আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
বিলম্বে হলেও স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ঢাকার ৯০০ পরিবারের

ঢাকায় বসবাসরত অনেকের মত, মৌদুদা ইয়াসিমিনের স্বপ্ন ছিল- তার পরিবারের জন্য নিজস্ব একটি বাড়ি। তিনি এবং তার স্বামী, একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করে  এই স্বপ্ন পূরণে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

গৃহবধূ কেবল তার স্বামীর স্বল্প বেতন থেকে অর্থ সঞ্চয় করেননি, তার দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও ছাত্রদের শিক্ষাদান করেছেন।প্রায়  দুই দশক চেষ্টার পর অবশেষে তাদের ভাগ্য প্রসুন্ন হয়।

২০১০ সালে মোহাম্মদপুর এলাকায় ১০০০ বর্গ ফুটের একটি ফ্ল্যাট – জাতীয় হাউজিং অথরিটির (এনএইচএ) অধীনে একটি লটারি জিতেন মওদুদ।

এনএইচএ ১৯৯৭ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করে। এনএইচ.এর কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের মানুষকে নিম্ন হারে প্লট দিয়ে ১ লাখ টাকায় (প্রতি কাঠের প্লট বা ১.৫ লাখ টাকা) প্রদান করা হতো।

২০ বছর চলে গেছে কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কারণে তারা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি, অন্য কারণগুলোর মধ্যেও তারা যোগ করেছে।

২০১০ সালে, এনএইচএ মোহাম্মদপুর ব্লক এ লটারির মাধ্যমে ৯০০ পরিবারে ফ্ল্যাট বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এনএইচএ ৯০০ টি ফ্ল্যাট তৈরির জন্য ১৫টি ভবন নির্মাণ করবে।

মওদুদার মত একটি সম্ভাব্য মালিক, ব্যবস্থা সহজবোধ্য ছিল। তিনি হাউজিং স্কিমের অধীনে ১০০০ বর্গ ফুট ফ্ল্যাটের জন্য ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হতো।

পেমেন্ট প্ল্যানটি দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। প্রথমত, তাকে চারটি কিস্তিতে ১৮ লাখ টাকা দিতে হতো এবং তারপর তাকে মাসিক ভিত্তিতে বাকি অংশ পরিশোধ করতে হতো।

১৮ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য দম্পতি তাদের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙ্গে ফেলেন, আত্মীয়ের কাছ থেকে ঋণ নেয় এবং শেষপর্যন্ত গত বছরের নভেম্বরে চূড়ান্ত মূলধন পরিশোধ করে।

তিনি বলেন, চুক্তি অনুসারে এনএইচএ ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর ফ্ল্যাট হস্তান্তরের কথা বলেছিল।

কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি।

তথাপি, সম্প্রতি এনএইচএ ফ্ল্যাটের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় যা আগের অর্থের দ্বিগুণ পরিমাণ তারপরও মওদুদা তা পরিশোধ করার সম্মতি প্রদান করে।

এনএইচএর অনুসারে, ফ্ল্যাটের জন্য সরকারের নতুন বেঁধে দেয়া হারের ভিত্তিতেই তারা দাম বাড়িয়েছে।

“আমরা এখনও অতিরিক্ত অর্থের সঙ্গে জড়িত থাকার সংগ্রাম করছি”, হতাশাগ্রস্থ মওদুদা এই সংবাদদাতাকে জানান। “আমরা এখনও একটি ছোট বাড়ির একটি সাবলেট রুমের মধ্যে বসবাস করছি।”

শুধু মওদুদ নয়, প্রায় সকল পরিবার যারা ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছিল (বেশিরভাগই নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি), মূল্যের হঠাৎ বৃদ্ধির কারণে একটি অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আগের টাকা পরিশোধ করার জন্য গ্রামে জমি বিক্রি বা টাকা ধার করেছিলেন।

পরিবারগুলি মূল্ বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে

কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে, বেশিরভাগ লোক যারা ফ্ল্যাটের বরাদ্দ পেয়েছেন তারা সম্প্রতি রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন এবং এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে।

মোহাম্মদপুর ব্লকের এফ ফ্ল্যাট মালিক সমিতির আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান সেলিম বলেন, “সাত বছর অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখনও ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারেনি। অধিকন্তু, তারা বর্তমানে ১০০০ বর্গ ফুট ফ্ল্যাটের জন্য ৫৯ লাখ টাকা ধার্য করছেন, যা প্রাথমিকভাবে ৩৫ লাখ টাকা ছিল। “

তিনি বলেন, হাউজিং কর্তৃপক্ষ ২০১৪ সালের বা ২০১৫ সালের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলো হস্তান্তর করতে পারেন। ৮০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটের মূল্য ৩০ লাখ টাকা এবং ১০০০ বর্গ ফুট ফ্ল্যাটের মূল্য ছিল ৩৫ লাখ টাকা।

প্রতি বর্গ ফুট ৩৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে অতি সম্প্রতি এনএইচএ প্রতি বর্গফুট ৪৪০০ টাকায় উন্নীত করেছেন। তারা বলেন, অতিরিক্ত খরচ বাড়ানোর কারণ সিঁড়ি, লিফট এবং লবি যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও আহ্বায়ক দাবী করেন যে প্রস্পেক্টাসে এই “হিডেন খরচ” যুক্ত ছিলো না।

“এনএইচএ আমাদেরকে গত বছরের নভেম্বরে চতুর্থ কিস্তি জমা দিতে বলেছে। তারা বলেন, ১৫ টির মধ্যে পাঁচটি ভবন নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শেষ হবে। তিনি বলেন আমরা তাদের চাহিদা অনুসারে টাকা জমা দিয়েছি।

তিনি দাবি করেন যে কর্তৃপক্ষ বলছে তারা গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্ল্যাটগুলি হস্তান্তর করবে।

তিনি আরো যোগ করেন “হস্তান্তর করার পরিবর্তে, এনএইচএ দাম বাড়িয়েছে,”।

এনএইচএ কি বলে?

এনএইচএর সদস্য (প্রকৌশলী ও সমন্বয়কারী) এসএম ফজলুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফ্ল্যাটের জন্য সরকারের নতুন হারের হিসাবে তারা দাম বাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, ঠিকাদাররা যারা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করছেন তারা একটি পাইলিং-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাজটি সম্পূর্ণ করতে পারেনি। প্রকল্পটি বিলম্বিত করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার ও এনএইচএর মধ্যে একটি আইনি লড়াই চলছে।

তিনি (এনএইচএ) নকশা পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, একটি নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পাশাপাশি বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে, তাদের খরচও বেড়ে যায়, তিনি বলেন। এদিকে, তিনি আরো বলেন, নতুন সরকারের হার অনুযায়ী তাদের ফ্ল্যাটের মূল্য পরিবর্তন করতে হবে।

কবির বলেন, এ ব্যাপারে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি প্রায় ২৫০ টাকা করে কমিয়ে ৪৪০০ টাকায় প্রতি বর্গফুট চার্জ নির্ধারণ করেছে। এটি এনএইচএর বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

লোফার, লোবি এবং সিঁড়ি নির্মাণের নামে তাদের আরো বেশি চার্জ করা হচ্ছে বলে জনগণের উদ্বেগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, “আমরা কোনো যুক্তি ছাড়া চার্জ করছি না, প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনাটি ছিল।”

তিনি বলেন ইহা আমাদের একটি “ভুল” ছিলো যে তারা এটা প্রস্পেক্টাসে উল্লেখ করেন নি।

“এই বছরের জুনের মধ্যে পাঁচটি ভবনের কাজ শেষ হবে এবং বাকিগুলো ২০১৯ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে”।

তিনি আরও যোগ করেন যে ফ্ল্যাটের মূল্য হ্রাস করার জন্য তারা শীঘ্রই হাউজিং এবং গণপূর্ত মন্ত্রীকে একটি প্রস্তাব পাঠাবে।

ডেইলি স্টার থেকে অনুবাদিত

মন্তব্য