আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার এককালীন পরিশোধ ৫% করার সুপারিশ

ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার এককালীন পরিশোধ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। তাঁরা বলেছেন, ঢাকায় বসবাসবাসী ৩২ শতাংশ নিজেদের বাড়িতে থাকেন। বাকি ৬৮ শতাংশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে। ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ও জমির অত্যধিক দামের কারণে ৬৮ শতাংশ ভাড়াটিয়ার তা কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই। যারা বাড়ি বা ফ্লাট কিনেছেন, তাদের ৬১ শতাংশ নিজেদের পরিবারিক বা ব্যক্তিগত আয় থেকে তা করা হয়েছে। এমতাবস্থায়, এককালীন ৩০ শতাংশের বদলে ৫ শতাংশ টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা হলে ফ্ল্যাট বা বাড়ি  কেনায় মানুষের আগ্রহ বাড়বে।

২০১৭ সালের শেষ দিন রোববার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) গবেষকরা এ সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে সরকারি অব্যবহৃত প্লট বা জায়গায় ফ্লাট নির্মাণেরও সুপারিশ করেন তাঁরা।

ব্র্যাক সেন্টার ইনে ‘নগর পরিস্থিতি-২০১৭: ঢাকা মহানগরীর আবাসন’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্র  উপস্থাপনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করে প্রকল্পটির প্রধান সৈয়দা সেলিনা আজিজ বলেন, গবেষণায় তারা পেয়েছেন, ঢাকায় বসবাসবাসী ৩২ শতাংশ নিজেদের বাড়িতে থাকেন। বাকি ৬৮ শতাংশ থাকেন ভাড়া বাড়িতে, যাদের শতকরা ৮২ ভাগেরই আয়ের একতৃতীয়াংশ বাড়িভাড়ায় ব্যয় হয় যায়; আর ৪৪ ভাগ তাদের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে বাড়ি ভাড়া দেন। ভাড়াটিয়াদের মধ্যে ৫৫ ভাগ এক হাজার বর্গফুটের চেয়ে ছোট বাসায় থাকেন। ৫ ভাগ মানুষ থাকেন দুই হাজার বর্গফুটের ঘরে।

পুরান ঢাকা, মিরপুর, রামপুরা ও বাড্ডা- এই চারটি এলাকার ৪০০টি বাড়িকে নমুনা হিসেবে নিয়ে জরিপের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করেন বিআইজিডির গবেষক দল।

সেলিনা আজিজ বলেন, ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ও জমির অত্যধিক দামের কারণে ৬৮ শতাংশ ভাড়াটিয়ার তা কেনার কোনো পরিকল্পনা নেই। যারা বাড়ি বা ফ্লাট কিনেছেন, তাদের ৬১ শতাংশ নিজেদের পরিবারিক বা ব্যক্তিগত আয় থেকে তা করা হয়েছে। আর ১১ভাগ মানুষ বাড়ি বা ফ্লাট কিনেছেন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। তবে ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদের হার, স্বল্পমেয়াদী ঋণ পরিশোধের সময়সীমা এবং ঋণ প্রাপ্তি ঝামেলাকর হওয়ায় তারা আগ্রহী নন বলে জরিপকারীদের জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, বর্তমানে ঋণ নিয়ে বাড়ি কিংবা ফ্ল্যাট কিনতে গেলে ৭০ শতাংশ টাকা ব্যাংক দেয়। বাকি ৩০ শতাংশ ক্রেতাকে এককালীন পরিশোধ করতে হয়। এজন্য অনেক ক্রেতা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. সুলতান হাফিজ রহমান আবাসন খাতকে কেন্দ্র করে বন্ড মার্কেটকে উন্নত করার পরামর্শ দেন। এছাড়া, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শও দেন তিনি।

সম্পাদনা: আরএ/এসকে/জেডএইচ

মন্তব্য