আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ১৩ ভবন ছাড়তে নারাজ ব্যবসায়ীরা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ৩৬টি মার্কেট ভবনের মধ্যে ১৪টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কতগুলো ভবনের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মার্কেটের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও লোহার রড বেরিয়ে আছে। ভবনের পিলারে ভাঙন ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক তার বের হয়ে আছে। এর পরও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত ১৩টি মার্কেট ভবন ছাড়তে চান না ব্যবসায়ীরা। পুনর্বাসন ও ফের দোকান বরাদ্দের নিশ্চয়তা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়েই ব্যবসা চালাচ্ছেন।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো হচ্ছে- গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসির কাঁচা মার্কেট, গুলশান (উত্তর) পাকা মার্কেট, গুলশান (দক্ষিণ) পাকা মার্কেট, গুলশান (দক্ষিণ) কাঁচা মার্কেট, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট, খিলগাঁও তালতলা কাঁচা মার্কেট, কারওয়ান বাজার ১ নম্বর ভবন, কারওয়ান বাজার ২ নম্বর ভবন, কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট, কারওয়ান বাজার কাঁচামালের আড়ত, মোহাম্মদপুর টাউন হল পাকা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা মার্কেট, প্রান্তিক সুপার মার্কেট (গাবতলী) ও বিজয় সরণির কলমীলতা কাঁচা মার্কেট। এর মধ্যে গত বছরের ২ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আগুনে গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসির কাঁচা মার্কেটটি ধসে পড়ে।

সিটি করপোরেশন বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছাড়তে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব ভবনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ডিএনসিসি দায় নেবে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ডিএনসিসি এলাকার মার্কেট ভবনগুলো পরীক্ষা করে। ডিএনসিসির ৩৬টি মার্কেট ভবনের মধ্যে ১৪টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ডিএনসিসিকে প্রতিবেদন দেয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে কতগুলো ভবন পুরোপুরি ভেঙে ফেলার, কতগুলোতে ‘রেট্রোফিটিং’ (কাঠামো অক্ষত রেখে সংস্কার) করার সুপারিশ করে বুয়েট। জরুরি ভিত্তিতে ভবনগুলোর ভার কমাতে বলে বুয়েট।

এ বিষয়ে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বুয়েটের পক্ষ থেকে ভবনগুলো পরিদর্শন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেই সুপারিশ করা হয়েছিল। এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ তাতে সন্দেহ নেই। সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে বুয়েটের সুপারিশ অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এদিকে, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব মার্কেটেই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেট ছাড়তে অপরগতা প্রকাশ করে তাঁরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের পরিবার এসব দোকানের ওপর নির্ভরশীল। মার্কেট বানাতে কয়েক বছর লাগবে। এই সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে পুনর্বাসন না করলে ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে।

একাধিক মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সিটি করপোরেশনের কোনো মার্কেট ১০-১২ বছরের আগে নির্মাণকাজ শেষ করার ইতিহাস নেই।

ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায় থাকুক এটি ডিএনসিসি চায় না। সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক নির্মাণকাজ শেষ করতে ব্যবসায়ীরা সমঝোতা করতে পারে। নির্মাণকাজ সঠিক সময়ে শেষ করার ক্ষেত্রে ডিএনসিসিরও জবাবদিহি থাকতে হবে।

সম্পাদনা: এফএইচ/আরএ/এমএন

মন্তব্য