আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আইটি পাওয়ার ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করবে সিঙ্গাপুর

বিনিয়োগের জন্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এখন বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বড় ধরনের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এজন্য দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে তাদের ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হবে। সেখানে তারা তথ্য-প্রযুক্তি, পাওয়ার ও হাউজিং খাতে বিনিয়োগ করবে। সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ সন্তোষজনক হলে জমির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করা হবে।

গতকাল প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশে সফররত সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী তোফাযেল আহমেদ। এ সময় সিঙ্গাপুর ইন্ডিয়া চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ সফররত বিজনেস ডেলিগেশনের ডেপুটি চিফ প্রাসুন মুখার্জীর নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুর-এর প্রেসিডেন্ট মোহা. শহিদুজ্জামান, ফেডারেশনের অ্যাসিসটেন্ট এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কোডি লি, ডিরেক্টর আলান টান, অ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার মার্ক ইয়ো, সিঙ্গাপুরস্থ বিএফএন ফুডস লি.-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ বাবুল আক্তারসহ ডেলিগেশনের সদস্যরা। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের ঘনিষ্ট বন্ধু ও ব্যবসায়িক অংশীদার। তাদের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। বিনিয়োগের জন্য চীন ও ইন্দোনেশিয়ার পর এখন বাংলাদেশকে গন্তব্য মনে করছে সিঙ্গাপুর। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি। আগামী দিনগুলোতে বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন বাংলাদেশের ১৫০টির বেশি কোম্পানি সিঙ্গাপুরে বাণিজ্য করছে। সফররত বিজনেস ডেলিগেশনের সদস্যরা বাংলাদেশ সফর করে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিনিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বাংলাদেশ সরকার সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সিঙ্গাপুরকে প্রাথমিকভাবে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেব। সেখানে তারা তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করবে। এছাড়া জ্বালানি, বিদ্যুৎ, আবাসন ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করবে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও দুই হাজার একর দেয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুর বিজনেস ফেডারেশনের ব্যবসায়ীরা ৭-১৩ জুলাই বাংলাদেশ সফর করছে। তারা বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ, বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। এখন শতভাগ বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে, যে কোন সময় বিনিয়োগকৃত অর্থ লাভসহ ফিরিয়ে নিতে পারবেন। বিনিয়োগকারীদের এ অধিকার আইন পাস করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে লাভবান হবেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের রপ্তানি এখন প্রায় ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দিনদিন রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৮ হাজার মেঘাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে, এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। শিল্প কলকারখানায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কোন সমস্যা হবে না। সরকার সেভাবেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বেশ কয়েকটি ইকোনমিক জোনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সিঙ্গাপুরকে একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন বরাদ্দ প্রদান করা হবে।

এসআইসিসিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান প্রসুন মুখার্জি বলেন, সিঙ্গাপুর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সংরক্ষণবাদী দেশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তারা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জমি একটা বিষয়। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি ৫০০ একর জমি একটি দেশের নিজস্ব জোনের জন্য কিছুই না। তিনি বলেন, এ জোনে বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও ঠিক হয়নি। এতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের হবে। এ কাজ সম্পূর্ণ হতে ১২ বছর লাগবে। কেবল জমি উন্নয়ন করতেই তিন বছর লাগবে। সংবাদ

মন্তব্য