আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আবাসন প্রকল্পের ১০০ পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

বরিশাল জেলার গৌরনদীর টরকি বন্দর সংলগ্ন পালরদী নদীর পাড়ে অবস্থিত বড় কসবা আবাসন প্রকল্প। এই প্রকল্পে বসবাস করছেন ১০০টি দুস্থ পরিবারের বিভিন্ন বয়সের প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। আবাসন কেন্দ্রটি নদীর পাড়ে গড়ে ওঠার কারণে প্রচণ্ড শীতে এখানে বসবাসরত নারী-পুরুষ ও শিশুরা কাবু হয়ে গেছে। সরকারি কম্বল পাওয়াতো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগতভাবেও কেউ তাদের কম্বল বা শীতবস্ত্র প্রদান করেননি বলে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে তাদের সমস্যার অন্ত নেই। এর মধ্যে এখানকার সবকটি ব্র্যাকের ঘরের চালা নষ্ট, সুপেয় পানি পানের জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল, সীমানা দেয়াল না থাকা এবং সড়কের বেহাল দশায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রকল্পের বাসিন্দারা।

আবাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা বিধবা শেফালী বেগম (৮০), রেবা বেগম (৬০), মায়া বেগম (৫৫), কালাম হাওলাদারসহ (৬৫) অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, এই শীতে মোরা মরছি না বাঁচছি, কেউ মোগো দ্যাহে না। মোরা কম্বল পাই না, বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিছুই পাই না। ভোডের সময় নেতারা আইয়া কইয়া গেছিল তোমাগোরে সব দিমু; কিন্তু ভোডের পর আর কেউ আইয়া খবর নেয় না।

সরেজমিনে দেখা যায়, এখানকার সবকটি ব্র্যাকের ঘরের চালা নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে উপর দিয়ে পানি পড়ে, বাথরুমগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বহু আগেই।

স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর এসব মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। এরপরেও নিরুপায় হয়ে এখানে বসবাস করছেন ১০০টি দুস্থ পরিবারের বিভিন্ন বয়সের প্রায় ছয় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। এখানে সুপেয় পানি পানের জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল নেই। আবাসন প্রকল্পে বিদেশি অর্থে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলেও মুসল্লিদের ওজু করার জন্য কোনো টিউবওয়েল নেই। তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকে দূরবর্তী নদীর পানিতে ওজু করতে হচ্ছে।

এ আবাসন কেন্দ্রে দীর্ঘ একযুগেও কোনো কবরস্থান বা শ্মশান নির্মাণ করা হয়নি। এ কারণে কোনো লোক মারা গেলে তাদের বাধ্য হয়ে দূরবর্তী কোনো কবরস্থান বা শ্মশানে লাশ দাফন বা সত্কার করতে হচ্ছে। এখানে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া শেখার জন্য কোনো স্কুল নেই। শিক্ষাগ্রহণ করতে হলে এখানকার শিশুদের দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এ কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধিকাংশ শিশু।

এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য আবাসন প্রকল্পের চারদিকে এখনো নির্মিত হয়নি সীমানা দেয়াল। আবাসন প্রকল্পের পুকুরের দুই প্রান্তে ঘাটলা থাকলেও অন্য দুই পাশে ঘাটলা না থাকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। টরকীর চর থেকে আবাসন কেন্দ্রে প্রবেশের প্রধান সড়কটিরও বেহাল। দীর্ঘদিনে এটি মেরামত না করার কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বড় কসবা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা তার সমস্যা লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বড় কসবা আবাসন প্রকল্পের সভাপতি মো. আবুল কাশেম (৪৫) বলেন, সিডোরের সময় আপনারা মোগো কথা পেপারে লেখছিলেন। ওই সময় সেনাবাহিনীরা আইয়া মোগো অনেক সাহায্য দিছিল। হের পরে মোগো খবর কেউ নেয় না। এখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন বিধবা ও বয়স্ক নারী থাকলেও তারা বয়স্কভাতা বা বিধবা ভাতা পান না। কমিশনার, মেয়রের কাছে গিয়া মোগো সমস্যার কথা কই; কিন্তু হেরা কিছুই করে না।

এ ব্যাপারে গৌরনদী পৌরসভার কাউন্সিলর মো. খাইরুল আহসান বলেন, বড় কসবা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের আমরা সাধ্যমত সাহায্য প্রদান করছি। এখানে সমস্যা আছে বলে আমরা জানি। অচিরেই তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সম্পাদনা: জেইউ/আরবি/এনএম

মন্তব্য