আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ভবনহীন ৯৮ ডাকঘরের কার্যক্রম বাড়ি-দোকানে

গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ১২৬টি ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ডাকঘর একটি, উপজেলা ডাকঘর ছয়টি, সাব-ডাকঘর পাঁচটি এবং শাখা ডাকঘর রয়েছে ১১৪টি। তবে শাখা ডাকঘরগুলোর মধ্যে মাত্র ১৬টির নিজস্ব ভবন রয়েছে। অবশিষ্ট ৯৮টি ডাকঘরের কার্যক্রম মুদি-কসমেটিক্সের দোকান, বাড়ির বারান্দায়, ভাড়া করা কক্ষে ও চায়ের দোকানে চালানো হচ্ছে। ডাকঘরের কার্যক্রম চালু রাখতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে। এমতাবস্থায়, ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নসহ শাখা পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও ডাক রানারদের চাকরি জাতীয়করণ, ডাক ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ সকল ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অবিভাগীয় ডাক-কর্মচারী পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র মোদক।

জেলা সংবাদদাতা শাহাদৎ হোসেন মিশুক জানিয়েছেন, গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে ৭৮টি শাখা ডাকঘরে তিনটি করে ল্যাপটপ, উন্নতমানের প্রিন্টার, স্ক্যানার, ছবি ওঠানোর ওয়েবক্যাম, মডেমসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হয়েছে। শাখা ডাকঘরের তিনটি পোস্টের জন্য তিনজন ব্যক্তি কর্মরত থাকেন। আবার অনেক স্থানে দুজন করে রয়েছেন। শাখা পোস্টমাস্টার ডাকঘরের সকল কাজ সম্পন্ন করেন। শাখা পোস্টম্যানের কাজ প্রধান ডাকঘর থেকে আসা ডাকগুলো বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসা ও শাখা ডাক রানারের কাজ সরকারি রানারের কাছ থেকে ডাক সংগ্রহ করে ডাকঘরে নিয়ে আসা। এসব ডাকঘরে চিঠিপত্র বা ডাক পৌঁছানোর জন্য কোনো যানবাহনও নেই। প্রধান ডাকঘর থেকে ১৭ জন রানারের মাধ্যমে ওইসব শাখা ডাকঘরে চিঠি পৌঁছানো হচ্ছে।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বালাআটা শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুল করিম বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকায় আমার টিনশেড বসতবাড়ির বারান্দায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে আমি আমার পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের তালুকজামিরা বাজার শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুর রহমান বলেন, ডাকঘরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বাজারের একটি ভাড়া দোকানে। ভাড়া ওই পোস্টের দায়িত্বে থাকা সকলের মাসিক বেতন থেকে ১০০ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়। ডাকঘরের কার্যক্রম চালু রাখতে এই ব্যবস্থা আমরা নিজ উদ্যোগে করেছি।

সাদুল্যাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বকসিগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আব্দুর রউফও নিজের বেতনের টাকা থেকে ভাড়া করা একটি ছোট দোকানে ডাকঘরের কার্যক্রম চলাচ্ছেন। তিনটি করে ল্যাপটপ, উন্নতমানের প্রিন্টার, স্ক্যানার, ছবি ওঠানোর ওয়েবক্যাম, মডেমসহ বিভিন্ন উপকরণ অনিরাপদভাবে ভাড়া দোকানে রাখায় চুরি হওয়ার ভয়ও রয়েছে।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ল্যাংগাবাজার শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, বাজারের ছোট একটি কসমেটিক্সের দোকানে ডাকের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দোকানটি ছোট হওয়ায় একসঙ্গে দুই কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার আমাদের শাখা ডাকঘরগুলোকে ডিজিটাল করার জন্য অনেকগুলোতে তিনটি করে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ওয়েবক্যাম, মডেমসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়েছে। ওইসব উপকরণগুলো দিয়ে নিজস্ব ভবনে ডাকঘরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব। কিন্তু অন্যের দোকানে বসায় এসব উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ অবিভাগীয় ডাক-কর্মচারী পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র মোদক বলেন, শাখা ডাকঘরগুলো থেকে রাজস্ব আয় হয় সরকারের। কিন্তু নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই। এছাড়া, ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নসহ শাখা পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও ডাক রানারদের চাকরি জাতীয়করণ, ডাক ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ সকল ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান তিনি।

পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখার উপদেষ্টা গোলাম রব্বানী জানান, ডাক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে ডাক বিভাগ ও কর্মচারীদের উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা উপ-বিভাগ পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কেউ জমি দান করলে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে। যারা জমি দান করেছেন এমন স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

সম্পাদনা: এসএইচমি/আরএ/এমএন

মন্তব্য