আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
রাজউক কী জবাবদিহিতার উর্ধ্বে?

রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলের কথা নিশ্চিয়ই সবার মনে আছে। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নারী শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে নিপীড়ন করা হয় সেখানে। ওই ঘটনা জানাজানির পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশ্ন ওঠে হোটেল কতৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে। পরে জানা যায় হোটেলটি চালানোয় রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষের (রাজউক) কোনো অনুমোদন নেই। নানা বিতর্কের পর অনুমোদনহীন ওই হোটেল ভেঙে দেওয়ার কথাও বলে রাজউক। এরপর প্রায় এক বছর হতে চলল। রাজউকের কথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বনানীতে এখনো দাঁড়িয়ে আছে কলঙ্কিত রেইনট্রি।

গুলশান বনানীতে এত অবৈধ স্থাপনা, নকশা বহির্ভূত কত ভবনই ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে। ফাইভস্টার হোটেলও কী কম আছে? ভবনের নকশার সঙ্গে এসব হোটেলের বেশিরভাগেরই কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু এর কয়টি ভাঙা পড়েছে?

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল গুলশানের হোলি আর্টিসান বেকারি রেস্টুরেন্টে। ২০১৬ সালের পয়লা জুলাইয়ের ওই ঘটনার পরও নড়েচড়ে ওঠে প্রশাসন। আবাসিক এলাকায় হোটেল রেস্টুরেন্ট করা নিয়ে কথা ওঠে। রাজউক বলেছিল আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা সব ভেঙে দেওয়া হবে। হলি আর্টিজান ঘটনার পর তিন তিনবার রাজউক ঘোষণা দিয়েছে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু কোথায় কী? এখন পর্যন্ত কী একটি প্রতিষ্ঠানও সরেছে। গত দেড় বছরে গুলশান বনানীতে হোটেল, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বেড়েছে বই কমেনি।

শুধু গুলশান বানানীই নয় রাজধানীর ধানমন্ডি, উত্তরাসহ অনেক আবাসিক এলাকাতেই ব্যঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক ভবন। তার কয়টি রাজউক সরাতে পেরেছে বা ভেঙে দিয়েছে।

ধানমন্ডি থেকে স্কুলসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরাতে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পেরোতে চলল। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানও কি রাজউক সরাতে পেরেছে ধানমন্ডি থেকে।

অথচ গত মঙ্গলবার গুলশানে একটি বাড়ি ভেঙে দেয় রাজউক। নকশা বহির্ভূত হওয়ায় অভিযোগে বাড়িটি ভাঙা হয়। শতশত ভবন ও অবৈধ স্থপানা থাকতে একটিকেই কেন টার্গেট করা হলো। অনেকের মতে, তবে কী রাজউক একটি প্রতিষ্ঠান যারা শুধু যখন যাকে হয়রানি করা প্রয়োজন তার পিছনেই লাগবে?

অনেকে প্রশ্ন তোলেন, রাজধানীতে তো হাজার হাজার অবৈধ নকশার ভবন আছে, যদি আইন প্রয়োগের কথাই ওঠে তা শুধু নির্দিষ্ট করে দু-একজনের ওপর ব্যবহার কেন? সবার ওপরই কেন ব্যবহার হয় না। তাদের মতে, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর চেয়ে সৌন্দর্য নষ্ট করার দিকেই যেন রাজউকের নজর। একটি বিষয় যখন হয় তখন তাদের দেখা মেলে না। বিষয়টি সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো কারণবশত তাদের টনক নড়ে।

আর এত ব্যর্থতা, অব্যবস্থাপনা আর উদ্দেশ্য প্রণোদিত কর্মকাণ্ডের পরও রাজউক ও এর কর্মকর্তারা কীভাবে রয়ে যাচ্ছেন বহাল তবিয়্যতে? তবে কি রাজউক জবাবদিহিতার উর্ধ্বে?

মন্তব্য