আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
নতুন আঙ্গিকে কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন ও আশুলিয়া আবাসন প্রকল্প

পরিধি সংকুচিত করে নতুন আঙ্গিকে ‘কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন’ আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুর ও সাভারের অংশবিশেষ নিয়ে নতুন করে বৃহৎ আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের সংশোধিত প্রকল্পে সবার জন্যই প্লট রাখা হবে। ঘরবাড়ি অধিগ্রহণ না করায় জনগণও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। আশুলিয়া প্রকল্পেও সবাই প্লটের আবেদন করতে পারবেন। দুটি প্রকল্পে অনেক ফ্ল্যাটও নির্মাণ করা হবে।

তাছাড়া, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ায় যত্রতত্র ঘরবাড়ি উঠে অপরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে। এ দুটি এলাকায় রাজউকের আবাসন প্রকল্প হলে সমগ্র এলাকায় যেমন পরিকল্পিত নগরায়ন হবে, তেমনি আশপাশের এলাকাগুলোরও উন্নয়ন হবে। বিদ্যমান জলাশয়ও রক্ষা হবে। রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, আট হাজার প্লট বানিয়ে মন্ত্রী-সংসদ সদস্যসহ অন্যদের বরাদ্দ দিতে চলতি বছরের প্রথম দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয় রাজউক। বিষয়টি নিয়ে গত মার্চে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে কেরানীগঞ্জবাসী ফুঁসে ওঠে রাজউকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে পিছু হটে রাজউক। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে কেরানীগঞ্জ মডেল টাউনের পাশাপাশি তুরাগপাড়ে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে রাজউক।

জানা গেছে, প্রথমে কেরানীগঞ্জের ১৬টি মৌজায় ২ হাজার ২৮৭ একর জমিতে ‘কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পপত্র তৈরি করেছিল রাজউক। নতুন প্রকল্পে ঘরবাড়ি বাদ দেওয়ায় এখন তা কমে ৯১২ একরে দাঁড়িয়েছে। ১৬টি মৌজার পরিবর্তে এখন বেওথা, বাড়িলগাঁও ও তারানগর এই তিনটি মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এতে প্লট হবে তিন হাজারের কাছাকাছি।

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কেরানীগঞ্জের প্রকল্পটি এখন ছোট করে ফেলা হয়েছে। যেসব স্থানে ঘরবাড়ি আছে, সেগুলো বাদ দিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, সেসব ক্ষতিগ্রস্তের জন্য একটি অঞ্চল তৈরি করে প্লট দেওয়া হবে। এতে করে আশপাশের এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

আশুলিয়া আবাসন প্রকল্প
গাবতলী ব্রিজের উত্তরে কোর্টবাড়ি মৌজা ও পশ্চিমে আমিনবাজার ল্যান্ডফিল থেকে উত্তরে আশুলিয়া পর্যন্ত তুরাগ নদের দু’পাশ দিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর পর্যন্ত এলাকায় হবে আশুলিয়া আবাসন প্রকল্প। এসব এলাকায় বেশকিছু ঘরবাড়ি রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন কারখানা, পার্ক, রেস্টুরেন্ট, পিকনিক স্পট, আবাসন প্রকল্প প্রভৃতি অবকাঠামোও রয়েছে। এসবের প্রায় সবই জলাভূমি ভরাট করে তৈরি হয়েছে। তুরাগের সাভার অংশে জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠেছে মসজিদ, ঘরবাড়ি, মার্কেট।

আশুলিয়ায় নতুন আবাসন প্রকল্প সম্পর্কে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, তুরাগ নদীর পাড় ঘেঁষে সাভার ও আশুলিয়া এলাকার জলাশয় ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রাজউক রক্ষা করতে পারছে না। বর্ষা মৌসুমে রাতের অন্ধকারে নৌকায় করে তারা বালু ফেলে। শুস্ক মৌসুম শুরু হতেই সেখানে চর জেগে ওঠে। এভাবে আশুলিয়ার বিশাল এলাকা ইতিমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। এ জন্যই আমিনবাজার থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত এলাকা অধিগ্রহণ করে তুরাগ নদ ও জলাশয়গুলো রক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানে প্লট বানিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে সম্প্রতি অবহিত করলে তিনি সম্মতি দেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, আশুলিয়ার প্রকল্পটি খুব ভালো হবে। কারণ বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এসব এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্পর্কে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি উক্ত দুটি প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যে দুটিরই প্রকল্পপত্র তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুরের নবাবেরবাগ, দিয়াবাড়ি, সাভারের সাঁতারবাড়ি, চন্দ্রনারায়ণপুর, শিবপুর, কাউন্দিয়া, বাঘসাঁতরা, বনগাঁ, বেরাইদ, গেণ্ডারিয়া, চাকুলিয়া, বিরুলিয়া, আশুলিয়ার দেনুয়া, বিনোদপুর, প্যারাগাঁও, ভাসান, গুশুলিয়া, গুটিয়া, পালাসনা, জিরাবো ও বাসান মৌজায় বাস্তবায়িত হবে আশুলিয়া আবাসন প্রকল্প। ইতিমধ্যে ওই এলাকার হাইড্রোলজিক্যাল সার্ভে করার দায়িত্ব রাজউক থেকে আইডব্লিউএমকে (ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং) দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আইডব্লিউএমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ওই এলাকায় রাজউক একটা প্রকল্প করতে চায় বলে বৈঠকে কথা হয়েছিল। জলাশয় রক্ষার যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে সেটা মহৎ। কিন্তু সার্ভে করার জন্য রাজউকের কোনো চিঠি এখনও তার কাছে আসেনি।

তবে রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে তারা আশুলিয়া প্রকল্পের যে তথ্য পেয়েছেন, সেখানে ৭১ শতাংশ রয়েছে জলাশয়। বাকি ২৯ শতাংশে হবে প্লট, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্র, মার্কেট, হোটেল প্রভৃতি। জলাশয় ছাড়া বাকি নয় হাজার একরেরও কিছু বেশি এলাকা নিয়ে এটি হবে একটি অন্য ধরনের প্রকল্প। জলাশয় রক্ষা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ব্যয়ও অনেক বাড়বে।

মন্তব্য