আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
বর্ণাঢ্য আয়োজনে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮ শুরু

‘স্বপ্নীল আবাসন, সবুজ দেশ লাল সবুজের বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে ‌‌রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৮। চট্টগ্রামের সবচেয়ে অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ-তে বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এ মিলনমেলা চলবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চার দিনব্যাপী এই ফেয়ার উদ্ধোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম।

রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত এবারের ফেয়ারে ৮৩টি স্টল নিয়ে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রকল্প প্রদর্শন করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ পাবেন ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। আগত দর্শকদের জন্য লটারির মাধ্যমে প্রতিদিন থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। এবার ফেয়ারে রয়েছে দুই ধরনের টিকিট। একটি সিঙ্গেল অপরটি মাল্টিপল। সিঙ্গেল প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল টিকিট দিয়ে মেলার সময় দর্শনার্থীরা চারবার প্রবেশ করতে পারবেন।

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রিহ্যাব ফেয়ার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মনের মত ফ্ল্যাট বা প্লট খুঁজে নিতে ক্রেতাদের সাহায্য করবে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮ তে ৮৩টি স্টল থাকছে। এই ফেয়ারে আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস সহ কয়েক লিংকেজ প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছি। এই ফেয়ারে কো-স্পন্সর হিসাবে অংশগ্রহণ করছে ২১টি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ স্টল ২১ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ১০টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৭টি। সব মিলিয়ে অংশ নিচ্ছে ৫৯টি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউ এ শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান। ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় মেলার সমাপনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান এর আয়োজন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণে রয়েছেন জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী আঁখি আলমগীর।

কোস্পন্সর প্রতিষ্ঠান সমূহ নিম্নরূপঃ
১. এয়ারবেল ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড
২. আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড
৩. এএনজেড প্রপার্টিজ লিঃ
৪. বার্জার পেইন্টস লিমিটেড
৫. বিক্রয়.কম
৬. বিল্ডিং টেকনোলজি এ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেড।
৭. কনকর্ড রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
৮. সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (সিপিডিএল)
৯. এলিট পেইন্ট
১০. এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড
১১. ইক্যুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট প্রাঃ লিমিটেড
১২. ফিনলে প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৩. হাতিল কমপ্লেক্স লিঃ
১৪. জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেড
১৫. মাওলানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড
১৬. নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড
১৭. র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৮. সানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৯. আবুল খায়ের সিরামিক ইন্ডাজট্রিজ লিঃ
২০. ইউনিক এসেট্স লিমিটেড
২১. ইউএস বাংলা এসেটস লিঃ

এছাড়া, এন্ট্রি টিকিট ও টিকিট কাউন্টারের স্পন্সর হয়েছে জিপিএইচ ইসপাত লিঃ, গেট ও ইনফরমেশন বুথ এর স্পন্সর হয়েছে আরামিট গ্রুপ, শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার স্পন্সর হয়েছে কেএসআরএম মেলার উদ্বোধনী অধিবেশনের স্পন্সর হয়েছে রয়েল সিমেন্ট লিঃ এবং ফেয়ারের চার দিনের র‌্যাফেল ড্র এর স্পন্সর হয়েছে হোটেল দি কক্স টুডে।

ফেয়ার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনাব আবদুচ ছালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট জনাব আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)।

অধিবেশনের স্বাগত বক্তব্যে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী বলেন, ১৯৯২ সালে মাত্র ১১ জন সদস্য নিয়ে রিহ্যাবের যাত্রা শুরু হয়। আজ সেই সংগঠনে সদস্য ১০৫১টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কৈয়ূম চৌধুরী উল্লেখ করেন, রিহ্যাব সদস্যগণ দেশের বিদ্যমান গৃহায়ন নীতিমালাসমূহ মেনে মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্যতম বাসস্থান হিসেবে ফ্ল্যাট ও প্লট সরবরাহ করছে। কিন্তু এই আবাসন চাহিদা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকলের জন্য বাসস্থান নিশ্চিতকল্পে রিহ্যাব সদস্যগণ অঙ্গীকারবদ্ধ। কিন্তু এজন্য চাই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা। রেজিষ্ট্রেশন ব্যয় ৬ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, ৫% সুদে দীর্ঘমেয়াদী হাউজিং লোন এবং ২০ হাজার কোটি টাকার রিফ্যাইনানন্সিং তহবিল গঠন করা। এ সময় তিনি অবিলম্বে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বৃহদায়তন প্রকল্পের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে “ওয়ান উইন্ডো সেল প্রচলনের দাবী জানান।

অধিবেশনের সভাপতি রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলমিন বলেন, মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদার অন্যতম হল বাসস্থান। প্রতিটি মানুষের যথোপযুক্ত বাসস্থান পাওয়ার অধিকার জাতিসংঘের ঘোষণা থেকে প্রমাণিত। আমাদের সংবিধানও বাসস্থানকে মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নœবিত্ত সবারই নূন্যতম চাওয়া একটা সুন্দর ফ্ল্যাট তথা নিজস্ব ঠিকানা। নিজের একটা বাসস্থান মানুষের স্থিতিশীলতা, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিত্বকে অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে জমির তুলনায় জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে বাসস্থানের সংকট প্রকট। আমরা শুধু বাসস্থানের সমস্যা সমাধানই করছি না দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা পালন করছি।

প্রধান অতিথি আবদুচ ছালাম বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, রিহ্যাবের সাথে সিডিএ এর রয়েছে আত্মার সম্পর্ক ও নাড়ীর সম্পর্ক। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দেন এই মাসে না হলেও মার্চ মাসের মধ্যে রিহ্যাবের সকল দাবী ও সমস্যার সমাধান করবেন।

আবদুচ ছালাম বলেন, একটি ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু, রিহ্যাব সদস্যদের নকশা দ্রুত অনুমোদন করা এবং চট্টগ্রামের সকল ডেভেলপারকে আইনের আওতায় আনা এবং সিডিএ তে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা। যাতে কোন ডেভেলপার বেআইনি কাজ করে পার পেয়ে না যায়। এবং এই ব্যবসার সুনাম বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রিহ্যাব এর ডিরেক্টর ও রিহ্যাব ফেয়ার স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জনাব শাকিল কামাল চৌধুরী, রিহ্যাব ডিরেক্টর ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (১) জনাব মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং রিহ্যাব এর ডিরেক্টর ও চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির কো-চেয়ারম্যান (২) আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার দিদারুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির সদস্য হাজী দেলোয়ার হোসেন, জনাব মিজানুর রহমান, জনাব মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন,  জনাব এ এস এম আবদুল গাফফার মিয়াজী, জনাব মোহাম্মদ জাফর, জনাব ঋষিকেশ চৌধুরী ও ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য জনাব মোহাম্মদ রেজাউল করিম, জনাব মহিউদ্দিন খসরু, জনাব আবদুল মতিন চৌধুরী, জনাব মাহবুব সোবহান জালাল, জনাব মোহাম্মদ শফিক ও ইঞ্জনিয়ার শেখ নিজামুদ্দিন ও রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিয়নের সদস্যবৃন্দ।

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত সময়ে চট্টগ্রামে ১০টি ফেয়ার সফল ভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার শুরু হয়। সেখানেও ১৭টি হাউজিং ফেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। এছাড়া, রিহ্যাব ২০০৪ সাল থেকে বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি, যুক্তরাজ্যে, দুবাই, ইতালীর রোম, কানাডা, সিডনী এবং কাতারে ১টি করে “রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার” সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/জেডএইচ

মন্তব্য