আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা, বেশিরভাগ নারী ক্রেতা

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা জমে উঠেছে। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মত। দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে ক্রেতা সমাগম। স্টলগুলোতে নারীদের ভিড় বেশি ছিল।

সোমবার বিকেলে বাণিজ্যমেলায় ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই এসেছেন মেলায় পছন্দের জিনিস কিনতে। মেলায় প্লাস্টিক পণ্য, অ্যালুমিনিয়ামের গৃহস্থালি (ক্রোকারিজ), ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকসের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। এছাড়া প্রথম দিন থেকেই ভাল বিক্রি হচ্ছে। আবার কাঠ ও প্লাইউডের আসবাব ও ইলেকট্রনিক পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্র। মূল্যছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। তবে মেলায় হকারদের আনাগোনা বেশি থাকায় বিব্রত হয়েছেন অনেক দর্শনার্থী।

মেলা থেকে গৃহস্থালি পণ্য কিনছিলেন আফরোজা বেগম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, প্রথম দিনই মেলায় এসেছি। কারণ প্রথম দিকে ভিড় কম থাকে। বাণিজ্য মেলায় কম মূল্যে ও ভাল মানের গৃহস্থালি পণ্য পাওয়া যায়।

গৃহস্থালি পণ্য বিক্রেতা আমিনুর রহমান জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে দুপুরে দোকান চালু করেছি। প্রতিবারই একটি স্টল দেয়ার চেষ্টা করি। কারণ মেলায় বিক্রি ভাল হয়। ওই বিক্রেতা বলেন, প্রথমদিনে বিক্রি তেমন না বাড়লেও ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। তবে দিন বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বিক্রি বাড়বে বলেও জানান ওই বিক্রেতা।

বাণিজ্য মেলায় এবারে সবচেয়ে বেশি আর্কষণ হচ্ছে ইমিটেশনের গয়না, কসমেটিকস, শাড়ি, থ্রি-পিস ও জুতার স্টলগুলো। এই স্টলগুলোতে নারী ক্রেতাদের সংখ্যা বেশি। মেলায় এসেছে বাহারি রঙের বিভিন্ন দেশীয় শাড়ি, থ্রি-পীস, কসমেটিকস এ ইমিটেশনের গয়না।

মেলায় ইমিটেশনের গয়না কিনছিলেন মমতা রায়। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন দেশের কসমেটিকস, ইমিটেশনের গয়না পাওয়া যায়। তা ব্যতিক্রম, দৃষ্টিনন্দন ও মানের দিক দিয়ে সেরা। তিনি বলেন, ইমিটেশনের গয়নাগুলো শাড়ি বা থ্রি-পীসের সাথে মানসই করে পড়লে অনেক বেশি ব্যক্তিত্ববান মনে হয়। মেলায় বাবা-মায়ের হাত ধরে এসেছেন অনেক শিশু। মেলায় শিশুদের জন্য থাকছে নজরকাড়া ডিজাইনেরা পোশাক, জুতা ও খেলনা।

৫ বছরের মেয়ে তাহার জন্য খেলনা কিনছিলেন মা রেহনা বেগম। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঢাকায় শিশু পার্ক ছাড়া বাচ্চাদের বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই প্রতিবছরই বাণিজ্য মেলায় বাচ্চাদের ঘুরতে নিয়ে আসি। এছাড়া এখানে শিশু পার্কের ব্যবস্থা রয়েছে। এই মেলা শিশুদের জন্য বিনোদন বটে।

মেলায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ সার্জেন্ট প্রিয়ংকর রায়। তিনি বলেন, মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা দিতে আমরা সদা প্রস্তুত। মেলায় গেটে চেকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেট কাটার পর সারিবদ্ধভাবে সবাই মেলায় প্রবেশ করছে। এছাড়া আমাদের নারী পুলিশও নিয়োজিত রয়েছে। আশা করি কোনো ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটবে না।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য জানান, দুপুরের পর থেকে মেলায় ক্রেতা সমাগম বেড়েছে। আশাকরি বাণিজ্যমেলা ব্যবসা সফল হবে। আমাদের আন্তরিকতার সবটুকু দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে মেলা পরিচালনা করছি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আয়োজনে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিবারের মত এবারও আয়োজন করা হয়েছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার। সোমবার মাসব্যাপী ২৩ তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু এবং ঐতিহ্যের ঢাকা গেটের আদলে তৈরি মেলার প্রধান ফটক। মেলায় এবার স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে ৫৮৯টি। এর মধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান বিদেশি। মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। কোনো সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াই মেলা সকাল ১০ থেকে রাত ১০ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে জনপ্রতি ৩০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০ টাকা। যুগান্তর

মন্তব্য