আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
শেষ রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার: ৩৬৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট-প্লট বুকিং

হাজারো ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় শেষ হলো রিহ্যাব চট্টগ্রাম ফেয়ার ২০১৮। ‘স্বপ্নীল আবাসন সবুজ দেশ, লাল সবুজের বাংলাদেশ’ এ স্লোগানে গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রামের  অভিজাত পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে এ মেলা শুরু হয়ে চলে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত। রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই মিলন মেলায় প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন। এছাড়া, এই চার দিনে মেলায় ৩৬৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং হয়েছে বলে রিহ্যাব জানিয়েছে।

নগরীর রেডিসন ব্লুতে চার দিনের রিহ্যাব ফেয়ারের শেষ দিন রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রিহ্যাব চট্টগ্রাম রিজিওনাল কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী এ তথ্য জানান।

রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, মেলার প্রথম দিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে ক্রেতা-দর্শনার্থী কম থাকলেও চার দিনে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন। তাঁরা নিজেদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছে।

এবারের মেলায় ৫০০ কোটি টাকা বিক্রিয় লক্ষ ছিল জানিয়ে আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, চার দিনব্যাপী এই মিলন মেলায় ৩৬৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট ও প্লট বুকিং হয়েছে। মেলায় যেসব সুবিধা ছিল তা আগামী ৭ দিন বলবত থাকবে। ফলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে বলে আশা করছি।

দেশের বাইরে টাকা পাচার রোধে অপ্রদর্শীত আয় দেশের আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবদুল কৈয়ূম চৌধুরী। অপ্রদর্শিত আয় আবাসন খাতে ব্যবহারের সুযোগ দিলে এ খাত অনেক এগিয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সুযোগ না থাকায় সেকেন্ড হোম বলে একটি কথা প্রচলিত হয়েছে। অর্থাত মানুষ দেশের বাইরে টাকা পাচার করছে।

এদিকে, মেলার শেষ দিন রোববার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গন। এদিন লোক সমাগমের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ফ্ল্যাটও বিক্রি হয়েছে অন্য তিন দিনের চেয়ে বেশি। এতে খুশি মেলা আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

প্র‌তিবারের মতো এবার মেলায় আগত দর্শনার্থীদের চা‌হিদা বেশি ছিলো ছোট প্ল‌ট ও ফ্ল্যাটে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য হরেক রকম অফার ‌দিয়ে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে চেষ্টা  করেছেন আবাসন শিল্পে সং‌শ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। আবাসন মেলায় শুধু প্লট বা ফ্ল্যাটই নয়, বা‌ড়ি তৈ‌রিতে ঋণ সুবিধা ও বাড়ি তৈ‌রির অবকাঠামোগত নানা তথ্যসেবা দেওয়া হয় স্টলগুলো থেকে। পছন্দের প্লট ক্রয় বা ফ্ল্যাট নির্মাণের বু‌কিং দেওয়ার সুযোগ ছিলো মেলাতেই। আর মেলাতে বু‌কিং দিলেই মেলে অর্থছাড়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় এবার ৮৩টি স্টল ছিলো। এই ফেয়ারে আমরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস সহ কয়েক লিংকেজ প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছি। এই ফেয়ারে কো-স্পন্সর হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলো ২১টি প্রতিষ্ঠান, সাধারণ স্টল ২১ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ১০টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৭টি। সব মিলিয়ে অংশ নেয় ৫৯টি প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চার দিনব্যাপী এই ফেয়ার উদ্ধোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনাব আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম।

কোস্পন্সর প্রতিষ্ঠান সমূহ নিম্নরূপঃ
১. এয়ারবেল ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড
২. আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন লিমিটেড
৩. এএনজেড প্রপার্টিজ লিঃ
৪. বার্জার পেইন্টস লিমিটেড
৫. বিক্রয়.কম
৬. বিল্ডিং টেকনোলজি এ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেড।
৭. কনকর্ড রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড
৮. সিএ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (সিপিডিএল)
৯. এলিট পেইন্ট
১০. এপিক প্রপার্টিজ লিমিটেড
১১. ইক্যুইটি প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট প্রাঃ লিমিটেড
১২. ফিনলে প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৩. হাতিল কমপ্লেক্স লিঃ
১৪. জুমাইরা হোল্ডিংস লিমিটেড
১৫. মাওলানা ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড
১৬. নাভানা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড
১৭. র‌্যাংকস এফসি প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৮. সানমার প্রপার্টিজ লিমিটেড
১৯. আবুল খায়ের সিরামিক ইন্ডাজট্রিজ লিঃ
২০. ইউনিক এসেট্স লিমিটেড
২১. ইউএস বাংলা এসেটস লিঃ

এছাড়া, এন্ট্রি টিকিট ও টিকিট কাউন্টারের স্পন্সর ছিলো জিপিএইচ ইসপাত লিঃ, গেট ও ইনফরমেশন বুথ এর স্পন্সর আরামিট গ্রুপ, শিশু চিত্রাংকন প্রতিযোগীতার স্পন্সর  কেএসআরএম মেলার উদ্বোধনী অধিবেশনের স্পন্সর রয়েল সিমেন্ট লিঃ এবং ফেয়ারের চার দিনের র‌্যাফেল ড্র এর স্পন্সর হয়েছিলো হোটেল দি কক্স টুডে।

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কো-চেয়ারম্যান (১) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, কো-চেয়ারম্যান (২) ইঞ্জিনিয়ার দিদারুল হক চৌধুরী, প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক এএসএম আবদুল গাফফার মিয়াজী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, মো.কামাল উদ্দিন, মো.জাফর, হৃষিকেশ চৌধুরী, মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য মো.রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন খসরু, মাহবুব সোবহান জালাল, আবদুল মতিন চৌধুরী, মো.শফিক, ইঞ্জিনিয়ার শেখ নিজামুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত সময়ে চট্টগ্রামে ১০টি ফেয়ার সফল ভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার শুরু হয়। সেখানেও ১৭টি হাউজিং ফেয়ার সফলভাবে সম্পন্ন করেছে রিহ্যাব। এছাড়া, রিহ্যাব ২০০৪ সাল থেকে বিদেশে হাউজিং ফেয়ার আয়োজন করে আসছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি, যুক্তরাজ্যে, দুবাই, ইতালীর রোম, কানাডা, সিডনী এবং কাতারে ১টি করে “রিহ্যাব হাউজিং ফেয়ার” সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সম্পাদনা: আরএ/আরবি/এনএম

মন্তব্য