আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
ইমারত ব্যবহারে অনিয়ম

ঢাকা মহানগরে ইমারত নির্মাণ ও ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান আছে, কিন্তু সেসব বিধিবিধান যথাযথভাবে মেনে চলা হয় না। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেদিকে দৃষ্টি নেই। শনিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সে কথাই বলছে।

 ২০০৮ সালে ঢাকা মহানগর ইমারত (নির্মাণ, উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও অপসারণ) বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ইমারতের নির্মাণকাজ আংশিক বা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পরে সেটির ব্যবহার বা সেখানে বসবাস শুরু করার আগে রাজউকের কাছ থেকে একটি সনদ নিতে হবে, যেটিকে বলা হয় ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’। এটি একটি অনুমোদনপত্র, কোনো ইমারতের মালিক বা ব্যবহারকারীকে এই সনদ দেওয়ার অর্থ ইমারতটি নিরাপদে বসবাসের যোগ্য। এই সনদ নেওয়ার আগে ওই ইমারতের ব্যবহার শুরু করা একটি অবৈধ কাজ। রাজধানীর অধিকাংশ ইমারত ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই অবৈধ কাজই করা হচ্ছে।

২০০৮ সালে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা গৃহীত হওয়ার পর থেকে গত প্রায় ১০ বছরে রাজধানীতে প্রায় ৪০ হাজার ইমারত নির্মিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১৬২টি ইমারত ব্যবহারের সনদ নেওয়া হয়েছে। এটা শতকরা হিসাবে দশমিক ০০৪। এর মানে, ইমারত ব্যবহার সনদ গ্রহণের বিধান বাস্তবায়নে রাজউক প্রায়-পরিপূর্ণ ব্যর্থতা দেখিয়ে আসছে।

রাজউকের এই ব্যর্থতার ফলে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তার নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। কোনো ইমারতের মালিক বা নির্মাণকারী ব্যবহার সনদ না নিলে রাজউক জানতে পারে না, সেই ইমারত রাজউকের অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে কি না। অনুমোদিত নকশার পরিবর্তন ঘটালে এবং তার ফলে ইমারতটি ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলে রাজউক তা–ও জানতে পারে না। তা ছাড়া, পাঁচ বছর পরপর ব্যবহার সনদ নবায়ন করার বিধান আছে, নবায়নের সময় রাজউক সরেজমিনে দেখতে পারত এই সময়ের মধ্যে ইমারতটিতে কোনো ত্রুটি দেখা দিয়েছে কি না, তা বসবাসের জন্য নিরাপদ আছে কি না। কিন্তু মূল সনদই নেওয়া হয় না বলে তা নবায়নের প্রশ্ন থাকে না, ফলে রাজউক সেই ইমারতের বসবাসযোগ্যতা নিরূপণের সুযোগও পায় না। এভাবে অনেক ভবনে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না। ইমারত ব্যবহার সনদ গ্রহণের বিধান বাস্তবায়নে রাজউককে সচেষ্ট হতে হবে। তাদের এই প্রয়াসে রাজধানীর সেবা সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করতে হবে। ব্যবহার সনদ ছাড়া কোনো ইমারত যেন পানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংযোগ না পায়, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য