আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
`রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আবাসস্থল গড়ে দিতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া’

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের অস্থায়ী আবাসস্থল গড়ে দিতে চায় ইন্দোনেশিয়া। এ জন্য দেশটির সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি স্পিকার ড. ফাদলি জোন। মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় সংসদে এক সাক্ষাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তিনি একথা জানান।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ফাদলি জোনকে জানান, নির্যাতন ও নিপীড়নের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা গৃহহারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ সরকার নজির স্থাপন করেছে। এজন্য বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি স্পিকার বলেন, তাঁর দেশের সরকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রোহিঙ্গা শিবিরে চিকিৎসা সেবা দিতে চিকিৎসক প্রেরণের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আবাসস্থল গড়ে দিতে প্রস্তুত ইন্দোনেশিয়া। এ ব্যাপারে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে আগ্রহের কথা জানান ড. ফাদলি জোন।

স্পিকারের কার্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ার ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন দেশটির সংসদ সদস্য নূরমানসিয়া তানজুং ও লেদিয়া হানিফা আমালিয়া। সাক্ষাৎকালে তাঁরা দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের বন্ধু। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইন্দোনেশিয়া সরকার ও বিশেষ করে সংসদের ভূমিকার প্রশংসা করে স্পিকার এ ইস্যুতে আরও সহযোগিতা কামনা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে স্পিকার বলেন, এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরো সহযোগিতা কামনা করেন।

স্পিকার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পাঁচটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। এই প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক এবং এর মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব।

এদক, যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশকে ৩০ লাখ প্যাকেটেরও বেশি খাবার স্যালাইন সরবরাহ করেছে। আর ঢাকায় সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি এলদেরিম মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) কক্সবাজারে যাবেন।

গত ২০ নভেম্বর জাতীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেদেশের সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়া শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশের কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বিভিন্ন শিবিরে।

সম্পাদনা: জেডএইচ/এসকে/পিকে

মন্তব্য