আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
তুরাগে সড়ক দখল করে জমজমাট ব্যবসা

তুরাগের অভ্যন্তরীণ সড়ক-মহাসড়ক অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে চলছে প্রভাবশালীদের ইট, পাথর ও বালুর জমজমাট ব্যবসা। ব্যবসায়ীদের রাখা এসব জিনিসপত্রে রাস্তাগুলো সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।

এসব কারণে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রতিনিয়ত। সড়কে নিরাপদ চলাচলের স্বার্থে এসব সরানোর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন বা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তুরাগ থানা এলাকায় ২১টি ছোটবড় সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ইট, বালু, পাথর, প্লাস্টিক, হার্ডওয়্যার সামগ্রী ও ভাঙারি ব্যবসার জিনিসপত্র রাখা হচ্ছে।

তুরাগের মূল সড়কের পাশাপাশি শাখা সড়ক, স্লুইচ গেট সড়ক, রানাভোলা অ্যাভিনিউ সড়ক, কামারপাড়া সড়ক, শাহেব আলী সড়ক, আইইউবিএটি সড়ক, ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সড়ক এবং এলাকার শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের জিনিসপত্র রাখায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।

তুরাগ কাঁচাবাজার থেকে রানাভোলা সড়ক, ঢাকা-আশুলিয়া সড়ক, মূল সড়ক ও তুরাগ থানা থেকে দিয়াবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র সড়কের খালি অংশ, ফুটপাত এমনকি মূল সড়কেও রাখা হয়েছে।

এমন চিত্র দেখা যায় তুরাগের ফুলবাড়িয়া, সিরাজ মার্কেট, ধরঙ্গার টেক, নয়ানগড়, চণ্ডলভোগ, দিয়াবাড়ী, নলভোগ, পাকুড়িয়া, আহালিয়া, দলিপাড়া, বাউনিয়া, উলুদাহা, বাদালদী ও ফাঁড়ি এলাকায়।

কামারপাড়া চৌরাস্তায় যাত্রী ছাউনির দু’পাশ ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানঘর। এছাড়া সড়কের পাশে রাখা ইট, পাথর ও বালুর কারণে ধুলোবালুর নিচে ঢাকা পড়ছে চারপাশ। যানজট ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

আইইউবিএটির বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রুমা আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, প্রায় সময় আমি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এ সড়ক দিয়ে গেলে দোকানে বসে থাকা অনেক বখাটে ছেলে কটূক্তি করে।

এ নিয়ে আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু এখনও এর কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে অবস্থা আগের মতোই রয়েছে।

তুরাগের রানাভোলার আবদুল বারেক নামে এক পথচারী বলেন, এ এলাকায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করছি। বিল্ডিংয়ের কাজের ইট, পাথর ও বালু এনে সড়কের অর্ধেকটাই দখল করে রাখেন স্থানীয় কিছু সরকারদলীয় নেতারা। এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে গেলে অপমানিত হতে হয়। তাই অপমানের ভয়ে চুপ হয়ে থাকি।

কামারপাড়া এলাকার ইট-বালু টানার ঠিকাদার আবদুল করিম জানান, ৫-৬ বছর ধরে এ ব্যবসা করে আসছি। দুটি পয়সার জন্য কাজ করে খাই। স্থানীয় নেতাদের দিয়ে ইট-বালু এনে এখানে রেখে ব্যবসা করি। পরে আমার লেবার দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিই। সেক্টরের কল্যাণ সমিতি ও পুলিশকে ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করে আসছি।

আহছানিয়া মিশন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। মোটরসাইকেল, গাড়ি ও রিকশা মেরামতের কাজ চলছে সড়কের ওপরেই।

কামারপাড়া ব্রিজ থেকে স্লুইচ গেট পর্যন্ত চলাচলের নতুন রাস্তাটিতে যেন চলছে দখলের উৎসব। দোকানদার, বাড়ির মালিকরা যে যেভাবে খুশি পাউবোর জায়গা দখল করে ব্যবহার করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কথা বললেও তা ঘোষণাতেই আটকে আছে।

তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. সুরুজ মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কামারপাড়া ব্রিজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কে বা কারা এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে চাঁদা উত্তোলন করছে তা আমার জানা নেই। তবে এলাকার অনেকেই এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে চাঁদা উত্তোলন করছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কিছু নেতা রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী রাখে ও সরকারি জমিতে অবৈধ দোকান বানিয়ে ব্যবসা করে আসছে।

এ নিয়ে বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও থানা পুলিশকে বলেও কাজ হয়নি। বেশি কিছু বলতে গেলে অপমানিত হতে হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিটি কর্পোরেশনকে লিখিত চিঠি দিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু উচ্ছেদের ২ দিন পর আবার আগের মতো শুরু হয় অবৈধ দখল।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক (অঞ্চল-৩) নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসেন জানান, রাস্তার ওপরে কোনো ধরনের ইট, বালু, পাথর ও দোকানপাট রাখা যাবে না।

যদি কেউ রাখে তাহলে আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানা করতে পারবে। কয়েকবার জরিমানা করেছেও। তিনি আরও বলেন, রাস্তার ড্রেন ভরে যায় মাটি ও বালুতে। তারপরও রাস্তার ওপর নির্মাণসামগ্রী যাতে না রাখে ম্যাজিস্ট্রেটকে সেই ব্যবস্থা নিতে বলব।

এ বিষয়ে পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নাবিক কামাল সৈবালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত এমন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য