আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
এক হাজার নারী শ্রমিকের ৬০ কোটি টাকার আবাসন

নগরীতে নির্মিত হচ্ছে ১ হাজার নারী শ্রমিকের জন্য উন্নতমানের মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শ্রম অধিদপ্তর ও সেনা কল্যাণ সংস্থা। আগামী ২৭ জুলাই নগরীর কালুরঘাটে মহিলা শ্রমজীবী হোস্টেল ও ৫ শয্যার হাসাপাতাল সুবিধাসহ শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। ১ দশমিক ০১ একর জায়গার উপর ৬ তলা ভবনে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, কর্মদক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও চিত্তবিনোদন সেবার সুবিধা থাকবে। নারী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এ সুবিধাগুলো পাবেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে। মাত্র ২ হাজার টাকা দিয়ে ৪ বেডের বাসায় পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে বলে জানান প্রকল্পটির পরিচালক আবু আশরীফ মাহমুদ। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তর জানায়, চট্টগ্রাম একটি শিল্পঘন অঞ্চল। তাই তৈরি পোষাকসহ বহু কারখানা এখানে গড়ে উঠেছে। অন্যান্য শিল্প হিসেবে জুট, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস্সহ রয়েছে হাজারো শিল্প প্রতিষ্ঠান। সেখানে কর্মরত বেশিরভাগ শ্রমিকই হলেন নারী। তাদের স্বল্পব্যয়ে আবাসনের মারাত্মক সংকট রয়েছে। এছাড়াও অভাব রয়েছে প্রশিক্ষণ বা চিকিৎসা সেবার। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রামে প্রকল্পটি হতে যাচ্ছে। যার ফলে নারী শ্রমিকরা স্বল্প ব্যয়ে স্বাস্থ্য সম্মত ও মনোরম পরিবেশের আবাসন সুবিধা পাবে। আরও জানা যায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে ৯৬০ জন কর্মজীবী মহিলা শ্রমিকদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে। সুষ্ঠু ও সামাজিক মানসম্মত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, সামাজিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে নারীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা, তাদের মধ্যে উন্নত শ্রমকল্যাণ সুবিধা বৃদ্ধি করা, বিদ্যমান শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র থেকে প্রদানকৃত সেবাসমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়াও মহিলা কর্মজীবীদের আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ থাকবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, প্রকল্পটি আগামী শুক্রবার (২৭ জুলাই) উদ্বোধন হবে। প্রকল্পটি হলে চট্টগ্রামের ১ হাজার নারী শ্রমিক আধুনিক সুবিধার আওতায় আসবে। ফলে তাদের জীবনমান নিশ্চিত হলে উৎপাদন ক্ষমতাও বেড়ে যাবে। সর্বোপরি সামাজে নারীদের ক্ষমতায়ন হবে। প্রকল্পটির পরিচালক আবু আশরীফ মাহমুদ বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলো নারী শ্রমিকের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য আবাসনের তেমন সুযোগ ছিল না। তারা যত আয় করত, তার বেশিরভাগ টাকা ব্যয় করে শহরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। সরকারের এমন উদ্যোগে নারী শ্রমিকরা তাদের দক্ষ করে তুলতে পারবে। তাছাড়া এখানে মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে একজন নারী শ্রমিক আধুনিক আবাসন সুবিধা পাবে। আর মাত্র ২ হাজার দিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে থাকতে পারবে। যেখানে চিকিৎসা থেকে বিনোদনের সুন্দর ব্যবস্থা থাকবে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, পুরো দেশে দুটি নারী শ্রমিকদের জন্য আবাসন করা হচ্ছে। একটি নারায়নগঞ্জে আর অপরটি চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। যেখানে আগে শ্রমকল্যাণ কেন্দ্র ছিল। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরের নারী শ্রমিকরা সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম শেষে একটি প্রশান্তির ঠিকানা খুঁজে পাবে।

মন্তব্য