আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
লেকসিটিতে প্লট না পেয়ে হতাশ ৫৪৮ মালিক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আবাসন প্রকল্প লেকসিটি। ২০০৬ সালে ফয়’স লেক কৈবল্যধাম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ৩৫ কোটি টাকায় ৩০ একর জমি কিনে লেকসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন তৎকালীন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। অথচ ১২ বছর পরও আলোর মুখ দেখেনি লেকসিটি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও প্লট না পেয়ে অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। ৫৪৮ জন প্লট মালিকের মধ্যে অনেক মালিক মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু প্লটের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলেও মাঝপথে থমকে গেছে এ কার্যক্রম। এসব প্লটের বিপরীতে গ্রাহকদের ১০৬ কোটি টাকা আটকে আছে।

আক্ষেপ করে লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আফাজ উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে আমরা অনেকেই লেকসিটি প্রকল্পের প্লট কিনেছি। ইতিমধ্যে অনেক প্লটের মালিক মারা গেছেন। আমরা যারা বেঁচে আছি তাঁরা যেন অন্তত নিজেদের প্লট দেখে যেতে পারি।

জানা যায়, ৪৯০ জন প্লট গ্রহিতা আড়াই কাঠা পরিমাপের প্রতিটি প্লট কেনেন ১৭ লাখ টাকায়। পরে ২২ লাখ টাকা করে একই পরিমাপের ৫৪টি প্লট কেনেন অন্য গ্রাহকরা। দুই দফায় ৫৪৮ প্লট মালিকের কাছ থেকে প্রায় পৌনে ১০০ কোটি টাকা, উন্নয়ন চার্জ বাবদ ২ লাখ টাকা করে আদায় করা হয় প্লট মালিকদের কাছ থেকে। সেই হিসাবে গ্রাহকের ১০৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা চসিকের কোষাগারে রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, লেকসিটি আবাসন প্রকল্পের টাকা চসিকের অন্য খাতে ব্যয়, রেলওয়ের সঙ্গে সীমানা বিরোধ, পাহাড়কাটা নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তি, সিডিএর অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, প্রকল্পের কাজে গাফিলতি বা উদাসীনতার কারণে বছরের পর বছর প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছিল। ইতিমধ্যে মেয়র গেছেন, মেয়র এসেছেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ করেও কেউ প্লটে স্বপ্নের বাড়ি তৈরি করা দূরে থাক মালিকানাও পাননি।

এ প্রসঙ্গে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই লেকসিটি হাউজিং প্রকল্পটির ব্যাপারে আমি সচেতনভাবে কাজ করে আসছি। জায়গা নিয়ে কিছুটা জটিলতা ছিল। অবৈধ দখলদার ছিল। আমি তাদের উচ্ছেদ করেছি। জায়গা ডেভেলপ করেছি। নতুনভাবে সড়ক নির্মাণ করেছি। চেষ্টা করছি দীর্ঘদিন থেকে যেসব প্লট মালিক তাদের প্লট বুঝে পাননি তাদের দ্রুততম ও যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্লট বুঝিয়ে দিতে।

লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আফাজ উল্লাহ জানান, বর্তমান মেয়র দায়িত্ব নেয়ার পর কিছু প্লটের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। নির্মিত হয়েছে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সড়ক। কিন্তু এখনও গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি ইউটিলিটি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে প্লট রেজিস্ট্রি হলেও বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করার উপযোগী হতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে।

লেকসিটি হাউজিং প্রকল্পের পরিচালক ও চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান মেয়রের নির্দেশনায় প্রকল্পটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি এটি দ্রুত প্রত্যেক প্লট গ্রহিতার বিপরীতে প্লট বরাদ্দ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারব।

সম্পাদনা: সিটিজি/এমএস/আরবি

মন্তব্য