আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
নিবন্ধনযোগ্য আবাসন কোম্পানি মাত্র ১১টি!

চট্টগ্রামে নিবন্ধনযোগ্য আবাসন কোম্পানি পাওয়া গেছে মাত্র ১১টি। অথচ কয়েক শতাধিক আবাসন প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে এখানে। প্রতারণা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের কারণে আবাসন কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নামসর্বস্ব আবাসন কোম্পানি গজিয়ে উঠা রোধ করতে ৫ বছর আগে নেওয়া সিডিএ’র এ উদ্যোগে আড়াইশ’র বেশি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেবে না সিডিএ। একই সাথে ক্রমান্বয়ে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সংস্থাটি।জানা যায়, পাঁচ বছর আগেই আবাসন কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। ২০১৩ সালে নিবন্ধনের জন্য আবাসন কোম্পানিগুলো থেকে দরখাস্ত আহবান করা হয়। তখন ২৫৩টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান (আবাসন কোম্পানি) নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। সে সময় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) থেকে আপত্তি তোলা হয় কিছু বিষয়ে। নিবন্ধন ফি কমানো এবং রিহ্যাব সদস্য ছাড়া কাউকে নিবন্ধন না করানোর দাবি ছিল এরমধ্যে অন্যতম। এ নিয়ে বিভিন্ন দেন-দরবারের কারণে নিবন্ধন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে রিহ্যাবের দাবি আংশিক মেনে নেওয়া হয়। রিহ্যাবের সদস্যদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলেও নিবন্ধন ফি কমানোর দাবি নাকচ করে মন্ত্রণালয়। ফলে পূর্বের নির্ধারিত ফি দিয়েই আবাসন প্রতিষ্ঠানকে সিডিএ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এজন্য অবশ্যই আবাসন প্রতিষ্ঠানকে রিহ্যাবের সদস্য হতে হবে। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ অনুযায়ী ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবাসন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্য সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। এর পরেই নিবন্ধন সনদ প্রদান কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিলো। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করা ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো নির্ধারিত সব কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। এ অবস্থায় সময় আরো একমাস বাড়ানো হয়। এরই মধ্যে সিডিএ সবগুলো প্রতিষ্ঠানের খবরাখবর নিয়েছে। আবেদনের কাগজপত্র যাচাই করে মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীন উল ইসলাম খান বলেন, নিবন্ধনের জন্য আমরা যখন আবেদন গ্রহণ শুরু করি তখন অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। রিহ্যাবের পক্ষ থেকেও ১শ’র মতো প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সবার কাগজপত্র অসম্পূর্ণ ছিলো। যে কাগজপত্রগুলো বাকি ছিলো সেগুলো জমা দিতে একমাস সময় দেওয়া হয়। এরমধ্যে মাত্র ১১টি প্রতিষ্ঠান তাদের সবগুলো কাগজপত্র জমা দেয়। এই ১১টি কোম্পানিকে আমরা নিবন্ধন সনদ দিব। এ মাসের মধ্যেই অথবা ঈদের পরপরেই আমরা তাদের নিবন্ধন দিয়ে দিব।তিনি বলেন, আমরা দেখেছি অনেক কোম্পানির অস্তিত্বই নেই। অনেক কোম্পানির ঠিকানা আবাসিক এলাকায়, আবাসিক এলাকা থেকে সরে তাদের অন্যত্র অফিস নেওয়ার প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। অনেকের সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ছিলো না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের যে ধরনের লোকবল থাকার কথা তা ছিলো না। ত্রæটিগুলো ঠিক করে আনলে তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হলে অনিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্ল্যান বা ভবন করার অনুমতি দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে অনিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান থাকবে না।

আবাসন কোম্পানিগুলোকে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে বেশ কয়েকটি শর্ত দেওয়া হয়। এরমধ্যে অন্যতম ছিলো, হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, বাধ্যতামূলক রিহ্যাবের সদস্য হওয়া, নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ, নির্ধারিত জনবল কাঠামো, যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী অফিস থাকাসহ আরো বেশ কয়েকটি শর্ত। সিডিএ’র কাছে আবেদন করা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠানছাড়া বাকিগুলো এসব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। এরমধ্যে বেশিরভাগ কোম্পানির অফিস আবাসিক এলাকায় হওয়ায় নিবন্ধন অযোগ্য হিসেবে বিচেনা করা হয়েছে। তাছাড়া কিছু কোম্পানির হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স না থাকা ও জনবলের অভাব পরিলক্ষিত হয়। তবে কোম্পানিগুলো যাবতীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করলে নিবন্ধন সংগ্রহ করতে পারবে।এ বিষয়ে কথা হলে রিহ্যাব চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান আবদুল কৈয়ুম চৌধুরী বলেন, সিডিএ আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো আপডেট জানায়নি।নিয়মানুযায়ী কোনো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। যদি সিডিএ’র আওতাধীন এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে তাহলে তাকে অবশ্যই সিডিএ থেকে নিবন্ধিত হতে হবে। রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী, ‘কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকায় রিয়েল এস্টেট ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রত্যেক রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হতে নিবন্ধন গ্রহণ করতে হবে।’ এতোদিন এ নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করেনি আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে এ খাতে নানা বিশৃঙ্খলা চলে আসছিলো। সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত হতে হয়েছিল প্রতারিত। অনেককে প্রতারক আবাসন ব্যবসায়ীদের হাতে সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে পথে বসতে হয়েছে। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এ খাতে জবাবদিহিতা সৃষ্টি হবে। প্ল্যান পাস থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে সিডিএ। এতে গ্রাহক প্রতারণার ফাঁদ বন্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিহ্যাব চট্টগ্রাম মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান এএসএম আব্দুল গাফ্ফার মিয়াজী বলেন, আবাসন কোম্পানিগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনার জন্য সিডিএ উদ্যোগ নিয়েছিলো। রিহ্যাবের পক্ষ থেকেও কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কি কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে সেটা আমাদের জানানো হয়নি। পূর্বদেশ

মন্তব্য