আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
চাঙ্গা করতে আবাসন খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ

২০১০ সালের শেষ দিক থেকে দেশের হাউজিং খাতে মন্দা দেখা দেয়। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। সে কারণে এই খাতের সংশ্লিষ্ট রঙ, রড, ইট, বালি, সিমেন্ট, কাচ, সিরামিক, টাইলস, আসবাবপত্রসহ এ রকম আরও অনেক খাতেও মন্দা জেঁকে বসেছে। তাই এসব খাত চাঙ্গা করতেই সরকার আবাসন খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তার আওতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিতে উৎসাহিত করছে। সরকার বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের আওতায় ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এছাড়া, গৃহঋণদানকারী সংস্থাগুলোও এই খাতে কম সুদে ঋণের জোগান বাড়াবে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, দেশের হাউজিং খাত চাঙ্গা হলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বড় বড় শিল্প খাত চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এর মধ্যে আছে রঙ, রড, ইট, বালি, সিমেন্ট, কাচ, সিরামিক, টাইলস, আসবাবপত্রসহ এ রকম আরও অনেক খাত। এসব খাতেই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান জড়িত।

তাঁরা আরও জানায়, ২০১০ সালের শেষ দিকের পর থেকে শুরু হওয়া হাউজিং খাতে মন্দার কারণে এই খাতের সংশ্লিষ্ট অন্য শিল্পগুলোয়ও মন্দা জেঁকে বসেছে। এসব খাত চাঙ্গা করতেই সরকার এখন হাউজিং খাত চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিল। এই খাতকে চাঙ্গা করতে গ্রাহকপর্যায়ে ঋণ জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করে এই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য নীতিসহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দিয়েছে। আবাসন খাতে দেওয়া ঋণের বিপরীতে আগে নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হতো। এখন থেকে এই প্রভিশনের হার কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলো এই খাতে ঋণ দিলে তার বিপরীতে প্রভিশন করার ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ছাড় পাবে। ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল আটকে থাকার পরিমাণ কমবে।

আগে এই খাতের ঝুঁকির বিবেচনায় প্রভিশনের ২ শতাংশ করা হয়েছিল। অন্যান্য নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ১ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তাদের মোট ঋণের ১০ শতাংশ আবাসন খাতে বিতরণ করতে পারে; এর বেশি পারে না। কিন্তু ব্যাংকগুলোর এই খাতে ঋণ বিতরণের হার আরও কম। গত বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মোট ঋণের মধ্যে এই খাতে বিতরণ করা ঋণের হার ছিল ৭.৭৫ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে তা বেড়ে ১০.১১ শতাংশ হয়েছে। এই খাতে ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ৯ শতাংশ সুদেও ঋণ দিত। তবে এই ক্ষেত্রে নানা ধরনের ফি ও কমিশন আরোপিত ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে আমানতের সুদের হার বাড়ার কারণে ঋণের সুদের হারও বাড়তে শুরু করেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব আবাসন খাতেও পড়তে পারে। সে জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই খাতে ঋণের জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন আবাসন খাতে কম সুদে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় তারা আইডিবি থেকে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেয়।

সম্পাদনা: জেএফআ/পিকেএস/আরবি

মন্তব্য