতার এই সুযোগের ফলে সকলের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আবদান রাখবে।

www. e-registrations.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রি-রেজিস্ট্রেশন অথবা ভেন্যূতে সরাসরি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা প্রদর্শনীগুলো উপভোগ করতে পারবেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার পাওয়ার সেক্টরে প্রভূত সাফল্য লাভ করেছে। আপনারা জানেন ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন চলছে। এ ধরনের এক্সিবিশন রিলেটেড সেক্টরের সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রচুর পরিমানে বিদেশি এক্সিবিটরের অংশগ্রহণ পারস্পরিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমকিা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হার্স্ ভার্ধন শ্রীংলা বলেন, ইন্ডিয়া বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতি অনেক পুরোনো। ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা নতুন নতুন সেক্টরে বিনিয়োগে আগ্রহ নিয়ে এই এক্সিবিশনগুলোতে অংশগ্রহণ করছে, যার প্রভাব অনেক সূদূরপ্রসারী।

এদিকে, নিজেদের পণ্য ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়া মার্কেটিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পণ্যের মার্কেটিং নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। এর প্রভাব পড়েছে মেলায়। মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য নিজেদের পণ্যের প্রচারণা।

বিক্রেতারা জানান, মেলার প্রথম দিন হিসেবে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। আশা করি, শুক্রবার ও শনিবার দিনগুলোতে দর্শনার্থী আরো বাড়বে। বিক্রিও ভালো হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্যে রাখেন- পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিআই) এর সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এবং ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) এর জেনারেল ডিরেষ্টর ডা. রাজিব শিং।

এদিকে, প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমস গ্লোবাল এবং সিইজিআইএস যৌথভাবে আয়োজন করেছে ‘অ্যাপ্লিকেশন অব ইনোভেটিভ টুলস অ্যান্ড টেকনিকস ইন ওয়াটার রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা। এটি আইসিসিবি সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। পরাদিন ২৭ অক্টোবর সেমস গ্লোবাল এবং আরডিএর যৌথ আয়োজনে থাকছে ‘মাল্টিপারপাজ ইউজ অব ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভলপমেন্ট ফর বেটার রুরাল লাইভলিহুড (আরডিএ এক্সপিরিয়েন্স)’ শীর্ষক কর্মশালা। এছাড়া, ২৮ অক্টোবর সেমস গ্লোবাল ও আইডাব্লিউএম যৌথভাবে আয়োজন করছে ‘ওয়াটার অ্যান্ড ক্লাইমেট চ্যালেঞ্জেস ইন ২০৩০’ শীর্ষক কর্মশালা।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসএ

মন্তব্য