আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
মতিঝিলে ৩০তলা বঙ্গবন্ধু চা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

রাজধানীর মতিঝিলে ৩০তলা বিশিষ্ট ‘বঙ্গবন্ধু চা ভবন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ চা প্রদর্শনী ২০১৮’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মতিঝিলে চা বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় নতুন এই ভবন নির্মাণে ২৩০ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

ফলক উন্মোচন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫৭/৫৮ সালে বঙ্গবন্ধু চা বোর্ডের প্রথম বাঙ্গালী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি মতিঝিলে চা বোর্ডের নামে জমি বরাদ্দ দিয়ে দ্বি-তল বিশিষ্ট চা ভবন নির্মাণ করেন। সে জায়গাতেই এখন ৩০তলা বিশিষ্ট চা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু শিল্পমন্ত্রী হিসেবে চাকে শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেন, চা বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, চা বাগানে কর্মরত গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অন্যান্য নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য বাংলাদেশ চা বোর্ডকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে চা বাগান ও কারখানা গুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাগানের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের উপর নির্মম অত্যাচার করে। শ্রমিকদের বাড়িঘর ও চা কারখানা জ্বালিয়ে দেয়। অনেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। সে সময় অনেক চা বাগানের বিদেশী মালিকগণ এ দেশ ছেড়ে চলে যান। ফলে অনেকগুলো চা বাগানই পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এই অবস্থায় জাতির পিতা ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগানগুলো পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে চা উৎপাদনকারীদের ভর্তুকি প্রদানসহ স্বল্পমূল্যে সার সরবরাহের ব্যবস্থা করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত চা বাগানগুলো পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে জাতির পিতার উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (জাতির পিতা) ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া’ থেকে ৩০ লাখ রুপি ঋণ নিয়ে চা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করেন এবং সেগুলো চা বাগানগুলোকে প্রদান করে সহজ শর্তে মূল্য পরিশোধ করার সুযোগ দেন।

চা বাগানের শ্রমিকদের বঙ্গবন্ধু নাগরিকত্ব ও ভোটের অধিকার প্রদান করেন উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু চা বাগানের মালিকদেরকেও ১০০ বিঘা পর্যন্ত জমির মালিকানা সংরক্ষণের অনুমতি প্রদান করেন। জাতির পিতার যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে চা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার আর্দশ অনুসরণ করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে ২০০১ সালে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে পুনরায় চা শিল্পের উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা ‘চা আইন ২০১৬’ প্রণয়ন করেছি।

চা শিল্পের উন্নয়নে তাঁর সরকার ২০১৬ সালে ‘উন্নয়নের পথনকশা : বাংলাদেশ চা শিল্প’ শিরোনামে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে দেশে বর্তমানে চায়ের উৎপাদন প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে মধ্যম মেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২৫ সালে দেশে চায়ের মোট উৎপাদন দাঁড়াবে প্রায় ১৪ কোটি কেজি।

সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ চা বোর্ড (বিটিবি) যৌথভাবে বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে তিনব্যাপী এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। দেশ-বিদেশের চা প্রেমীদের কাছে চায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে এই প্রদর্শনীতে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বাণিজ্য সচিব শুভাশিষ বোস এবং চা-বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান আর্দাশিল কবির বক্তৃতা করেন।

বিটিবি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন। দেশের চা শিল্পের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে চায়ের নতুন জাত ‘বিডি ক্লোন-২১’ অবমুক্ত করেন এবং ৭টি ক্যাটাগরিতে চা উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সম্পাদনা: এফএইচ/আরবি/আরসি

মন্তব্য