আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
আবাসন সমস্যা : ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে বিহারি ক্যাম্প!

আবাসনের অসুবিধা, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রাজধানী ঢাকার বিহারি ক্যাম্পগুলো সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। ঢাকার আশপাশে সুবিধাজনক স্থানে এগুলো স্থানান্তর করা হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের দুটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত করা হয়নি। ঢাকার ৪৫টি বিহারি ক্যাম্পে প্রায় ৬ লাখ লোক বসবাস করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ কামাল মঙ্গলবার নিজ দফতরে বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। বিহারি ক্যাম্প স্থানান্তরে সরকারি খাস জমি খোঁজা হচ্ছে। ইতিমধ্যে গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জের দুটি স্থান প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় অবাঙালি বিহারিদের ক্যাম্পগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের এ আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্ক চলে আসছে। বিহারি ক্যাম্পগুলো নানা অপরাধের ঘাঁটি এবং আশপাশের এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানেও মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্প থেকে মাদকসহ একাধিক অপরাধীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি কলোনিগুলোতে বিহারিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এ অবস্থা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর বিহারি ক্যাম্পগুলো ঢাকার পাশের কোনো সুবিধাজনক এলাকায় স্থানান্তরের কথা ভাবছে সরকার। ২০১৪ সালে মিরপুর বিহারি ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনার পর এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

সূত্র মতে, রাজধানী থেকে বিহারি ক্যাম্পগুলো সরানোর পর সেসব জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অফিস স্থাপন করবে সরকার। কোথাও বা গড়ে তোলা হবে শিল্প কারখানা।

এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেন। ঢাকা শহরের মধ্যস্থলে বিহারিদের আবাসনের অসুবিধা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মানবিক বিষয় বিবেচনায় ঢাকার আশপাশের সুবিধাজনক স্থানে তাদের স্থানান্তরে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগকেও বলা হয়।

এরপর থেকেই মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বিষয়টি সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (ত্রাণ প্রশাসন) এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে বিষয়টি বেশি দূর এগোয়নি।

সর্বশেষ ৫ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নসংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ক্যাম্প স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই বলে বৈঠকে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বৈঠকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরের মধ্যস্থলে বসবাসকারী বিহারিদের অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দফতরকে খাস জমি চিহ্নিত করে বিহারিদের স্থানান্তরের কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় ৪৫টি বিহারি ক্যাম্পে প্রায় ৬ লাখ লোক বাস করে। এছাড়া দেশের কয়েকটি জেলায় ক্যাম্পগুলোতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বিহারিরা। তাদের অন্যত্র স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ক্যাম্পের বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের নজরদারি রয়েছে।

বিহারি ক্যাম্পের বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধের ব্যাপারে হাইকোর্টের আদেশ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আইনগত বিষয়াদি পর্যালোচনা করে দেখছে। এছাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দাদের নাগরিকত্ব দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর, জামালপুর, পাবনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা- এ ১৩টি জেলার জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

ফিরিয়ে নেয়নি পাকিস্তান : ১৯৭৪ সালে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের পর পাকিস্তান সে সময়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আটকে পড়া পাকিস্তানিদের গ্রহণ করে। ১৯৯২ সালে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নিতে অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কনফারেন্সের (ওআইসি) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাবিতা আলম আল ইসলামি একটি জরিপ পরিচালনা করে। যারা সে সময়ে পাকিস্তানে ফিরে যেতে চায় তাদের ফরম পূরণ করতে দেয়া হয়। তাদের সহযোগিতা করেছিল স্ট্র্যান্ডেড পাকিস্তানি জেনারেল রিপার্টিশন কমিটি (এসপিজিআরসি)।

সেসময় ৪০ হাজার ২০৮টি পরিবারের দুই লাখ ৩৭ হাজার ৪৪০ জন উর্দুভাষী পাকিস্তানে ফিরে যেতে ফরম পূরণ করেছিল। তখন ক্যাম্পে এক লাখ ২৬ হাজার ২৪৮ জন বসবাস করতেন। আর ক্যাম্পের বাইরে ছিলেন এক লাখ ১১ হাজার ১৯২ জন। তবে তাদের মধ্যে মাত্র ৩২৩ জনকে পাকিস্তান গ্রহণ করেছিল। এরপর থেকে আটকেপড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেয়া বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার তাগাদা দিলেও পাকিস্তান সরকার আগ্রহ দেখায়নি। যুগান্তর

মন্তব্য