আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
টাইলস আমদানি-রপ্তানিতে নীতিমালা দাবি

টাইলস আমদানি-রপ্তানিতে নীতিমালা প্রণয়নের দাবি করেছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, সরকারের নীতি-সহায়তা পেলে তৈরি পোশাকের মতো বিদেশে বিপুল পরিমাণ টাইলস রপ্তানি সম্ভব। এ জন্য সবার আগে প্রয়োজন কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন। কারণ, ১১ প্রকারের টাইলসের মধ্যে বাংলাদেশে শুধু তিন ধরনের টাইলস উৎপাদন হয়। বাকিগুলো আমদানিনির্ভর। এ প্রেক্ষিতে সরকার নীতিমালার মাধ্যমে উন্নতমানের টাইলসের বিস্কুট আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ দেয় তাহলে দেশে অনেক পলিশিং ফ্যাক্টরি গড়ে উঠবে এবং এসব ফ্যাক্টরি থেকে বিদেশে ফিনিশড টাইলস রপ্তানি সম্ভব হবে।

বুধবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টাইলস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এ দাবি জানায়।

টাইলস ডিলার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান শরীফ বলেন, বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটি আনগ্লেজড/আনফিনিশড টাইলস আমদানির পর পলিশিং করে বিদেশে রপ্তানি করছে। কিন্তু একটি অসাধু চক্র কাস্টমসকে ভুল বুঝিয়ে রপ্তানিতে বাধার সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা চট্টগ্রাম কাস্টমসে ৪০ কন্টেইনার আনগ্লেজড/আনফিনিশড টাইলস আটক করেছে। তাদের দাবি, এগুলো ফিনিশড প্রোডাক্ট। অথচ বুয়েট টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, এগুলো আনগ্লেজড টাইলস। এ অবস্থায় একদিকে বিদেশি ক্রেতারা তাদের অর্ডার ফিরিয়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে বন্দরের মাশুল গুণতে হচ্ছে।

হাসান শরীফ আরও বলেন, এনবিআর থেকে শুল্ক গোয়েন্দা, বন্ড কমিশনারেট, কাস্টমস হাউজের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করলে সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। তার আগে বন্দর থেকে টাইলসগুলো অঙ্গীকারনামা অথবা বন্ডের মাধ্যমে খালাস জরুরি। কারণ, ব্যাংক ঋণের সুদ দিন দিন বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। এতে একটি সম্ভাবনাময় খাতের অপমৃত্যু ঘটবে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জিয়াউদ্দিন বলেন, বিদেশে টাইলস রপ্তানিকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের ধারণা, বন্ড সুবিধার আওতায় আনগ্লেজড/আনপলিশড টাইলস আমদানির পর সেটি পলিশ করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ-তাইওয়ান সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ সব টাইলস বিদেশে রপ্তানি করেছে, যার সব প্রমাণ আছে। কাস্টমসের ভুল সিদ্ধান্ত ও টাইলস ডিলার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অপপ্রচারের কারণে বর্তমানে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জিয়াউদ্দিন বলেন, তৈরি পোশাকের পর টাইলস রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। বর্তমানে ভারতে ৪০০-এর বেশি পলিশিং ফ্যাক্টরি আছে। এসব ফ্যাক্টরির ফিনিশড টাইলস রপ্তানি করে ভারত দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানিকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। টাইলসের প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীনে সাত হাজারের বেশি পলিশিং ফ্যাক্টরি আছে। শ্রমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখান থেকে কারখানা স্থানান্তরের কথা ভাবছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরও বলেন, বিদেশি টাইলস রপ্তানিতের পর দেশীয় বাজারে উন্নতমানের টাইলস সরবরাহের জন্য মধুপুরে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এ কারখানায় বডি তৈরির পর তা পলিশ করে বাজারে সরবরাহ করা হবে। তখন চীন থেকে ফিনিশড টাইলস আমদানির প্রয়োজন হবে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। মূলত আমদানির পথ সংকুচিত এবং অবৈধ মুনাফার পথ বন্ধ হওয়ায় টাইলস ডিলার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের অপপ্রচার শুরু করেছে।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসএ

মন্তব্য