আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
বাস্তুচ্যুত পরিবার পাবে জমি ফ্ল্যাট বা চাকরি

সময়মতো জমি না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি উপযুক্ত জায়গায় প্রকল্প নেওয়াও সম্ভব হয় না। জমি অধিগ্রহণ সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার এ সংক্রান্ত আইন যুগোপযোগী করে সম্প্রতি স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন-২০১৭ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে জমির দাম বাজারদরের তিনগুণ মূল্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের পুনর্বাসনের। এ জন্য একটি জাতীয় নীতিমালা করা হচ্ছে। এ নীতিমালায় জমি অধিগ্রহণের ফলে কোনো পরিবার বাস্তুচ্যুত হলে তাদের জমির দামের পাশাপাশি বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা হিসেবে জমি বা ফ্ল্যাট দেওয়া, সংশ্নিষ্ট পরিবারের উপযুক্তদের যে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেখানে চাকরি দেওয়াসহ একগুচ্ছ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের জাতীয় পুনর্বাসন নীতিমালা-২০১৮’ শীর্ষক নীতিমালাটির খসড়া তৈরি করেছে। নীতিমালাটির ওপর মতামত নেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়, দপ্তর, অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের ওপর নির্ভর করছে নীতিমালাটির ভবিষ্যৎ। কারণ এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। যা প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আলাদা প্রকল্প নেওয়া দরকার হতে পারে। তবে ভূমি মন্ত্রণালয় মনে করে, সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে জনস্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এ বিষয়ে বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতের ক্ষতিগ্রস্ত ও সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। দেশের সর্বস্তরের নাগরিকের স্বার্থরক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে একটি নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্নিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক মতামত দিলেই নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। নীতিমালার বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের ফলে প্রতিবছর অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক, রেলপথ, বন্দর, বিদ্যুৎ, গ্যাস, নগর উন্নয়ন, সেচ ও বন্যানিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জমি অধিগ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর আগে প্রচলিত অধিগ্রহণ আইন ও অধ্যাদেশের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হতো, সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে কোনো আইনি কাঠামো ছিল না। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৭ সালে যে আইন করা হয়েছে তার ৯(৪) ধারায় জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের জমির ক্ষতিপূরণ ছাড়াও নির্ধারিত পদ্ধতিতে অধিগ্রহণের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। তারই আলোকে এ নীতিমালা করা হচ্ছে। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সংস্থাকে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে এসডিজি অর্জন ও নাগরিক অধিকার রক্ষাই এ নীতিমালার লক্ষ্য।

পুনর্বাসন ব্যবস্থা হিসেবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো জমি অধিগ্রহণের ফলে ওই জমির মালিক বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত হলে অধিগ্রহণকারী সংস্থা তাদের অন্য কোনো প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জমি বা প্লট দেবে। এ ধরনের কোনো প্রকল্প অধিগ্রহণকারী সংস্থা না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থায় প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করবে। ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেবে। যে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেই প্রকল্পের সুবিধাভোগী করা অথবা অধিগ্রহণকারী সংস্থার ব্যবস্থাপনায় বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। যে সংস্থা জমি অধিগ্রহণ করবে তাদের অধিগ্রহণের আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের স্থানান্তর, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনসহ একটি আলাদা পুনর্বাসন প্রকল্প নিতে হবে। এ পুনর্বাসন প্রকল্পটি অধিগ্রহণ প্রস্তাবের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এ প্রকল্প প্রণয়নের আগে সংশ্নিষ্ট এলাকার জনগণের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক ব্যবস্থা নিতে হবে। জমি অধিগ্রহণ করার আগেই পুনর্বাসন কাজ শেষ করতে হবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে ব্যাপক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয় তাহলে তাদের সবার জন্য নতুনভাবে আবাসন এলাকা নির্মাণ করতে হবে। সেখানে বাজার, বিপণি, পানীয়জল, অভ্যন্তরীণ ও সংযোগ সড়ক, বিদ্যুৎ, স্কুল, মসজিদসহ প্রার্থনা কেন্দ্র ও অন্যান্য সাধারণ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, বিশ্বের উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়েছে। আগামীতে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাড়বে। ফলে অধিগ্রহণও বাড়বে। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সমস্যায় না পড়ে বরং নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ পায় সে লক্ষ্যেই এ নীতিমালা। সমকাল

মন্তব্য