আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
জলাবদ্ধতা নিরসনে দখলকৃত খাল উদ্ধার করা হবে: সাঈদ খোকন

আজকাল সামান্য বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ড্রেন-খাল উপচে রাস্তাঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি উঠে যায়। টানা বর্ষণ বা ভারী বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। এ সমস্যা বহুদিনের। তাছাড়া বৃষ্টি হলেই জনজীবনে দুর্ভোগের কমতি থাকেনা। সাধারণ জনগণের অবস্থা হয় দুর্বিসহ। শহরে এই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

আজ বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর চাঁনখারপুলে ডিএসসিসি’র ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল আয়োজিত ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে দখলকৃত সব খাল পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করা হবে। এসব খাল উদ্ধার করতে না পারলে জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দেয়া সম্ভব নয়। অবৈধ খাল দখলমুক্ত করার অভিযান আজ থেকে শুরু হয়েছে। খাল উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। 

মেয়র বলেন, কামরাঙ্গীরচর-কালুনগর খাল উদ্ধারের মাধ্যমে এ কাজ শুরু হবে। আর এটা প্রতিদিন চলবে। জেলা প্রশাসন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। আমি এ ব্যাপারে দক্ষিণ সিটির নাগরিকদেরও সহায়তা চাই।

সাঈদ খোকন বলেন, খালের যেসব অংশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেসব অংশ বাদ দিয়ে এ কার্যক্রম চালাব। যতক্ষণ পর্যন্ত খাল উদ্ধার করা যাচ্ছে, ততক্ষণ এ কার্যক্রম চলবে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এখন ছয়টি খালের অস্তিত্ব রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ এলাকায় অনেকগুলো খাল হারিয়ে গেছে। অনেকগুলোর অস্তিত্ব আজ নেই। কোনোমতে টিকে আছে এরকম খালের সংখ্যা ছয়টি।

জলবদ্ধতার বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র আরও বলেন, গত আড়াই বছরে আমরা অনেক রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও সংস্কার করেছি। ঢাকার উন্নয়নের বড় অন্তরায় জলবদ্ধতা। এবছর এপ্রিল থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সাধারণত বৃষ্টি শুরু হয় জুন-জুলাই মাসে। আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। তিনি বলেন, একটা সময় সিটি করপোরেশন সরকারি সম্পত্তি লুটপাটের জায়গায় ছিলো। এখন আমরা রাতদিন কাজ করছি। নগরীর যেসব খেলার মাঠ, পার্ক দখল হয়েছিলো সেগুলো উদ্ধার করছি। এই মাঠ-পার্কগুলো উন্নয়নে ‘জলসবুজে ঢাকা’ নামে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আগামী বছর প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

বর্জ্য পরিষ্কারে বিষয়ে নগরবাসীর সচেতনতা প্রয়োজন জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, রাস্তা-ঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখন বিভিন্ন বর্জ্য পড়ে থাকে। পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঢাকাকে পরিষ্কার রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে ঢাকা পরিষ্কার রাখা আমার একার পক্ষে সম্ভব না। নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। নিজেরা বদলালে শহর বদলাবে।

অনুষ্ঠানে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের জনসাধারণ গ্যাস সংকট, জলবদ্ধতা, যানজট, পানির সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা মেয়রের কাছে তুলে ধরেন। মেয়র তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সমস্যার সমাধান দেন। আবার কোনো কোনো সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

এর আগে জলাবদ্ধতা নিরসনে নাজিমউদ্দিন রোডের উন্নয়ন, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা বিশিষ্ট চাঁনখারপুল মার্কেটের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন।

২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর বিন আবদাল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, প্রধান প্রকৌশলী ফরাজী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর শফিকুল আলমসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসএ

মন্তব্য