আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
‘রাজধানীতে মাত্রাতিরিক্ত গৃহকর কমানোর দাবী’

চট্টগ্রামের পর এবার রাজধানী ঢাকায় মাত্রাতিরিক্ত গৃহকর কমানোর দাবী জানিয়েছেন বাড়ি মালিকরা। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, সমন্বয়ের নামে ঢাকা সিটি করপোরেশন মাত্রাতিরিক্ত গৃহকর ধার্য করেছে। করপোরেশনের বর্ধিত কর আরোপ অযৌক্তিক এবং নিয়ম বহির্ভূত। তাই অবিলম্বে এই গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবী জানান তাঁরা।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর সেগুনবাগিচা সোসাইটির নেতারা এ দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সোসাটির মহাসচিব আক্তার হোসেন চৌধুরী একটি বাড়ির উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগের নির্ধারিত গৃহকর ছিল ৬০০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তা ৭৬ গুণ বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সেগুনবাগিচা সোসাইটির নেতারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে গৃহকরের নতুন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর যৌক্তিক মাত্রায় গৃহকর নিতে সিটি করপোরেশনে অনেকবার অনুরোধ করা হলেও তা আমলে নেয়নি করপোরেশন। নতুনভাবে সমন্বয়ের ফলে অনেকের গৃহকর ৩০ থেকে ৪৫ গুণ বেড়ে গেছে। প্রতি ৫ বছর পরপর কর নির্ধারণ না করে ৮-১০ বছর ব্যবধানে করের এ পরিমাণ বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সিটি করপোরেশনের বর্ধিত মূল্যায়ন ও বর্ধিত নতুন করের নোটিস প্রত্যাহার এবং সর্বোচ্চ ৭ ভাগ থেকে ১০ ভাগ পর্যন্ত কর মূল্যায়নের দাবি জানায় সোসাইটি

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সেগুনবাগিচা সোসাইটির সভাপতি এ কে এম জব্বার ফারুক, সহ-সভাপতি এম এ কাইয়ুম, আমিন আহমেদ, মো. মোস্তফা ই জামিল, যুগ্ম মহাসচিব কাজী কামরুজ্জামানসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ১৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে রাজধানীতে হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এতে নাগরিকরা ক্ষুব্ধ’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেছিলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করা হয়নি। আগেও হোল্ডিং ট্যাক্স শতকরা ১২ ভাগ ছিল। এখনও তাই আছে। ২৯ বছর যাবৎ কর এ্যাসেসমেন্ট করা যায়নি বলে নতুন ও পুরাতন ফ্ল্যাট/ভবনের গৃহকরের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা দূর করে সমন্বয় করা হচ্ছে মাত্র।

সমতাভিত্তিক সমাজ ও নগরী গড়ে তোলার জন্য এটি জরুরি উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ধার্য্যকৃত গৃহকরও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শতকরা ৪০ ভাগ কমিয়ে আনারও সুযোগ রয়েছে। কোন নাগরিক এতে সংক্ষুব্ধ হলে বা দুর্ভোগের শিকার হলে যৌক্তিক যেকোন বিষয় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাধানের বিষয় বিবেচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ডিএসসিসি’র এক লক্ষ ৮২ হাজার ট্রেড লাইসেন্স ও এক লক্ষ ৬৫ হাজার হোল্ডিং রয়েছে।

সম্পাদনা: জেডএইচ/এমএন/আরএ/

মন্তব্য