আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
খোকার গুলশানের সেই বাড়ি এখন ভূমি অফিস

বাড়িটি এক সময় ব্যবহার করতেন ঢাকার সাবেক মেয়র, মন্ত্রী ও বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা সাদেক হোসেন খোকা। দুদকের দায়ের করা মামলায় আদালতের রায়ে তিনি সেই বাড়ির মালিকানা হারিয়েছেন। গুলশান-২ নম্বর সেক্টরের ৭২ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়িটি এখন সরকারি ভূমি অফিস। গুলশান রাজস্ব সার্কেল ঢাকার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

গত রবিবার থেকে এখানে ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলছে। ভূমি সংক্রান্ত কাজে এই বাড়িতে এখন প্রতিদিনই ভিড় করছেন নগরবাসী। পরিপাটি বাড়িটিতে ভূমি অফিস হওয়ায় এর পরিবেশে সন্তুষ্ট সেবা গ্রহীতারা।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুদকের করা এক মামলার রায়ে ১০ কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয় বিএনপি নেতা খোকার। এর মধ্যে গুলশানের পাঁচ কাঠার ওই বাড়িটিও ছিল। গত বছরের ৩০ অক্টোবর ঢাকা জেলা প্রশাসন বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

বুধবার দুপুরে সেই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা লোকজনের ভিড়। মিস কেস নিয়ে অনেকের শুনানি চলছিল তখন। নানাজন না সমস্যা নিয়ে এসেছেন এখানে। অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে পুরোদমে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগে এ ভূমি অফিসটি ছিল বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির কাছে। সেই অফিসটি চলছিল ভাড়া বাড়িতে। সরকারি এ ভবনটি খালি থাকায় ভূমি অফিসের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় তলা ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে তৃতীয় তলায়ও ভূমি অফিসের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।’

তবে ওই কর্মকর্তা জানান, ছয় তলা এই বাড়ির উপরের তলাগুলোতে অন্য কোনো সরকারি অফিস আসতে পারে বলে তারা জেনেছেন। বাড়িতে লিফট থাকলেও সেটা এখনো চলছে না।

ছয় তলা বাড়িটির প্রবেশপথের বাঁ পাশে ঝুলছে একটি সাইনবোর্ড। সাদার মধ্যে কালো অক্ষরে লেখা ‘সরকারি সম্পত্তি’। সাইনবোর্ডের বিবরণীতে লেখা ‘মাননীয় বিশেষ জজ আদালত-০৩, ঢাকা এর বিশেষ মামলা নম্বর ০২/২০১৫ মোকদ্দমা বিগত ২০/১০/২০১৫ তারিখে প্রদত্ত রায় মোতাবেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তকৃত। সরকারী সম্পত্তি তফসিল পরিচয় , বাড়ি নং ০৯, রোড নং-৭২, গুলশান আ/এ, ঢাকা জমির পরিমাণ=০.০৮২৫ একর।’ পাশে আরেকটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। এতে লেখা রয়েছে ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুলশান রাজস্ব সার্কেল’।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির নিচ তলায় গ্যারেজে দুই তিনটি টেবিল ও ব্যানার রয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠতেই দেখা গেল রুমভর্তি লোক। এখানেই ভূমি অফিসের কাজ চলছে। দোতলায় বড় জায়গাটি ব্যবহার করা হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের বসার স্থান হিসেবে। সামনের রুমে রয়েছে ভূমি অফিসের বিভিন্ন ফাইলপত্র। সেখানে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। এখানে এখটি রুমে বসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শরীফুল আলম তানভীর।

বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল রাহিমা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে। তিনি এসেছেন রাজধানীর বাড্ডার নতুন বাজার এলাকা থেকে। রাহিমা খাতুন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগে সেখানে ভূমি অফিসটি ছিল সেখানে এত সুন্দর পরিবেশ ছিল না। কী সুন্দর লেকের পাশে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেও এখন আর বিরক্ত লাগে না। আসলে ঢাকা শহরে এমন লেকের পাশে কয়টি বাড়ি আছে।’

২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর গোপন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেনকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায় ঘোষণার সময় খোকা নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। তাঁকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার বিচার চলে।

রায়ে বলা হয়, আসামি অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ার পাশাপাশি নয় কোটি ৬৫ লাখ তিন হাজার টাকার সম্পদের ওপর প্রযোজ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন। রায়ে দুদক আইনের ২৬-এর ২ ধারা অনুযায়ী ‘মিথ্যা তথ্য দেয়া কারণে’ সাদেক হোসেন খোকাকে তিন বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত। ওই টাকা দিতে না পারলে তাঁকে আরও এক মাস জেল খাটতে হবে। আর অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়ায় ২৭-এর ১ ধারা অনুযায়ী ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন বিচারক। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে ভোগ করতে হবে আরও ছয় মাসের সাজা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ২ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রমনা থানায় এ মামলা করে। তাঁর স্ত্রী ইসমত আরা এবং ছেলে ইসরাক হোসেন ও মেয়ে সারিকা সাদেককেও মামলায় আসামি করা হয়। ওই বছরের ১ জুলাই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ছেলে-মেয়ের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

মন্তব্য