আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
চূড়ান্ত হচ্ছে সংশোধিত ড্যাপ : জলাবদ্ধতা সমাধানে পাঁচ সুপারিশ

সংশোধিত ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) থাকছে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতার সমাধান। এতে জলাবদ্ধতা নিরসনে মোটা দাগে পাঁচটি সুপারিশ রাখছে রাজউক। সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতার টেকসই সমাধান মিলবে।

সুপারিশগুলো হল- সিএস রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার খাল ও নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং পুনঃখনন, প্রবাহমান মিসিং লিংক পুনরুদ্ধার, জলাধারগুলো সংরক্ষণ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

এছাড়া প্রয়োজনে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করে জলাধার সৃষ্টি করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য উন্মুক্ত স্থান ও বাড়ির ছাদে বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়ন সৃষ্টির সুপারিশ থাকছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, রাজউক বিদ্যমান ড্যাপের অনেক ভুলত্রুটির কারণে বিতর্কিত হয়েছে। সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হয়েছে। তাই পুরাতন ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশোধিত ড্যাপকে বাস্তবসম্মত করতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতার সমাধানে পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে।

চলতি বছরের জুনে খসড়া ড্যাপ প্রণয়নের কাজ শেষ হচ্ছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত ড্যাপের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশোধিত ড্যাপে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রাখা হচ্ছে। সেসব প্রস্তাবনা বা সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে জলাবদ্ধতাসহ পানি নিষ্কাশনের সার্বিক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঢাকা শহরে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। ড্রেনেজ, খাল, নদী প্রবহমান রাখার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নে বাড়ির ছাদে, উন্মুক্ত জায়গায় সবুজায়ন করতে হবে। নইলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লে শহরের বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে যথাসময়ে পানি নিষ্কাশন করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে।

এ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম ইনামুল হক বলেন, সংশোধিত ড্যাপে রাজউক খাল উদ্ধার, নদী-খাল বহমান রাখা, জলাধার রক্ষা করতে জমি অধিগ্রহণসহ যেসব সুপারিশ রাখছে এটা ইতিবাচক। বিদ্যমান ড্যাপে বিভিন্ন কারণে অনেক ভুল ছিল, সে কারণে ঢাকা শহরের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশোধিত ড্যাপে সিইজিআইএস, আইডব্লিউএম ওয়াটার মডেলিং করে ড্রেনেজ, খাল ও নদীর মধ্যে যে সংযোগ রাখার কথা বলছে সেটাও ভাল প্রস্তাব। তাছাড়া রাজউকের সংশোধিত ড্যাপে পানি নিষ্কাশন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে।

রাজউক যদি পরিকল্পনাটি সঠিকভাবে করতে পারে তাহলে সরকার সেটা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সঙ্গে নিয়ে সিটি কর্পোরেশন বা ঢাকা ওয়াসাকে দিয়ে এ কাজগুলো করালে ইতিবাচক ফল আসবে।

ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের (আইডব্লিউএম) পরিচালক মো. সোহেল মাসুদ বলেন, সংশোধিত ড্যাপের পানি নিষ্কাশন ইস্যু কী হবে, সে বিষয়ে আমরা কিছু কাজ করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাজ ছিল ঢাকার পূর্বাঞ্চলের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে পরামর্শ দেয়া।

আমরা ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বালু নদী, খাল ও জলাধারগুলো পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ওসব এলাকায় কী কী করা যায় সে সব ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, লিখিত প্রতিবেদনে আমরা বলেছি, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের নদী ও খালগুলোকে প্রবহমান রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় জলাধার রাখতে দরকার হলে বেসরকারি জমি অধিগ্রহণ করে হলেও সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আর ঢাকার মূল শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিইজিআইএস) মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান বলেন, আমরা ঢাকার পশ্চিমাংশের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কেমন হওয়া উচিত সে ব্যাপারে স্টাডি করেছি।

স্টাডি প্রতিবেদনও রাজউকে জমা দিয়েছি। আমরা সুপারিশে মোটা দাগে বলেছি- ড্রেনেজ, খাল ও নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। খালগুলোকে দখলমুক্ত করে পুনঃখনন করতে হবে। নদীগুলোকেও বহমান রাখতে হবে এবং জলাধারগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করে হলেও জলাধার সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ সুপারিশের আলোকে সংশোধিত ড্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকার যদি সেগুলো বাস্তবায়ন করে তাহলে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যাবে।

প্রসঙ্গত, ঢাকার জন্য প্রথম মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হয় ১৯৫৯ সালে। এ মাস্টার প্ল্যানের মেয়াদ শেষের পর ১৯৯৫ সালে নতুন আঙ্গিকে ঢাকা শহরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। যেটা স্ট্রাকচার প্ল্যান নামে পরিচিত।

১৯৯৬ সালে অনুমোদিত এই পরিকল্পনার মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এই পরিকল্পনার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে ২০১০ সালে ঢাকা শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ড্যাপ তৈরি করা হয়।

২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদের স্ট্রাকচার প্ল্যানের মেয়াদ সমাপ্তির পর নতুন স্ট্রাকচার প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৬-২০৩৫ সাল পর্যন্ত। এদিকে ২০১৫ সালে ড্যাপের মেয়াদ শেষের পর নতুন ড্যাপ প্রণয়নের কাজ শুরু করে রাজউক। নতুন ড্যাপের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৬-২০৩৫ সাল পর্যন্ত। যুগান্তর

মন্তব্য