আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
‘ঢাকার আশপাশে বছরে প্রায় ৬ হাজার একর জলাভূমি দখল’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. ইসরাত ইসলাম বলেছেন, ঢাকার আশপাশের এলাকায় প্রতি বছর প্রায় ৬ হাজার একরের মতো জলাভূমি দখল হচ্ছে।

১৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধস’ শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিনে এই তথ্য জানিয়েছেন বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এই শিক্ষক।

ইসরাত জানান, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজধানীর আশপাশের ১০ কিলোমিটার এলাকায় গবেষণা করে জলাভূমি দখলের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের এলাকায় প্রতি বছর প্রায় ৬ হাজার একর জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে।’

‘এখনো প্রতিনিয়ত আমরা ঢাকার আশপাশের জলাশয় হারিয়েই যাচ্ছি।’

সম্মেলনের শেষ দিনে ‘জলাবদ্ধতা : বিপর্যস্ত নগর ও গ্রামীণ জীবন’ শীর্ষক সেমিনারে ওয়াটার সাপ্লাই অথরিটির (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান জানান, ঢাকার আশপাশে ১২ ভাগ খাল-বিল-জলাশয় থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে আছে মাত্র ২ ভাগ।

সেমিনারে জলাশয় নিয়ে গবেষণায় কোনো কাজ হয় না উল্লেখ করে ড. ইসরাত ইসলাম বলেন, ‘আমি সেসব মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি, যেসব মানুষের কাছে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। ঢাকা বেরাইদ এলাকার সেই বয়ঃজ্যেষ্ঠ নারীর কাছে, যার পরিবার সেখানে প্রায় ২০০ বছর ধরে বসবাস করছিল। যেখানে সন্তানরা বড় হয়েছে, সেসব জায়গা এখন ভূমিদস্যুদের দখলে। সেই নারী আমাকে এক পোয়ার মতো চাল দিয়ে বলেছিলেন, বাড়ি গিয়ে রেধে খেয়ো। কারণ এই চাল আর কখনো হবে না। আগামীবার আসলে তুমি পাবে না।’

ঢাকার আশপাশ এলাকার জলাশয় ভূমিদস্যুদের কবলে চলে যাচ্ছে উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘যারা জবাবদিহিতা করবে তারা খুব সুন্দর একটা শব্দ ব্যবহার করে ‘আমরা পারছি না, আমাদের হাত-পা বাঁধা’। উচ্চ পর্যায়ের লোকেরা বলে, ‘আমরা পারছি না, কারণ আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবাই অসৎ।’ ‘আমরা পারছি না, কারণ আমাদের এখানে অনেক ক্ষমতাবান ব্যক্তি আছে।’’’

ড. ইসরাত প্রশ্ন করে বলেন, ‘কে এই ক্ষমতাবান ব্যক্তি? তারা তো আমাদের এই দেশেরই মানুষ। তাই পারছি না, এই কথা বলার আর কোনো অবকাশ নাই।’

জলাভূমি রক্ষার দায়িত্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকলেও এর দায়ভার সংসদ সদস্যদের (এমপি) নিতে হবে বলে মনে করেন ড. ইসরাত। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যরা আছেন, যারা সারা দেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যদি তাদের এলাকার জলাভূমি হারিয়ে যায়, তাহলে এর দায়ভার সংসদ সদস্যদের নিতে হবে। কারণ আমরা জানি তারা অসম্ভব রকমের ক্ষমতাবান।’

সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘পরিস্থিতি যতটা খারাপ বলে উল্লেখ করা হলো, আমরা মনে করি পরিস্থিতি এতটা খারাপ না।’

ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতার তিনটা কারণ উল্লেখ করে ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমাদের জলের আধার নেই। আমাদের ১২ ভাগ খাল-বিল-জলাশয় থাকার কথা, কিন্তু সেখানে আছে মাত্র ২ ভাগ। তাহলে জলটা ধরবে কে? রাস্তা হচ্ছে আমাদের আধার!’

‘ঢাকা সম্পূর্ণ ঢাকা। ঢাকা এলাকার ৪০৬ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার প্রায় ঢাকা। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে বৃষ্টির পানি নিচে যেতে পারছে না। তিন, ঢাকার চারদিকে যে ফ্ল্যাট ফ্লোয়িং জোন থাকার কথা, কিন্তু নেই। সেইসব জলাভূমি ভরাট করে উঁচু করছে ভূমিদস্যুরা। ফলে বৃষ্টির পানি যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় এসে পড়ে পানি, ফলে জলজট হচ্ছে, হবে।’

সমাধান তুলে ধরে তাকসিন এ খান বলেন, ‘কৃত্রিম উপায়ে ড্রেনের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব শহর থেকে পানি বের করে ফেলা। তার পরও যতটুকু সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা ‘

সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন সেন্টার ফর আরবান স্টাডিজের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, এএলআরডির শামসুল হুদা, স্থপতি ইকবাল হাবিব, বিআইপির ড. আকতার মাহমুদ, চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনাবিদ সৈয়দা জেরিনা হোসেন, হবিগঞ্জের তফাজ্জল সোহেল, ভবদহের ইকবাল কবির জাহিদ। প্রিয়

মন্তব্য