আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
`রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণ হচ্ছে ২ লাখ আশ্রয়কেন্দ্র’

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে অত্যাচার আর নির্যাতনের ফলে প্রাণের ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য দুই লাখ আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ৫০ হাজার ল্যাট্রিন ও পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবেও জানা গেছে। আজ রোববার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, আমরা কুতুপালংয়ে যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে সেখানে পাঁচটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছিল যে, রোহিঙ্গাদের জন্য দেড় লাখ আশ্রয়কেন্দ্র লাগবে। এরই মধ্যে এক লাখ ৩১ হাজার নির্মাণ করা হয়েছে। বাদবাকি আগামী নভেম্বরের মধ্যে নির্মাণ করা হবে।

২৯ অক্টোবর সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মোট ৫০ হাজার ল্যাট্রিন বসানো হবে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ল্যাট্রিন বসানো হয়ে গেছে। এছাড়া, সরকার এ এলাকায় দুটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করবে এবং সৌর প্যানেলের সাহায্যে সড়ক বাতিও লাগানো হবে।

মায়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং আমাদেরকে তাদের সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য, আবাসন এবং অন্যান্য দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সর্বাত্মক সাহায্য করছি।

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউডব্লিউএফ), ইউনিসেফ ও একটি তুর্কি এনজিও-ও রোহিঙ্গাদের জন্য ল্যাট্রিন ও অন্যান্য স্থাপনা তৈরি করবে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সাড়ে পাঁচ লাখ এবং তুর্কি এনজিও ৫০ হাজার রোহিঙ্গার খাদ্য সরবরাহ করছে বলেও তিনি জানান।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, এ পর্যন্ত তিন লাখ রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সকল রোহিঙ্গার নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হবে। মোট ৫০টি বুথের মাধ্যমে এ নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের অক্টোবর এবং এ বছরের ২৪ আগস্টের সেনা অভিযানের পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। রোহিঙ্গারা টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩৩টির বেশি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে পালিয়ে আসছে।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসএ

মন্তব্য