আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে শেষ হল রিহ্যাব ফেয়ার ২০১৭

উদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ হলো রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৭।  রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলা গত বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) শুরু হয়ে চলে সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) রাত ৯টা পর্যন্ত। আবাসন মালিকদের  শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত মেলার শেষ দিন সোমবার মেলা প্রাঙ্গণে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীতে পরিপূর্ণ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় ভিড়ও বাড়তে থাকে। এবারের মেলায় গতবারের চেয়েও ক্রেতা-দর্শনার্থী বেশি এসেছে বলে জানিয়েছেন রিহ্যাবের পরিচালক ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ শাকিল কামাল চৌধুরী। জানা গেছে, গত বছর মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছিলো ২৫ হাজার। আর এবার এসেছে ২৭ হাজার।

আয়োজক সূত্র জানায়, এবারের মেলায় ২০৫ স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ৩০টি বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও ১৩ অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কো-স্পন্সর হিসেবে ছিল ২৪ প্রতিষ্ঠান। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ভরষা হাউজিং, পূর্বাচল মেরিন সিটি, জেমস, মালুম সিটি, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপ, জাপান তাগুচি ও হক বিল্ডার্ ছাড়াও  র্আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন হারে মূল্যছাড় দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের উপহারও দিয়েছে। মেলায় ক্রেতা গ্রাহকের ঋণ সুবিধা দিতে গৃহায়ন খাতে ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক অংশ নেওয়ায় ক্রেতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা।

অনেক গ্রাহক কোম্পানির প্রকল্পগুলোর প্রসপেক্টাস নিয়ে গেছেন। তারাঁ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করবেন বলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আশা করছে। এবার ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল ছোট আকারের ফ্ল্যাটের দিকে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংখ্যা বেশি ছিল।

রিহ্যাব ফেয়ারে অংশ নেওয়া ইস্ট ওয়েস্ট ডেভেলপার্স লিমিটেডের কর্মকর্তা জহিরুজ্জামান বলেন, এবারের রিহ্যাব ফেয়ারে বেশকিছু প্লট বিক্রি হয়েছে। তবে অনেক দর্শনার্থীর উপস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে অনেক প্লট বিক্রির আশা করছি আমরা।

আকাশ ডেভেলপার্স লিমিটেডের মশিউর রহমান রাশেদ বলেন, আমাদের ফ্লাটের সাইজ বেশ বড়। এ কারণে আমাদের বিক্রি কম হয়েছে। ধানমণ্ডি লেক সাইটের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করেছি ৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকায়। এর বাইরে মগবাজারসহ আশপাশের এলাকায় বেশকিছু নির্মাণাধীন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের মেলায় সাড়া খুব ভালো।

কো–স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সমূহ নিম্নরূপ: আকাশ ডেভেলপমেন্ট লিঃ, আমিন মোহাম্মদ ল্যান্ডস, ডেভেলপমেন্ট লিঃ, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিঃ, এ্যাশিউর ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড ডিজাইন লিঃ,এ্যাসুরেন্স ডেভেলপমেন্ট লিঃ, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক লিঃ, বিল্ডিং টেকনোলজি এ্যান্ড আইডিয়াস লিঃ,কমপ্রিহেনসিভ হোল্ডিংস লিঃ, কনকর্ড রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিঃ, ডোম-ইনো বিল্ডার্স লিঃ, ইস্টার্ণ হাউজিং লিমিটেড, ইষ্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রাঃ) লিঃ, হামিদ রিয়েল এস্টেট কনস্ট্রাকশন লিঃ, জেমস ডেভেলপমেন্ট লিঃ, জাপান তাগুচি কনস্ট্রাকশন লিঃ, নাভানা রিয়েল এস্টেট লিঃ, প্রতীক ডেভেলপার্স লিঃ, পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিঃ, রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানী (বিডি) লিঃ, শামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিঃ, সুবর্ণ ভূমি হাউজিং লিঃ, ইউ-এস বাংলা এ্যাসেট লিঃ। আর বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও অর্থলগ্নীকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কো-স্পন্সর হয়েছে-বাংলাদেশ বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ও বি প্রপার্টি ডট কম।

মেলা প্রাঙ্গণে শাকিল কামাল চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি খুবই অনুকূলে থাকায় এবার মেলায় প্রচুর দর্শনার্থী ছিলেন। ৫ দিনের মেলায় কয়েকদিন সরকারি ছুটি থাকায় এবার প্রচুর সাড়া পাওয়া গেছে। বেচাকেনা, বুকিং এবং ফ্ল্যাট ও প্লট কেনার প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গেছে বেশি। তিনি আরও জানান, গত বছর ৫ দিনের মেলায় মোট ২৪ হাজার ৯২১ ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছিলেন। আর এ বছর মেলায় এসেছে ২৭ হাজার দর্শনার্থী।

রিহ্যাবের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, এবারের রিহ্যাব ফেয়ার বেশ সাড়া ফেলেছে। মাঝারি ও রেডি ফ্ল্যাটের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্যণীয়। তিনি আরও জানান, চাহিদার তুলনায় এ ধরনের ফ্ল্যাটের কিছুটা কমতি রয়েছে। এ কারণে কোম্পানিগুলো স্বল্প সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করবে- এমন ফ্ল্যাটের প্রতি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

রিহ্যাব ফেয়ারে বিপুল ক্রেতা ও দর্শনার্থীর উপস্থিতির সুবাদে আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। মেলা কমিটির চেয়ারম্যান শাকিল কামাল চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, আবাসন খাতে এখন ক্রেতার সংকট নেই। গেল কয়েক বছরে এ খাতের সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। মেলায় বুকিং না দিলেও অনেকেই প্লট ও ফ্ল্যাটের বুকিং দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ অবস্থায় ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে কম সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে, রিহ্যাব ফেয়ার সফল ভাবে সম্পন্ন করায় রিহ্যাব কর্মকর্তা ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানসহ সকলকে ধন্যবাদ জানান রিহ্যাবের সভাপতি মো: আলমগীর সামছুল আলামিন (কাজল)। তিনি বলেন, এ বছর ফেয়ারে ২৭ হাজার ক্রেতা ও দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে। সবার সহযোগীতায় পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাব ফেয়ার ২০১৭ সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য সকলকে ধন্যবাদ। আগামী মেলায় আরও ক্রেতা ও দর্শনার্থী বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন, স্টল বরাদ্দের পর গত ২১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিহ্যাব ফেয়ার ২০১৭ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ‌’স্বপ্নীল আবাসন, সবুজ দেশ লাল সবুজের বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে গত ২১-২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে দেশের আবাসন শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘রিহ্যাব ফেয়ার-২০১৭। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলায় প্রবেশের সুযোগ পান ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। তবে মেলার প্রথম দিন দুপুর ২টা থেকে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা প্রবেশের সুযোগ পান। আবাসন কোম্পানির সাথে আবাসন প্রত্যাশী লোকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করে রিহ্যাব।

এবারও মেলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে সিঙ্গেল এবং মাল্টিপল এন্ট্রির জন্য দুই ধরনের টিকিটের ব্যবস্থা রাখা হয়। সিঙ্গেল এন্ট্রি টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা এবং মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলার সময় পাঁচবার প্রবেশ করতে পারেন। মিলনমেলায় এবার এন্ট্রি টিকিটের রাফ্রেল ড্র তে প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজসহ ছিলো ১০টি আকর্ষণীয় মূল্যবান পুরস্কার। এদিকে, সোমবার মেলা শেষ হলেও সমাপনী অনুষ্ঠান হবে আগামী ৪ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।

২১ ডিসেম্বর রিহ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) এর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। এছাড়াও ছিলেন রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (১ম) লিয়াকত আলী ভূইয়া, রিহ্যাবের পরিচালক ও ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান মো. শাকিল কামাল চৌধুরী, পরিচালক কামাল মাহমুদসহ রিহ্যাবের বর্মান ও সাবেক নেতৃকৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার শুরু হয়। এছাড়া, চট্টগ্রামে ১০টি ফেয়ার সফল ভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। রিহ্যাব ২০০৪ সাল থেকে বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি, যুক্তরাজ্যে, দুবাই, ইতালীর রোম, কানাডা এবং সিডনী এবং কাতারে ১টি করে “রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সকল ফেয়ার আয়োজনের মাধ্যমে রিহ্যাব দেশে ও বিদেশে গৃহায়ন শিল্পের বাজার সৃষ্টি এবং তা প্রসারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে। অন্যদিকে, প্রবাসী ক্রেতারা তাদের যেমন আবাসিক সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছে, আবার এই ফেয়ারের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জিত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গৃহায়ন শিল্প এবং লিংকেজ শিল্প বিকাশে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এসকে

মন্তব্য