আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
গৃহকর নিয়ে উত্তপ্ত চট্টগ্রাম: নগর ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা

গৃহকর নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। এ নিয়ে খোদ সরকারি দল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সরকারবিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়াও নাগরিকদের বিভিন্ন সংগঠন রাজপথে সরব রয়েছে। এরই মধ্যে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর পুনর্নির্ধারণের দাবিতে নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নামে বাড়িওয়ালাদের একটি সংগঠন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ৪ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় নগর ভবন ঘেরাও। ভবন ঘেরাওয়ের আগে রোববার (৫ নভেম্বর) থেকে মাসব্যাপী ৪১টি ওয়ার্ডে অভিযাত্রা এবং ২ ডিসেম্বর কদমতলী থেকে মশাল মিছিল বের করা হবে। শুক্রবার (৩ নভেম্বর) বিকালে নগরীর কদমতলীর আবুল খায়ের মেম্বর মার্কেট প্রাঙ্গণে এক সমাবেশ থেকে পরিষদের পক্ষে এ ঘোষণা দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মুহাম্মদ আমির উদ্দিন।

আমির বলেন, ভাড়ার উপর গৃহকর অন্যায় ও অযৌক্তিক। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয় এবং দ্বৈতকরের বোঝা চাপে। তিনি আরো বলেন, ৭০-৮০ শতাংশ ছাড়ে খুশি হওয়ার কিছু নেই। কারণ, অ্যাসেসমেন্ট এমনভাবে করা হয়েছে যে বড় ছাড় দেওয়ার পরও গৃহকর আগের চেয়ে পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি নুরুল আবসার, যুগ্ম সম্পাদক হাসান মারুফ রুমি ছাড়াও বক্তব্য রাখেন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার-উল-করিম, সহ-সভাপতি মজিবুল হক চুন্নু, মো. ছৈয়দুল হক, শ্রমিক নেতা ছিদ্দিকুল ইসলাম, আট মহল্লার নেতা মো. শাহজাহান চৌধুরী, হাজী মমতাজ আহমদ, হাসমত আলী, কামাল উদ্দিন সরকার প্রমুখ। সমাবেশ শেষে এক বিশাল গণমিছিল কদমতলী থেকে নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

জানা যায়, আগে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকরের হার নির্ধারণ করা হতো। চলতি অর্থবছর থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতি বর্গফুট হিসাবে কয়েকটি স্তরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গৃহকর আদায় শুরু করলে নগরবাসী আন্দোলনে নামে। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৯ অক্টোবর গৃহকর বিষয়ে অভিযোগহ নিয়ে আপিল শুনানি শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত আপিল করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৫২ হাজার আপিল আবেদন জমা পড়েছে। পাঁচ দিনে ৬৭০টি আপিল শুনানিতে নিষ্পতি করা হয়। এখন পর্যন্ত হওয়া আপিল শুনানিতে ২২ জন দরিদ্র হোল্ডিংধারীকে বছরে নামমাত্র ৫১ টাকা গৃহকর ধার্য্য করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতজন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন বিধবার গৃহকর পুরোপুরি মওকুফ করেছে আপিল বোর্ড।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) হিসেব মতে, এই পাঁচ দিনে আপিল শুনানিতে অংশ নেওয়া আপিলে নির্ধারিত গৃহকর ছিল ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। শুনানি শেষে এই কর মূল্যায়নের পর গড়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে মোট দুই কোটি ২৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকায় নেমেছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) প্রাথমিক পুনর্মূল্যায়নে সর্বমোট এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি হোল্ডিংয়ের বিপরীতে প্রস্তাবিত গৃহকর দাবি ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন ২৮ হাজার ৭০২ হোল্ডিংয়ের বিপরীতে গৃহকর দাবি ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। গত বছরের মার্চে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর পুনর্মূল্যায়ন শুরু করলে আন্দোলনের ডাক দেয় করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নামের বাড়িওয়ালাদের একটি সংগঠন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ড কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান, গণসমাবেশ ও গণমিছিলের মতো কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি। বর্ধিত হার প্রত্যাহার করে আগের নিয়মের আয়তনের ভিত্তিতে কর ধার্য না হলে গৃহকর দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে পরিষদের বিভিন্ন সভা থেকে।

সম্পাদনা: জেডএইচ/আরএ/আরবি/

মন্তব্য