আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
প্লট গায়েব!

পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া এক প্রবাসীর প্লট গায়েব করে দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ওই ব্যক্তিকে যে প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, সেটি অন্য একজনকে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে রাজউক। পরে তাকে আরেকটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং সেটিও অন্য এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি হয়ে যায়। কয়েক দফায় অদল-বদলের পর একপর্যায়ে প্লটের ফাইলটিও রাজউক থেকে উধাও হয়ে যায়। ফলে এখন আর ওই প্রবাসীর কোনো প্লটই নেই। রাজউকও এ ব্যাপারে কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাকে প্লট দেওয়া হবে কি-না, তাও বলছে না। এ অবস্থায় ওই প্রবাসী পড়েছেন মহাবিপাকে। গত ১৫ বছর ধরে তিনি প্লটের আশায় রাজউকে দৌড়ঝাঁপ করছেন। ঢাকা-লন্ডন করতে করতে তিনি এখন ক্লান্ত।

অবশ্য এ প্রসঙ্গে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক উজ্জ্বল মল্লিক সমকালকে বলেন, একই ব্যক্তির একাধিকবার প্লট পরিবর্তন হওয়ার পেছনে অবশ্যই কোনো কারণ আছে। অনেক সময় লে-আউট প্ল্যানে পরিবর্তন আনা হয়। সে জন্য এমন হতে পারে। বিষয়টি রাজউকের সম্পত্তি বিভাগের। ফলে ওই বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

এ ব্যাপারে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের সম্পত্তি বিভাগের পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজউক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য (সম্পত্তি) আমজাদ হোসেন খান সমকালকে বলেন, তিনি যেহেতু রাজউকের প্লট পেয়েছিলেন, কাজেই তাকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োজনে তাকে অন্য জায়গায় প্লট দেওয়া হবে। এ জন্য একটু সময়ের প্রয়োজন।

প্রবাসী কোটায় প্লট বরাদ্দপ্রাপ্তরা দেশে অবস্থান না করায় তারা প্লটের বিষয়ে সবসময় খোঁজ নিতে পারেন না। সেই সুযোগে অন্যদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে ভালো লোকেশনের প্লটগুলো রাজউকের অসাধু কর্মকর্তারা তাদের দিয়ে দেন। রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দালালের সমন্বয়ে এ রকম একটি চক্র গড়ে উঠেছে। প্লট অদল-বদলের আড়ালে ওই চক্র বিশাল অর্থের বাণিজ্য করে থাকে। বিশেষ করে কর্নার প্লটের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। এতে বিপাকে পড়েন ওই প্লটপ্রাপ্তরা। ওই প্রবাসীর ক্ষেত্রেও ঘটেছে এমনটি।

ভুক্তভোগী ও রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব থানার ইমামপুর গ্রামের ছমির উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. আবুল বাশার ২০০৩ সালে প্রবাসী কোটায় রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পান। লটারির মাধ্যমে তাকে ৩০ নম্বর সেক্টরের ৩০৩ নম্বর রোডের ২২ নম্বরের কর্নার প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্লটের মূল্য বাবদ ১৭ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করার চিঠি দেওয়া হয়। তিনি দ্রুতই ওই অর্থ পরিশোধ করেন। কিন্তু প্লটটি বুঝে নিতে চাইলে তাকে বলা হয়, ওই প্লটটি তাকে দেওয়া যাবে না। পরে ২০০৫ সালের ৫ জুন রাজউক তাকে ওই সেক্টরেরই ৩০১ নম্বর রোডের ২২ নম্বর প্লটটি দেওয়া হবে বলে চিঠি দিয়ে একটি সংশোধনী বরাদ্দপত্র দেয়। ২০১১ সালে ওই প্লটটি তিনি বুঝে নিতে চাইলে তখন রাজউক থেকে বলা হয়, ২২ নম্বর প্লটটি তাকে দেওয়া যাবে না। প্লটটি ৩২ নম্বর প্লটের বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। আর ৩২ নম্বর প্লটটিও আবুল বাশারকে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ ৩২ নম্বর প্লটটিও অন্য আরেক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন তিনি রাজউকে ধর্ণা দিতে থাকেন। পরে তাকে ওই সড়কেরই ১২ নম্বর প্লটটি দেওয়া হয়েছে বলে আরেকটি চিঠি দেয় রাজউক এবং দ্রুত প্লটটি রেজিস্ট্রি করে নিতে বলা হয়। এরপর তিনি দেশে ফিরে রাজউকের একজন কানুনগোকে নিয়ে পূর্বাচলে যান। তাকে প্লটটি মেপে দেখানো হয়। সে সময় তিনি প্লটটি রেজিস্ট্রি করে নিতে চান। এরপর সামনে আসে প্লট গায়েব নাটকের ক্লাইমেক্স পর্ব। রাজউকে বরাদ্দের নথি তল্লাশি করে তাকে জানানো হয়, তার প্লট পাওয়ার কোনো ফাইল রাজউকে নেই!

আবুল বাশার জানান, এরপর তিনি রাজউকের একজন সিবিএ নেতার দ্বারস্থ হন। সিবিএ নেতা চাপ দিলে কিছুদিন পর তার নথির সন্ধান পাওয়া যায়। তখন তাকে কিছুদিন পর যোগাযোগ করতে বলা হয়। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে প্লটটি রেজিস্ট্রি করে নিতে চাইলে রাজউক থেকে বলা হয়, ১২ নম্বর প্লটটি আরেক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রি হয়ে গেছে। কাজেই ১২ নম্বর প্লটটিও আর আবুল বাশারের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কোথায় তাকে প্লট দেওয়া হবে- রাজউকের পূর্বাচল সেলের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানতে চাইলে তারা বলেন, এখন আর কোনো প্লট দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ কোনো প্লট ফাঁকা নেই। এ অবস্থায় ওই ব্যক্তি রাজউকের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তির কাছে প্রায় প্রতিদিনই দেনদরবার করছেন। কিন্তু কেউ কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না।

লন্ডনের ২৩-এ হেনজি স্ট্রিটে বসবাসরত আবুল বাশার তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, এভাবে গত ১৫ বছর ধরে প্লটের জন্য রাজউকে ঘুরছেন। এ জন্য কাজ বাদ দিয়ে লন্ডন থেকে তাকে প্রায় ২০ বার দেশে আসতে হয়েছে। এই বুঝি ঝামেলা শেষ হয়- এমন আশায় প্রতিবারই তিনি নির্ধারিত সময়ে লন্ডনে ফিরতে ব্যর্থ হন। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয় তাকে। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।

মন্তব্য