আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
বাড়ির মালিকরাও এবার ডাটাবেসের আওতায়

রাজধানীতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিয়ে ডাটাবেস তৈরির পর এবার বাড়ি মালিকদেরও তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেস করার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এটা বাস্তবায়ন হলে ভাড়াটিয়াদের মতো বাড়ি মালিককে পৃথক আইডি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঢাকায় বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের পৃথক একটি ডাটাবেস তৈরি করারও উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত ঢাকায় ৭৪ লাখ বাসিন্দার তথ্য সংগ্রহ করে ডিএমপির বিশেষ সফটওয়্যারে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক ভাড়াটে বাসিন্দার জন্য আলাদা আলাদা আইডি বা শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়েছে। এখন কেউ অপরাধ করে আত্মগোপনে গেলেও সফটওয়্যারে থাকা আইডিতে ক্লিক করলেই ওই অপরাধীর সব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাছাড়া কোনো নাগরিক ঢাকার কোথায় বসবাস করছেন, এই সফটওয়্যারে তা জেনে সেভাবে সংশ্নিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা দেওয়া যাচ্ছে। ভাড়াটে ডাটাবেসে নাগরিক নিরাপত্তায় নানা ধরনের সুফল পাওয়ায় এখন বাড়ি মালিকদেরও ডাটাবেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, তারা নাগরিক ডাটাবেস করছেন। এতে যেমন ভাড়াটের তথ্য থাকবে, তেমনি বাড়ি মালিকদেরও তথ্য সন্নিবেশ করা হবে। ঢাকায় নতুন ভবন কারা করছে, নতুন বসতি কারা করছে- তাও থাকবে ডাটাবেসে। সবাইকে ডাটাবেসের আওতায় আনতে পারলে নিরাপত্তা দিতে সুবিধা হবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, শুরুর দিকে কেউই তথ্য দিতে চাননি। বাসিন্দাদের মনে নানা শঙ্কা ছিল। কিন্তু তারা তথ্য দিয়ে নিরাপদ রয়েছেন। রাজধানীতে এখন আর কেউ অপরাধ করে পালিয়ে থাকতে পারছে না। এতে নাগরিকদের মধ্যেই নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়েছে। কারণ পুলিশের কাছে নাগরিকদের তথ্যসংক্রান্ত ডাটাবেস অত্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের শতভাগ গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন থানা সূত্র জানায়, একবার যেসব ভাড়াটে তার তথ্য দিয়েছেন, তাকে দ্বিতীয়বার আর তা দিতে হচ্ছে না। শুধু তার বাসা বদলের তথ্যটি জানালেই হচ্ছে। তবে যারা তথ্য ফরম পূরণ করেননি তাদের তা করতে হচ্ছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, বাড়ি মালিক বা ভাড়াটের তথ্য ছাড়াও ঢাকায় বসবাসরত বিদেশিদের পৃথক ডাটাবেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের আঙুলের ছাপ সংবলিত ডাটাবেস তৈরির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। যাতে বিদেশি কেউ কোনো অপরাধ করলে সহজেই তাদের শনাক্ত করা যায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে প্রবেশের

পর বিদেশি অভিবাসীদের বিশেষ করে আফ্রিকান নাগরিকদের থেকে যাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়েেছ। অবৈধভাবে বসবাসকারী বেশিরভাগ বিদেশিই জাল মুদ্রা তৈরি, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, সাইবার অপরাধ এবং বিভিন্ন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে যাচ্ছে। অপরাধের পর মামলা হলে গ্রেফতারের পর দেখা যাচ্ছে, এরা অবৈধভাবে দেশে বসবাস করছে। তবে এ ধরনের ঠিক কতজন বিদেশি ঢাকায় অবস্থান করছেন, সেই পরিসংখ্যান নেই। এ জন্যই ডাটাবেস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির অপরাধ পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে অপরাধে যুক্ত বিদেশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৯৬টি মামলা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনাও রয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে জাল মুদ্রা ও অবৈধ মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৪৯টি, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে ১০টি, মানব পাচারসহ অন্যান্য অপরাধে নয়টি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি দখলের অভিযোগে দুটি এবং ধর্ষণের অভিযোগে দুটি মামলা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) শেখ নাজমুল আলম বলেন, ঢাকায় বসবাসকারী বিদেশিরা সব সময়েই পর্যবেক্ষণে থাকেন। তবে নানা ফৌজদারি মামলা হওয়ার পর তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তাদের বিষয়ে সহজে সুর্নিদিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এ জন্য অবৈধ অভিবাসীদের তথ্য সংবলিত একটি ডাটাবেস তৈরির জন্য ডিএমপি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তারা বিদেশিদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছেন, অপরাধে জড়িত বেশিরভাগই বাংলাদেশে ফুটবলার হিসেবে এসেছেন। কেউ কেউ নানা এনজিওর বিদেশি পরামর্শক হিসেবেও এসেছেন। কিন্তু তাদের চুক্তি বা ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তারা দেশে থেকে যাচ্ছেন। যারা তাদের দেশে এনেছিলেন, চুক্তি শেষে তারাও পুলিশকে কোনো তথ্য না দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে।

বিদেশিদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলার কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আফ্রিকান নাগরিকদের অনেকের পাসপোর্ট না থাকায় তদন্তের সময় তাদের নির্দিষ্ট নাম, জাতীয়তা, বয়স ও তাদের বাসার ঠিকানা চিহ্নিত করতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তাদের ভাষাও দুর্বোধ্য। তাই তাদের তথ্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট ডাটাবেসে থাকলে অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে। সমকাল

মন্তব্য