আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
২ মাস আগে বদলী হয়েও রাজউকে বহাল তবিয়তে রোকন উদ্ দৌলা!

রাজধানী উন্নয়ন কর্তপক্ষ (রাজউকের) চাকুরী মানেই মধুর হাড়ি। এখানে একবার যারা বদলী হয়ে আসেন তারা হাজার স্বর্ণমুদ্রার বিনিময়েও অন্যত্র বদলী হতে চান না। অর্থ কড়ি খরচ করে হলেও রাজউকেই থেকে যান। প্রায় ২ দশক ধরে এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে। ফলে অন্য ক্যাডার থেকে আসা কর্মকর্তাদের দখলে চলে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তপক্ষ (রাজউক)। এতে করে রাজউক তার কাংখিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারছে না। অন্য দিকে রাজউকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ১০/১৫ বছর চাকুরী করেও প্রাপ্য পদোন্নতি পাচ্ছেন না। এ কারণে তাদের মনোবল ভেংগে যাচ্ছে। কর্মস্পৃহা থাকছে না। অন্য দিকে প্রেষনে আসা অন্য ক্যাডারের

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম -দুর্নীতিতে বির্তকিত হয়ে পড়ছে রাজউক। অতীতে দেখাগেছে প্রায়ই কর্মকর্তাদের সাথে কর্মচারীদের নানা বিষয়ে মতদ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কর্মচারীদের হাতে কর্মকর্তারা লা্িঞ্চতও হন। এমন কি অবরোধের শিকার হয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। সে সব ঘটনা পত্র পত্রিকায় ফলাও করে প্রচারও হয়। হামলা -মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তীতে গণপূর্ত মন্ত্রী ও সচিবের হস্তক্ষেপ করতে হয়। রাজউকের এই সব নোংরা ইতিহাসের আর যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সকলকে সতর্কও করেন গণপূর্ত  মন্ত্রী ও সচিব। এরপর কিছুদিন শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকলেও সম্প্রতি সেটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। বিচার বিভাগ থেকে প্রেষনে আসা এক কর্মকর্তার পদোন্নতি ও

একনাগাড়ে প্রায় একযুগ (১২ বছর)     রাজউক ভবনে অবস্থান করায় পত্র পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে বদলী করলেও তিনি হাই ভোল্টেজ তদবীর করে রাজউকেই রয়ে গেছেন। এখন আবার রাজউকের চেয়ারম্যান হবার স্বপ্ন দেখছেন।
এ বিষয়ে রাজউকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান আজ থেকে প্রায় একযুগ আগে রাজউকের মোবাইল কোর্ট ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে প্রেষনে যোগদান করেন মো: রোকন উদ্ দৌলা। এরপর তিনি আর তার পুর্ব কর্মস্থলে ফিরে যাননি। অথচ সরকারী চাকুরী বিধিমালার নিয়ম হলো-কোন কর্মকর্তা ৩ বছরের অধিক

কোন সরকারী দপ্তরে থাকতে পারবেন না।  কিন্তু ম্যাজিষ্ট্রেট মো: রোকন উদ্ দৌলার ক্ষেত্রে সেই বিধি বিধান লংঘন করা হয়েছে বার বার। সর্বশেষ তাকে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয় স্মারক নং ০৫.০০.০০০০.১৩০.১২.০০১.১৭-৩০৮ মুলে গত ১৬/০৫/২০১৮ ইং তারিখে অতিরিক্ত সচিব পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় পদে বদলী করা হয়।
সুত্রমতে ২০০৬ সালে মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসাবে যোগদান করেন মো: রোকৗন উদ্ দৌলা। এরপর তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বিশেষ তদবীর করে একটার পর একটা পদোন্নতি বাগিয়ে নেন। কেবল পদোন্নতিই নয় তিনি অদুর ভবিষ্যতে যাতে রাজউকের চেয়ারম্যানের পদে বসতে পারেন সেজন্য মরিয়া হয়ে

ওঠেন। পর পর ২টি পদোন্নতি পেয়ে যান। প্রথমে পরিচালক (আইন) এরপর গত ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং সদস্য (প্রশাসন) পদে পদোন্নতি নিয়ে এখন তিনি রাজউকের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর কর্মকর্তা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলী এবং শাস্তি দানের ক্ষমতা তারই হাতে।
এ বিষয়ে কথা বললে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ম্যাজিষ্ট্রেট মো: রোকৗন উদ্ দৌলা রাজউকে যোগদান করার পর থেকেই রাজউকের আইন শাখা ধ্বংস হয়ে গেছে। কর্মকর্তা -কর্মচারীদের সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ছাড়া আইনের জালে ফাইল আটকে তিনি নগরবাসী ও আবাসন কোম্পানীর

মালিকদের সীমাহীন হয়রানী করেন। বিএনপি আমলের ভেজাল বিরোধী অভিযানের জনপ্রিয়তা ও খ্যাতিকে পূঁজি করে তিনি রাজউকে স্থায়ী আসন গেড়ে বসেন। এমনকি প্রায়ই বলেন যে, তিনি রাজউকের চেয়ারম্যান হয়ে তবেই অবসর নেবেন। এটা নাকি তার জীবনের চুড়ান্ত লক্ষ্য। সে লক্ষ্য হাসিল করার জন্যেই তিনি বর্তমান মন্ত্রীর সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়েছেন। সদস্য (প্রশাসন)পদে তিনি যে পদোন্নতি পেয়েছেন সেটাও নাকি মন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায়।

প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো: রোকৗন উদ্ দৌলার এ ধরনের আস্ফালন মূলক কথা বার্তায় রাজউকের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হতবাক হয়ে পড়েছেন। তাদের প্রশ্ন-গণপুর্তের নিয়োগপ্রাপ্ত বিভাগীয় কর্মকর্তা না হয়েও মো: রোকৗন উদ্ দৌলা কিভাবে প্রায় একযুগ প্রেষনে রাজউক ভবনে কর্মরত রয়েছেন? কিভাবে তিনি একটার পর একটা পদোন্নতি  পেলেন ? তার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের বিধি বিধান অকার্যকর কেন? তিনি কি এমন প্রশংসার কাজ করেছেন যে কারণে তাকে রাজউকে অপরিহার্য মনে করা হচ্ছে? কেন তার বদলী আদেশ ২ মাসেও কার্যকর না করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে? এ সব প্রশ্নের জবাব চান কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। একই সাথে তারা অনতিবিলম্বে প্রশাসন বিভাগের

এই কর্মকর্তাকে রাজউক থেকে রিলিজ করার দাবী তুলেছেন। অন্যথায় তারা আন্দোলনের কর্মসুচী দিতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন। মুক্তখবর

মন্তব্য