আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
বস্তিবাসীদের আবাসন ও গৃহঋণ দিতে বিশেষ প্রকল্প, একনেকে উঠছে কাল

শহরে বস্তিবাসীদের উন্নত আবাসন সুবিধা দেবে সরকার। দেশের বিভিন্ন শহরের পাঁচ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে স্থায়ী অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে দুই রুমের বাসা। সুদমুক্ত গৃহঋণ দেওয়া হবে আরও ১৫ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে। এ ছাড়া আরও ২০ হাজার পরিবারকে পানির সংযোগ, স্যানিটেশন, ড্রেনেজ, সংযোগ সড়ক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা দেওয়া হবে।

দেশের ১১টি সিটি করপোরেশন ও ২৫টি পৌরসভায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৮২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় নগর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ কর্মসূচির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৯৮ কোটি টাকা দেবে জাতিসংঘ উন্নয়ন তহিবল (ইউএনডিপি) এবং যুক্তরাজ্য সরকারের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা (ডিএফআইডি)। সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ১২৮ কোটি টাকা। হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি সহয়তা, ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা সহায়তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক অনুদানও দেওয়া হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নগরের দরিদ্র বসতিগুলোতে পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার পৌরসভায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমাতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল এ প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উত্থাপন করা হয়। ওই সময় প্রকল্প প্রস্তাবনায় ড্রেন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বাথরুম ও নলকূপ স্থাপনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বস্তিবাসীর আবাসন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব ছিল না। বস্তিবাসীর বৈধ কোনো জমি না থাকায় ফুটপাত, ড্রেন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন, বাথরুম ও নলকূপ স্থাপনের কোনো প্রকল্প নেওয়া যৌক্তিক হবে না বলে ওই সময় প্রকল্পটি ফেরত পাঠায় একনেক। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য পরিবর্তন করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এক রুম বা দেড় রুমের ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিবর্তে বাসস্থান নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের সংস্থান রেখে প্রকল্প প্রস্তাব পুনর্গঠন করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য দুই রুমের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। কমিউনিটি হাউজিং ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (সিএইচডিএফ) গঠন করে বিনা সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দেওয়া হবে। পৌরসভায় উন্নত নগর ব্যবস্থাপনার জন্য নীতিমালা তৈরি করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, তিন বিষয়কে মানদণ্ড ধরে এ প্রকল্পের জন্য শুরুতে ৫১টি পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশনকে মনোনীত করা হয়। দারিদ্র্যের প্রকটতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও অংশীদারিত্বের সুযোগ এ তিন মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব শহরকে বেছে নেওয়া হয়। পরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৫টি পৌরসভা এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। সমকাল

মন্তব্য