আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের মধ্যবর্তীতে বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ না দেয়ার দাবী

রাজধানীর উত্তরার ১৩ নং সেক্টরের মধ্যবর্তী স্থানে বাণিজ্যিক প্লট বরাদ্দ না দেয়ার দাবী জানানো হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রতি ১৩ নং সেক্টরবাসী এই দাবী জানিয়ে বলেন, সাম্প্রতিকালে রাজউক ওই খালি জায়গাটিকে আবার কমার্শিয়াল প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অথচ সেক্টরবাসীদের দাবী সত্ত্বেও শিশুপার্ক স্থাপনের বিষয়টিকে কোনো তোয়াক্কা না করেই বাণিজ্যিক প্লটে রুপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে। এমতাবস্থায়, ওই খালি জায়গাটি শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্যে বরাদ্দ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট উত্তরা ১৩ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া, রাজউক কর্তৃক বাণিজ্যিক বরাদ্দ বন্ধ করতেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

শনিবার (৪ নভেম্বর) সকলে উত্তরার ১৩ নং সেষ্টর কল্যাণ সমিতির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সেক্টরবাসী এ দাবী জানান।

মানববন্ধনে সেক্টরবাসীগণ বলেন, ঢাকার উত্তরার ১৩ নং সেক্টর একটি জনবহুল আবসিক এলাকা। চতুর্দিকে এভিনিউ (কমার্শিয়াল এলাকা) পরিবেষ্টিত এই সেক্টরটির কেন্দ্রস্থলে একটি বড় খেলার মাঠ এবং মহিলা পার্ক রয়েছে। সেক্টরবাসীগণ অত্যান্ত উতফুল্লতার সাথে এই মাঠ এবং পার্ক ব্যবহার করে আসছে। মহিলা পার্ক সংলগ্ন দক্ষিণাংশের ২৬০’ x ৬০’ পরিমাণ জায়গা উন্মুক্ত। ২০১১ সালে ওই জায়গাটিকে কয়েকটি প্লটে বিভক্ত করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু ওই জায়গাটি পার্কেরই অংশ বিশেষ বিধায় পার্কটিকে সম্প্রসারণ করে শিশুদের জন্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে সেক্টরবাসীর মত থাকায়, ওই সকল প্লট বরাদ্দের বিপরীতে জনসাধারণ প্রতিবাদমূখর হয়ে ওঠে। এবং প্রতিবাদ স্বরুপ গত ৪ অক্টোবর এক মানববন্ধের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে সকল মিডিয়া থেকে প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে এবং ব্যাপক প্রসার লাভ করে। ফলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই বরাদ্দ বাতিল করে দেয়। সাম্প্রতিকালে রাজউক ওই খালি জায়গাটিকে আবার কমার্শিয়াল প্লট হিসেবে বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অথচ সেক্টরবাসীদের দাবী সত্তেও শিশুপার্ক স্থাপনের বিষয়টিকে কোনো তোয়াক্কা না করেই বাণিজ্যিক প্লটে রুপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, ওই সেক্টরে পানির অভাব গুরুত্বর। জায়গার অভাবে ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছেনা। এ বিষয়ে রাজউকের নিকট বারবার প্রচেষ্টা নিয়েও ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপনের জায়গার বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। পানির সংকট এবং শিশুদের মনোবিকাশের প্রয়োজনে পার্ক স্থাপনের বিষয়টি রাজউকের নিকট গৌণ হয়ে পড়ে। উপায়ান্তর না দেখে সেক্টরবাসী ওই মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে সেক্টরবাসীগণের অংশগ্রহণ ছিলো অভূতপূর্ব।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সেক্টরের কেন্দ্রস্থলে বাণিজ্যিক স্থাপনা সৃষ্টি করে নির্মাণ পরিবেশকে বিনষ্ট করে। এছাড়া, শিশুদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে বাণিজ্যিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করা একটি ন্যক্কারজনক প্রচেষ্টা বটে। তাছাড়া, এতো প্রচেষ্টার পরেও একটি পানির পাম্প স্থাপনের জায়গা বরাদ্দ না দেয়ার বিষয়টি ও নিন্দার দৃষ্টিতে দেখেন তাঁরা। এমতাবস্থায়, সেক্টরবাসী আশা করছে যে, রাজউক খালি জায়গাটিকে বাণিজ্যিক প্লটে রুপান্তরিত না করে শিশুপার্ক স্থাপন করবে। এবং সেখানে একটি ক্ষুদ্র অংশে ডিপ-টিউবওয়েল স্থাপনের ব্যবস্থা নিবে।

এদিকে, উওরা ১৩ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে ওই খালি জায়গাটি শিশুদের ও প্রতিবন্ধীদের জন্যে বরাদ্দ দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন রিহ্যাবের সাবেক পরিচালক ও কল্যাণ সমিতির সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম বাদল। এছাড়া, রাজউক কর্তৃক বাণিজ্যিক বরাদ্দ বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।

মানববন্ধনে বক্তব্যে রাখেন- কমিটির আহ্বায়ক মো. লুতফর রহমান তালুকদার, উত্তরা এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ১৩ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. হারুন আর রশিদ (বীর মুক্তিযোদ্ধা), সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন, গ্রীন ভয়েজ’র সিইও মো. আলমগীর কবির, জুবাইর আব্দুল্লাহ নাসিম, কাজী আসমা হক, শাহানাজ পান্না, মুমতাজুল করিম, কাউন্সিলর শাহনাজ পারভীন মিতু, শওকত চৌধুরী টিপু ও সমিতির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার মো. জাহিদ হোসেন (অব.), রুমা আজাদ, সভাপতি উত্তরা পশ্চিম থানা মহিলা আওয়ামী লীগ। এছাড়া, টেলিকনফারেন্স এ বক্তব্যে রাখেন সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী সাহারা খাতুন।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসএ

মন্তব্য