আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
‘ঢাকাবাসীর আয়ের ৩০ শতাংশই ব্যয় হয় বাড়ি ভাড়ায়’

রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের খরচ বেড়েই চলছে। এর মধ্যে বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের বিল, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ ছাড়াও আছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর পিছনে ব্যয়। ‘নগর পরিস্থিতি-২০১৭: ঢাকা মহানগরীর আবাসন’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখো গেছে,  রাজধানীতে বসবাসরত শতকরা ৮২ ভাগ ভাড়াটিয়াই তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশই ব্যয় করেন বাড়ি ভাড়ায়। আর ৪৪ শতাংশ মানুষ তাদের আয়ের ৪৫ভাগই বাড়ি ভাড়া ইউটিলিটি বিল ও পরিবহন খাতে ব্যয় করেন, যা তাদের সামর্থ্যের বাইরে।

২০১৭ সালের শেষ দিন রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ওই গবেষণায় এই চিত্র দেখা গেছে। রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইনে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন প্রকল্পটির প্রধান সৈয়দা সেলিনা আজিজ। বাড়ি ভাড়ায় অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে জীবনযাত্রার মান নিয়ে তাদের আপস করতে হয় বলে মন্তব্য করেন সেলিনা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুরান ঢাকা, মিরপুর, রামপুরা ও বাড্ডা- এই চারটি এলাকার ৪০০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নিয়ে জরিপের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেন বিআইজিডির গবেষক দল।

সেলিনা আজিজ বলেন, গবেষণায় তাঁরা পেয়েছেন, ঢাকায় বসবাসবাসী ৩২ শতাংশ নিজেদের বাড়িতে থাকেন। বাকি ৬৮ শতাংশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে। ভাড়াটিয়াদের মধ্যে ৫৫ ভাগ এক হাজার বর্গফুটের চেয়ে ছোট বাসায় থাকেন। ৫ ভাগ মানুষ থাকেন দুই হাজার বর্গফুটের ঘরে।

সেলিনা বলেন, ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ও জমির অত্যধিক দামের কারণে ৬৮ শতাংশ ভাড়াটিয়ার তা কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই। যারা বাড়ি বা ফ্লাট কিনেছেন, তাদের ৬১ শতাংশ নিজেদের পরিবারিক বা ব্যক্তিগত আয় থেকে তা করা হয়েছে। ১১ভাগ মানুষ বাড়ি বা ফ্লাট কিনেছেন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। তবে ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হার, স্বল্পমেয়াদী ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ প্রাপ্তি ঝামেলাকর হওয়ায় তারা আগ্রহী নন বলে জরিপকারীদের জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বর্তমানে ঋণ নিয়ে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ৭০ শতাংশ টাকা ব্যাংক দেয়। বাকি ৩০ শতাংশ ক্রেতাকে এককালীন পরিশোধ করতে হয়। এজন্য অনেক ক্রেতা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। সেকারণেই ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার এককালীন পরিশোধ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা এবং সরকারি অব্যবহৃত প্লট বা জায়গায় ফ্লাট নির্মাণের সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান আবাসন খাতকে কেন্দ্র করে বন্ড মার্কেটকে উন্নত করার পরামর্শ দেন। অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শও দেন তিনি।

সম্পাদনা: এমএন/এসকে/জেডএইচ

মন্তব্য