আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
মন্ত্রীর পৈত্রিক ভিটায় টিনের ঘর, তাও আবার ভাঙা

পৈত্রিক ভিটায় ভাঙা দুটি টিনের ঘর ছাড়া আর কোথাও কোনো বাড়ি নেই, তাও আবার ভাঙা। চেহারা দেখেই বোঝা যায়, দীর্ঘদিন মানুষের বসবাস নেই সেগুলোতে। বাবার ভিটায় এই ঘর থাকলেও এলাকায় গেলে তিনি উপজেলায় ডাকবাংলো এবং একজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে থাকতেন। তাঁর জীবনযাপন ছিলো একদম সাদামাটা। এতক্ষণ যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন। সবার পরিচত মুখ। তিনি হলেন সদ্য প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। ১৭ ডিসেম্বর, রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামে ছায়েদুল হকের বাড়িতে গিয়ে উক্ত চিত্র দেখা যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সিংহগ্রামের বাসিন্দা অনিন্দ দাস সাংবাদিকদের বলেন, ছায়েদুল হক একশত ভাগ সৎ ও নির্লোভ ছিলেন। নাসিরনগরে তিনি যখন আসতেন, তখন ডাকবাংলোতেই থাকতেন। আমরা মাঝে মাঝে দেখতাম তাঁর গায়ে ছেড়া গেঞ্জি। তাঁর এই সাদামাটা জীবন দেখে আমিও জীবনাচার বদল করছি।

ছায়েদুল হকের পাশের গ্রামের অর্জুন দাস বলেন, নাসিরনগরে এমন নেতা আর হয়ত জন্ম নেবে না। তাঁর সততা প্রশ্নাতীত। বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করা এই নেতার কাছে কোনো দুর্নীতিবাজের আশ্রয় ছিল না।

নাসিরনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মুনিরুজ্জামান সরকার বলেন, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া পূর্বভাগ গ্রামের দুটি টিনের ঘর ছাড়া ছায়েদুল হকের আর কিছুই নেই, তাও আবার ভাঙা। ১৯৯৬ সালের পর থেকেই তিনি নাসিরনগর ডাকবাংলোতে থাকতেন। মাঝে মাঝে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির রাফি উদ্দিনের বাড়িতেও রাত্রিযাপন করতেন।

উল্লেখ্য, ছায়েদুল হক নাসিরনগর থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মোট পাঁচবার। এরমধ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য তিনি। তখন থেকেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন।

ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ছায়েদুল হক ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেওয়ার পর এলএলবি পাস করে আইন পেশায় নিজেকে যুক্ত করেছিলেন ছায়েদুল হক। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। ২০১৪ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হওয়ার পর মিন্টো রোডের সরকারি বাসায় ওঠেন তিনি। ছায়েদুল হকের একমাত্র ছেলে এ এস এম রায়হানুল ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক। ৭৫ বছর বয়সী ছায়েদুল হক ১৬ ডিসেম্বর, শনিবার সকালে মারা যান।

সম্পাদনা: এমএন/জেডএইচ/আরবি

মন্তব্য