আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
টিলা কেটে আবাসন প্রকল্পের জমি ভরাট, ঝুঁকিতে ১৩ পরিবার

মাটি কাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থামছে না পাহাড় কাটার কাজ। মৌলভীবাজার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের ইন্দেশ্বর ভূমি অফিসের অধীনে খাসমহল যাদুরগুল এলাকায় চলছে পাহাড়ি টিলা কাটা। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানির বেশিরভাগ ভূমি রাজনগর উপজেলার আওতাভুক্ত। তাই এ সার কারখানার কলাবাগান আবাসিক এলাকার নিচু জমি ভরাটের জন্য মৌলভীবাজারের রাজনগরের মুক্তিযোদ্ধা টিলার মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। গত ১৫ দিন ধরে শত শত ট্রাকে করে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ডিএম ফায়সালসহ ৩০-৪০ ঠিকাদারের নেতৃত্বে টিলা কাটার মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যাপকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন টিলার ওপর বসবাস করা ১৩টি পরিবারের লোকজন।

জানা গেছে, সার কারখানার আবাসিক এলাকার নিকটবর্তী মুক্তিযোদ্ধা তাহের আলীর টিলা থেকে ট্রাক্টর ও ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। টিলার ওপর বসবাসকারীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও ভয়ে প্রতিবাদ করেন না। যাদুরগুল খাসমহল এলাকায় বসবাসকারী ভূমিহীনদের বসবাসে যাতে কোনো বিঘ্ন না হয়, এ লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও মৌলভীবাজার জজকোর্টে একাধিক মামলা চলছে। মাটি কাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থামছে না পাহাড় কাটা।

সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেক লীগের সহসভাপতি ডিএম ফায়সাল মুঠোফোনে সাংবাদিকদের বলেন, সার কারখানায় কর্মরত লোকজনের জন্য ৩০টির বেশি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এখানে ২০-৩০ জন ঠিকাদার কাজ করছেন। সবাই সাব-ঠিকাদারদের মাধ্যমে মাটি ক্রয় করে ভূমি ভরাট করছেন। পাহাড়ি টিলা কাটার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান ফায়সাল।

ভূমিহীন সমবায় সমিতির সদস্য সচিব বিলাল হোসেন মিন্টু বলেন, প্রভাবশালীরা জোর করে টিলা কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলে বাড়িছাড়া করার হুমকি দেন তাঁরা।

টিলা না কাটার বিষয়ে মৌলভীবাজার সহকারী জজ আদালতে মামলা ও হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। তিনি জানান, হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন, টিলা কাটা যাবে না এবং বসবাসকারীদের উচ্ছেদ করা যাবে না।

রাজনগর ইউএনও তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাহজালাল সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুল হক মুঠোফোনে বলেন, মাটি ভরাট করে আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্য ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা টিলা কেটে নিচু ভূমি ভরাট করছেন, তা জানা ছিল না। বিষয়টি জানার পর টিলা কেটে মাটি না আনতে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

সম্পাদনা: এমএল/আরএ/এসকে

মন্তব্য