আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ারে ছাড়ের ছড়াছড়ি

স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে প্লট ও ফ্ল্যাটের পসরা নিয়ে বসেছে ‘রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার-২০১৮’। চট্টগ্রামবাসীর আবাসন সমস্যার সমাধান ও সহজেই প্লট-ফ্ল্যাটের মালিকানা তুলে দিতে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ-তে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই মিলনমেলা চলবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মেলা উপলক্ষে ফ্ল্যাট কেনা এবং প্লট বুকিংয়ে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার ও বিশেষ ছাড়ের অফার দিচ্ছে অংশ নেওয়া আবাসন কোম্পানি ও বিভিন্ন হাউজিং প্রতিষ্ঠানগুলো। মেলায় বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠান ২০০ প্রকল্প নিয়ে এসেছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ছুটির দিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্টলে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মীরা নিজেদের প্রকল্প (ফ্ল্যাট) সম্পর্কে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (সিডিএ) আবদুচ ছালাম ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রেডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলে চার দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেন। ‘স্বপ্নিল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’- এ স্লোগানে আবাসন মালিকদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত এবার মেলায় ৪২টি আবাসন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাতটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ১০টি নির্মাণ উপকরণ প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। সব মিলিয়ে মেলায় মোট ৫৯টি প্রতিষ্ঠান ৮৩টি স্টল নিয়ে অংশ নিয়েছে।

একনজরে দেখে নেওয়া যাক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফারগুলো-

বিটিআই: মেলায় ঢোকার মুখে আবাসন প্রতিষ্ঠান বিটিআইয়ের স্টল। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা জানান, মেলায় তাঁরা ১০টি প্রকল্প তুলে ধরছেন। খুলশী, হিলভিউ হাউজিং সোসাইটি, পাঁচলাইশ, নাসিরাবাদ, রহমতগঞ্জ, ওআর নিজাম রোড ও হালিশহরে এসব প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পের ফ্ল্যাটের আয়তন ৭৫০ বর্গফুট থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৬৫৩ বর্গফুট।

বিটিআইয়ের হেড অব অপারেশন মো. মাহমুদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ক্রেতাদের প্রথম চাওয়া থাকে সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং গুণগত মান। দুটো ক্ষেত্রেই শতভাগ নিশ্চিত থাকতে পারবে ক্রেতারা। তাদের কোনো প্রকল্প একদিনও দেরি হওয়ার নজির নেই বলে দাবি করেন তিনি।

জুমাইরাহ হোল্ডিংস লিমিটেড:  বিটিআইয়ের পাশের স্টলটি জুমাইরাহ হোল্ডিংস লিমিটেডের। নতুন কোম্পানিগুলোর মধ্যে জুমাইরাহ ভালো করছে এমন প্রচারণা আছে আবাসন খাতে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা জানান, তাঁরা ১৭টি প্রকল্প গ্রাহকদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। মেলা উপলক্ষে দুই শতাধিক অ্যাপার্টমেন্টের ১০টি প্রকল্প নিয়ে এসেছেন তাঁরা। এসব প্রকল্প ২০১৯-২০ সালে গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে তাঁদের প্রচারপত্রে। চকবাজারের জয়নগরে তাঁদের প্রকল্পের ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ৫ হাজার টাকা। আবার খুলশীতে বর্গফুটপ্রতি ১৫ হাজার টাকা।

জুমাইরাহ হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম সরওয়ার কামাল বলেন, গুণগত মানের ক্ষেত্রে কখনোই আপস করেন না তাঁরা। মেলা উপলক্ষে শুধু এককালীন পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় রয়েছে।

এএনজেড প্রপার্টিজ : আবাসন প্রতিষ্ঠান এএনজেড প্রপার্টিজ চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার প্রকল্পগুলোও তুলে ধরছে। নগরের হিলভিউ ও নাসিরাবাদে তাঁদের দুটি প্রকল্পের ফ্ল্যাট এখনই হস্তান্তরের উপযোগী বলে কর্মীরা জানান। এছাড়া, পাঁচলাইশ, লালখানবাজার এবং আগ্রাবাদে তাঁদের আবাসন প্রকল্প রয়েছে।

এএনজেড প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, মেলা উপলক্ষে পূর্ব নাসিরাবাদের একটি প্রকল্পে অ্যাপার্টমেন্ট কেনায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে। মেলায় ক্রেতারা বুকিং দিলে বর্গফুটপ্রতি ৫০০ টাকা ছাড় পবে। নাসিরাবাদের প্রকল্পে ১ হাজার ৪৭৮ থেকে ১ হাজার ৯০১ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।

নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড : নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড পাঁচটি প্রকল্প নিয়ে এসেছে মেলায়। উত্তর খুলশী, দক্ষিণ খুলশী, মেহেদীবাগ ও নাসিরাবাদে এসব প্রকল্পে বর্গফুটপ্রতি সাড়ে ৬ থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮০০ টাকায় ফ্ল্যাট পাওয়া যাচ্ছে।

নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের চট্টগ্রামের হেড অব সেলস মো. নাজিউল ইসলাম বলেন, ফ্ল্যাটের গুণগত মানে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন না তাঁরা। এই বৈশিষ্ট্ই তাঁর প্রতিষ্ঠানকে অন্যদের চেয়ে পৃথক করেছে বলে দাবি করেন তিনি। মেলায় ও মেলা-পরবর্তী এক মাসের মধ্যে কেউ নাভানার অ্যাপার্টমেন্ট বুকিং দিলে ওই অ্যাপার্টমেন্টের কিচেন কেবিনেট (রসুইঘর) সাজিয়ে দেওয়া হবে।

এপিক প্রপার্টিজ: ২৫০টি রেডি ফ্ল্যাট নিয়ে মেলায় এসেছে আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এপিক প্রপার্টিজ। মেলা উপলক্ষে ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়। যেকোনো এলাকার ফ্ল্যাটে ৫ শতাংশ মূল্য ছাড় দিচ্ছে ইক্যুটি প্রপার্টিজও। অন্যান্য কোম্পানিও দিচ্ছে স্থানভেদে বিশেষ ছাড়।

এপিক প্রপার্টিজের হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং খুরশীদ আলম জানান, তাঁরা প্রায় ২৫০টি রেডি ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস নিয়ে মেলায় এসেছেন। তাঁর আশা মেলায় গতবারের চেয়ে ভালো সাড়া পাবেন।

ইক্যুটি: ইক্যুটি প্রতি বর্গফুটে ৫ শতাংশ ছাড় দিচ্ছে বলে জানান সেলস এক্সিকিউটিভ শ্যামল রায়। তিনি বলেন, তাদের রেডি ফ্ল্যাটের সংখ্যা কম। এছাড়া, আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ ১০ চলমান প্রকল্পে বুকিং নেওয়া হচ্ছে।

এয়ারবেল: এয়ারবেল নামের একটি কোম্পানি কাতালগঞ্জে প্রতি বর্গফুটে ৫০০ টাকা, জামালখানে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে।

পূর্বাচল আমেরিকান সিটি : বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা গ্রুপের অন্যতম সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলা এসেটস। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আকর্ষণ পূর্বাচল আমেরিকান সিটি প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্লট ক্রয়ে এককালীন মূল্য পরিশোধে ২৫% ছাড় এবং বুকিং দিলে বিদেশ ভ্রমনসহ নানাবিধ সুবিধাধি নিয়ে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৮ তে অংশ নিয়েছে ইউএস-বাংলা এসেটস।

ইউএস-বাংলা এসেটস এর পক্ষে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লিমিটেডের জিএম-মার্কেটিং সাপোর্ট এন্ড পিআর মোঃ কামরুল ইসলাম বলেছেন, পূর্বাচল আমেরিকান সিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্ব। এই সিটি প্রকল্পে রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার চলাকালীন এককালীন মূল্য পরিশোধে ২৫% ছাড় এবং সাথে সাথেই রেজিস্ট্রেশন ও হস্তান্তর এর সুযোগ থাকছে। বর্তমানে পূর্বাচল আমেরিকান সিটির বিভিন্ন ব্লকে মেলা উপলক্ষে কাঠাপ্রতি মাসিক কিস্তি সর্বনি¤œ সাত হাজার ৪১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে বাউন্ডারি ওয়াল সহ আবাসিক/ কমার্শিয়াল/ হাসপাতাল/ ইন্সটিটিউশন/শপিং কমপ্লেক্স/কনভেনশন সেন্টার/ ব্যাংক/ কর্পোরেট অফিসের জন্য রেডি প্লট এককালীন মূল্য/ কিস্তিতে বিক্রয় চলছে। আকর্ষণ হিসেবে থাকছে প্লট বুকিং দিয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, ব্যাংককে রিটার্ন টিকেটসহ দুই রাত তিন দিন থাকার সুবর্ণ সুযোগ।

মেলায় অংশ নিয়েছে ঋণ প্রদানকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানও। এগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন সর্বোচ্চ ২০ বছর মেয়াদি সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে। অন্যান্য কোম্পানির সুদহারও বেশ কম। মেলায় আসা তরুণ নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী জাহিদ আবছার চৌধুরী বলেন, সাধ্যের মধ্যে সকলে যেন আবাসন নিশ্চিত করতে পারে সেজন্য ঋণ সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।

সম্পাদনা: আরএ/এমএন/জেডএইচ

মন্তব্য