আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
সহস্রাধিক দর্শনার্থীর পদচারণায় সমাপ্ত ‘সিরামিক এক্সপো’

ক্রেতা ও দর্শনার্থীর পদচারণায় শেষ হলো তিন দিনব্যাপী “সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০১৭”। গত বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) থেকে রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ০৪ নম্বর হল ‘নবরাত্রি’তে এই এক্সপো শুরু হয়ে চলে শনিবার (২ ডিসেম্বর) বিকাল ৫টা পর্যন্ত। সিরামিক খাতকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই এক্সপোর আয়োজন করে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। সংগঠনটির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেন, সবদিক বিবেচনা করলে মেলা অত্যন্ত সফল হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক সারা পেয়েছি। তিনদিনে প্রায় দশ সহস্রাধিক দর্শনার্থী মেলা পরিদর্শনা করেছেন। এখন থেকে প্রতিবছর আরো বড় পরিসরে এ ধরণের মেলা আয়োজন করার ইচ্ছা আছে।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর সকালে সিরামিক এক্সপোর উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। বিসিএমইএ আয়োজিত এক্সপোতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এছাড়া, ৩০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, ৫০ জন বায়ারস হোস্ট অংশ নেন। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনটি সব দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত ছিলো। অবশ্য শনিবার বিকাল ৫টার পর কোনো দর্শনার্থীকে এক্সপোতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

এক্সপোতে অংশ নেওয়া দেশি কোম্পানিগুলো হচ্ছে– বাংলাদেশের চায়না-বাংলা সিরামিকস (টাইলস), আকিজ সিরামিকস (টাইলস অ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার), ডিবিএল সিরামিকস (টাইলস), এক্সিলেন্ট সিরামিকস (টাইলস অ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার), গ্রেটওয়্যাল (টাইলস অ্যান্ড স্যানিটারি ওয়্যার), হাই-টিস (টাইলস), মিরপুর সিরামিকস (আর্থেন টাইলস), এক্স সিরামিকস (টাইলস), মুন্নু সিরামিকস (টেবিলওয়্যার), প্রতীক সিরামিকস (টেবিলওয়্যার), শাইনপুকুর (টেবিলওয়্যার), ফার সিরামিকস (টেবিলওয়্যার), ব্রিজ কেমিক (কাঁচামাল)।

বিদেশি কোম্পানিগুলো হচ্ছে- জাপান, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, কানাডা, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সপোর শেষ দিনেও ছিলো দর্শনার্থীর ভিড়। এর মধ্যে অনেক দর্শনার্থীকে সিরামিক পণ্য কিনে নিতে দেখা যায়। বেসরকারি চাকুরিজীবী মামুন বলেন, সম্প্রতি একটি নতুন বাড়ি করেছেন। কিন্তু এখনো টাইলস লাগাননি। তাই বাড়িতে টাইলস লাগানোর জন্য এক্সপোতে ভালো মানের টাইলস পছন্দ করতে এসেছেন।

টাইলস পছন্দ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না হওয়ার কি আছে। দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। এখানে এসে কোন টাইলস কেমন সেটাও জানতে পারলাম। অবশেষে একটি কোম্পানি টাইলস অর্ডার দিয়ে দিলাম। এক্সপো উপলক্ষে অগ্রিম অর্ডার দিয়ে কমিশনও পেয়েছি।

এর আগে শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এক্সপোর প্রতিটি স্টলে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দর্শনার্থীদের এই পদচারণায় খুশি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া দেশি সিরামিক পণ্য প্রস্তুতকারীরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী প্রতিবছর করার আহ্বান জানান।

এদিকে, এক্সপো এর দ্বিতীয় দিনে আকিজ সিরামিক্সের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এসময় তিনি নতুন আসা ফ্লোর টাইলস সাব-ব্র্যান্ড ক্যাথেনা এবং ইনোভেটিভ স্যানিটারি ওয়্যার ব্র্যান্ড রোসাসহ সাব-ব্র্যান্ড ভ্যানিটা এবং আকিজ টাইলস-এর বিভিন্ন ডিজাইন দেখেন।

বাংলাদেশের এক্সপোর বিষয়ে বিদেশীরা বলেন, এক্সপো খুব ভালো হয়েছে। সুন্দর ব্যবস্থাপণা। আশা করি, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশে এ ধরণের মেলার আয়োজন করা হবে। সবমিলিয়ে এক্সপো বেশ সফল হয়েছে।

বাংলাদেশ কেমন দেখলেন জানতে চাইলে অতিথিরা বলেন, এক্সপোয় দর্শনার্থীদের ব্যাপক সারা পেয়েছেন। এ জন্য আমাদের বাইরে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তিনদিন ধরে এক্সপোর স্টলেই আছি। তবে পরে বাংলাদেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে।

মেলার আয়োজক সংস্থা সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদী হাসান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে সিরামিক পণ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রস্তুতকারক, রপ্তানিকারক এবং সরবরাহকারীদের নতুন পণ্য, আধুনিক প্রযুক্তি এবং নিজেদের দক্ষতা বিশ্বব্যাপি তুলে ধরার জন্য আমরা এবারই প্রথম এই এক্সপোর আয়োজন করি। সবদিক বিবেচনা করলে এক্সপো অত্যন্ত সফল হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক সারা পেয়েছি।

জাহেদী হাসান আরও বলেন, তিনদিনে প্রায় দশ সহস্রাধিক দর্শনার্থী মেলা ভিজিট করেছেন। এখন থেকে প্রতি বছর আরো বড় পরিসরে এ ধরণের মেলা আয়োজন করার ইচ্ছা আছে।

৩০ নভেম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক আয়োজন সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ হচ্ছে, এটাই প্রমাণ করে ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে এটি বেড়ে চলেছে। বছরে সিরামিক খাত থেকে আমাদের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার। আমাদের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সিরামিক গুরুত্বের দিক থেকে সাত নম্বর স্থানে রয়েছে। সামনে শুল্কমুক্তভাবে সিরামিক পণ্য রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে।

সম্পাদনা: আরএ/এমএন/এসকে

মন্তব্য