আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
সাত স‌তে‌রো অ‌নিয়ম ও অপরা‌ধে জর্জ‌রিত উত্তরা ম‌ডেল টাউন

রাজধানীর উত্তরা ম‌ডেল টাউন নানা‌বিধ অপরাধ, অন্যায় ও অ‌নিয়‌মের বিষবা‌ষ্পে আচ্ছন্ন। মাদক ব্যবসা, কি‌শোর গ্যাং, জুয়া ও ক্যা‌সি‌নোর সরব শহর এখন উত্তরা। অসামা‌জিক আবা‌সিক হো‌টেল, সীসা, মদ ও মাদ‌কের বার, ‌ডিস‌কো ক্লাব, বি‌ভিন্ন অ‌ফিস নামধারী গোপন ফ্ল্যাট, স্পা সেন্টার, ম্যাসাজ ও বিউ‌টি পারলার এবং নাটক, বিজ্ঞাপন ও সি‌নেমার স্যু‌টিং হাউজের আড়া‌লে চল‌ছে অবাধ দেহ ব্যবসা। আবা‌সিক এলাকা, সড়ক ও জনপদ এমন‌কি ফুটপাতসহ ইঞ্চি ইঞ্চি ফু‌টে ফু‌টে অ‌বৈধ দখ‌লে হা‌রি‌য়ে যা‌চ্ছে উত্তরার আসল চেহারা ও আদত ঐতিহ্য। দৃশ্যতঃ উত্তরা মডেল টাউন এখন নানামুখী অপরাধে অস্বাভা‌বিক বিবর্ণ হয়ে উঠেছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, দখল এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। গোপ‌নে কি প্রকা‌শে ফ্ল্যাটে ফ্ল্যাটে গড়ে উঠেছে রকমারি অ‌বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ সুযোগে কতিপয় ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছেন স্পা, ম্যাসাজ পার্লার, সিসা বার, অসামা‌জিক আবাসিক হোটেল, হাসপাতাল, বায়িং হাউস ও ক্লাব-সমিতি ইত্যা‌দি। ১১ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা হাবিবুল হাসান বলেন, নানা ধরনের বাণিজ্যিক আগ্রাসনে সীমাবদ্ধ থাকলে হয়তো আমাদের মানসম্মান রক্ষা হতো; কিন্তু আবাসিক হোটেল, স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের অন্তরালে চলছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক ব্যবসা, যে কারণে মান সম্মান সম্মত পরিবার নিয়ে উত্তরায় বসবাস করা ইদা‌নিং কঠিন হয়ে পড়েছে। রয়েল ক্লাবের মতো উত্তরার বিভিন্ন স্থানে নানা নামে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ক্লাব। কোনো কোনো ক্লাবের অন্তরালে মদ, জুয়া, অশ্লীল নাচ-গান থেকে শুরু করে জুয়া ক্যাসিনো পরিচালনার মতো অভিযোগ উঠেছে যা সত্যতা দিবা‌লো‌কের মত প‌রিস্কার স্বচ্ছ। অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে উত্তরার বিভিন্ন স্থানে নানা নামে বিভিন্ন ক্লাবের উৎপাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ক্লাবের অন্তরালে মদ, জুয়া, অশ্লীল নাচ-গান থেকে শুরু করে ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে ফ্রেন্ডস ক্লাব, অ্যাভিয়েশন ক্লাব, সিটি অরচার্ড রিক্রেয়েশন ক্লাব, প্রিমিয়ার ক্লাব, উত্তরা মডেল টাউন ক্লাব, উত্তরা অফিসার্স ক্লাবসহ ২৫-৩০টি ক্লাব গড়ে উঠেছে। এসব ক্লাব গড়ে তোলা হয়েছে ভাড়া বাড়িতে মূলত মদ, জুয়া কিংবা অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর জন্য। স্থানীয় লোকজন জানায়, নগরীর বড় অপরাধীরা এসব ক্লাবে নিয়মিত আড্ডা দিলেও পুলিশ যেমন অসহায় নির্বিকার। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিরাপত্তার কারণে ঢাকার কূটনৈতিক পাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা কিংবা ধানমণ্ডিতে প্রকাশ্যে কোনো বার, ক্লাব, স্পা, ক্যাসিনো চালানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান বর্তমানে উত্তরা মডেল টাউনে স্থানান্তর হয়েছে, বিশেষ করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশের সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান ওসি আলী হোসেন এসব ক্লাব, বার, স্পা কিংবা ম্যাসাস পার্লার থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা পান বলে ওদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এ অভিযোগ রয়েছে।

উত্তরার ১৩ নম্বরে প্রকাশ্যে জাপানি ক্লাব চালাচ্ছেন এক যুবলীগ নেতা। তিনি জাপানি ক্লাব নাম দিয়ে সেখানে মূলত ডিসকো চালাচ্ছেন। একই অভিযোগ উঠেছে সিটি অরচার্ড রিক্রেয়েশন ক্লাবের বিরুদ্ধে। সেখানে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনার নামে মদের বার চালানো হচ্ছে। মাসকট প্লাজার পিছ‌নে ব্রি‌টিশ হোম নামক আবা‌সিক হো‌টে‌লে প্র‌তিরা‌তেই চ‌লে পা‌র্টি ড্যান্স, ডিস‌কো ও মাদ‌কের হাট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, ওই ক্লাব শুধু পারমিটধারী নির্দিষ্ট সদস্যদের মধ্যে দেশে তৈরি কেরু কম্পানির বিলাতি মদ বিক্রি করতে পারবে। এ ব্যাপারে ক্লাবের কর্মকর্তা সারোয়ার বলেন, এ ক্লাবে কী বিক্রি হবে, কে পারমিটধারী, কে পারমিটধারী নয় সেটি আপনাকে বলা হবে না। ক্লাবটি কিভাবে চলছে তার জবাব মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় থানা পুলিশ থেকে জেনে নেবেন। তা ছাড়া ওই ক্লাবের পার্টনার একজন নামকরা সাংবাদিক। বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে বিপদে পড়বেন। উত্তরা সার্কেলের মাদক পরিদর্শক মাসুদুর রহমান বলেন, উত্তরা মডেল টাউনে অনেক অবৈধ ক্লাব ও বার রয়েছে। খবর পেলেই সেখানে অভিযান চালাই। এরই মধ্যে জাপানি ক্লাবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। সেখান থেকে ছয় বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে মা‌লিকসহ কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। উত্তরায় এতগুলো অবৈধ ডিসকো ও বার থাকতে শুধু জাপানি ক্লাবের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আমরা সব অবৈধ ক্লাবের বিরুদ্ধে মামলা করব। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোথাও থেকে কোনো ঘুষ নিই না। তদন্তে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টর ও রোডের ২১ নম্বর ভবনে রয়েল ক্লাব লিমিটেড নামের একটি অবৈধ বার ও ডিসকোর সন্ধান পাওয়া গেছে।

সোহেল নামের এক ব্যক্তি এটির সভাপতি। তিনি হরিরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাশেমের আত্মীয় পরিচয়ে এ বার চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সন্ধ্যা হলেই সেখানে মাদক আর নাচ-গানের আসর জমে ওঠে। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। অথচ এই ১৩ নম্বর রোডের উল্টো দিকেই উত্তরা পশ্চিম থানা অবস্থিত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব ক্লাব-ডিসকো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। তবে সেখানে লাইসেন্স-পারমিটবিহীন মদ-বিয়ার বিক্রি হলে সে ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলবে। এসব অবৈধ মাদক, বার কিংবা ডিসকোর সঙ্গে আমার কোনো কর্মচারী জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উত্তরার একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্তমানে সেখানে প্রকাশ্যে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। ১২ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ২১ নম্বর বাড়িতে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করছে মামুন নামের এক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। সে একই সঙ্গে অসামাজিক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। কিছুদিন আগে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে মদ, বিয়ারসহ গ্রেপ্তার করলেও জামিন নিয়ে বর্তমানে একই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সে। উত্তরা থানা সূত্র জানায়, প্রায়ই সমাজবিরোধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে থাকে। কিছুদিন আগে ১২ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের ১০ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপের হোতা মোক্তারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে ১১ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একজন সহযোগীসহ আনজুমান আরা পলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযোগ পাওয়া গেছে ১ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের নোয়াখাইল্লা কবির এবং ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৫ নম্বর রোডের ৩৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা রুনার বিরুদ্ধে। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, পুলিশের এসব অভিযান লোক দেখানো। টাকা-পয়সা নিয়ে সমস্যা হলে পুলিশ আইওয়াশের জন্য এসব গ্রেপ্তার করে। পরে মোটা অঙ্কের রফাদফায় সমাজবিরোধীরা আবার মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ শুরু করে পুলিশেরই সহযোগিতায়। এর প্রমাণ ১০ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাড়িটি। এ বাড়িতে জাহিদ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছে। তা ছাড়া খোকন, মুনছুর, শুভ, সাগর, নীরব, সৌরভসহ অনেকেই উত্তরার বিভিন্ন স্পটে দেহ ব্যবসা, মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালালেও পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন বিউটি পার্লার, স্পা ও ম্যাসাজ পার্লারের অন্তরালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও প্রশাসনিকভাবে তা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি কখনো। এর মধ্যে ১ নম্বর সেক্টরের (বিমানবন্দর থানার অধীন) ১ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়িতে হাসি ওর‌ফে নিশাত নামের এক মহিলা অনেক দিন ধরে ফেমাস স্পা পরিচালনা করছেন। একই সেক্টরে জসীমউদ্দীন রোডের ঢাকা ব্যাংকের পাশে সিটি ইন নামের একটি ‌ম্যাসাজ পার্লারের অস্তিত্ব রয়েছে। তা পরিচালনা করছেন বি‌দেশী ট্রে‌নিং প্রাপ্ত মাহবুবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। তা ছাড়া ৪ নম্বর সেক্টর পার্কের পাশে একটি স্পা এবং ১১ নম্বর সেক্টরে গরিবে নেওয়াজ রোডের একটি বাড়িতে রিলাক্স থেরাপির নামে একটি ম্যাসাজ পার্লার চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের কোনো শেষ নেই। সরেজমিনে গিয়ে উত্তরার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বিভিন্ন দোকানপাট, টংঘর ও ভ্যানগাড়ি বসানোর দৃশ্য দেখা গেছে।

এর মধ্যে আবদুল্লাহপুর, হাউস বিল্ডিং, আজমপুর, রাজলক্ষ্মী, জ‌সিম উদ্দিন স্মর‌ণি, ১১ নম্বর সেক্টর চৌরাস্তায় কমপক্ষে দুই হাজার অবৈধ দোকানপাট থেকে লাইনম্যান নামধারী কিছু চাঁদাবাজ দৈনিক টাকা তুলছে বলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নোয়াখাইল্লা আজাদ ও রাসেল হলেন প্রধান লাইনম্যান, যাঁরা দৈনিক ২০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত দোকানপ্রতি চাঁদা তুলে থাকেন। উত্তরা বিভাগে ডিসির নামে প্রতি দোকান থেকে তাঁরা ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছেন। যাঁরা এ টাকা দিতে অস্বীকার করছেন, তাঁদের দোকান কিংবা টংঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। লাইনম্যান নোয়াখাইল্লা আজাদ বলেন, আমি আগে পুলিশের লাইনম্যান হিসেবে চাঁদা তুলেছি। এখন ব্যবসা করি। উত্তরায় বড় চাঁদাবাজ হলো রাসেল। তাকে এসব চাঁদাবাজি নিয়ে জিজ্ঞেস করলে সব তথ্য পেয়ে যাবেন। রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উত্তরার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ হলো আজাদ। অনেক দিন সে উত্তরা ছাড়া ছিল। নতুন করে এখানে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তাকে লোকাল থানার কোনো কোনো দারোগা শেল্টার দিচ্ছেন। তাকে ধরা হলেই উত্তরার ফুটপাত চাঁদাবাজিমুক্ত হয়ে যাবে। আজমপুর ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, পুলিশের এমন কোনো শাখা নেই, যাদের নামে চাঁদা ওঠানো হয় না। এমনকি রাজনৈতিক নেতা, ভুয়া সাংবাদিক, পুলিশের সোর্স সবাই ফুটপাত থেকে ভাগ পেয়ে থাকে।

উত্তরা মডেল টাউনের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে পুলিশের ডিসি জয়দেব ভদ্র বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধান সড়কের ফুটপাত থেকে হকার ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় অবস্থিত দুটি হোটেল ও ডিসকো ক্লাব সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ক্লাব, বার, স্পাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, উত্তরা মডেল টাউনের এসব অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও দখলের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, কিছু পুলিশ সদস্য ও কিছু নামধারী সাংবাদিক জড়িত। ব্যবস্থা নিতে গেলেই ওদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পুলিশের একার পক্ষে সেটি সম্ভব নয়। জানা যায়, উত্তরায় প্রায় ৩০টির মত নাটক, বিজ্ঞাপন ও সি‌নেমার স্যু‌টিং স্পট বা হাউজ র‌য়ে‌ছে। স্যু‌টিং এর না‌মে ভাড়া নি‌য়ে সেখা‌নে দেহ ব্যবসা ও মাদ‌কের আখড়া গ‌ড়ে তুল‌ছে অ‌নেক নামধারী প‌রিচালক ও প্র‌যোজনা সংস্থা। মূলতঃ উত্তরা শহর অপরাধী‌দের এখন মূল টা‌র্গেট। এই শহ‌রে অপরাধ ক‌রে সহ‌জে পার পাওয় যায়। তাই উত্তরা অপরাধী‌দের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ব‌লে বিখ্যাত হ‌য়ে উঠে‌ছে অপরাধী‌দের চো‌খে। এখা‌নে পু‌লিশ কর্মকর্তারাও আসেন জীব‌নের শেষ সম্বল হা‌তি‌য়ে নি‌তে। শহ‌রের বদনা‌মে প্রশাসন ও রাজনী‌তিক‌দের তেমন কিছু যায় আসেনা ব‌লেই অ‌নিয়ম ও অপরা‌ধে ঝুঁ‌কিপূর্ণ জনপদ উত্তরা ম‌ডেল টাউন।

মন্তব্য