আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
ঘোষণা
আবাসন সম্পর্কিত যেকোনো নিউজ পাঠাতে পারেন আমাদের এই মেইলে- abasonbarta2016@gmail.com
উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পে লটারিতে ফ্ল্যাট পেলেন ৮৩৭ জন

উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ১৮ নং সেক্টরে নির্মানাধীন ৪র্থ পর্যায়ে ১৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের ‘এ’ শ্রেণির ফ্ল্যাট বিভিন্ন পেশা ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৮৩৭ জন বৈধ আবেদনকারীকে বরাদ্দের জন্য সাময়িকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে আজ ডিজিটাল প্রযুক্তিতে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম নির্বাচিত করা হয়। লটারির জন্য নির্বাচিত মোট ফ্ল্যাট বরাদ্দ গ্রহীতার সংখ্যা ১ হাজার ৮৩২ জন। হস্তান্তর উপযোগী মোট ৮৪০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ১২তম এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী ৩ জন কৃতি খেলোয়াড়কে ৩টি ফ্ল্যাট ১৮-এ-৩ডি-২০১, ১৮-এ-৩ডি-২০২ ও ১৮-এ-৩ডি-২০৩ এরইমধ্যে দেওয়া হয়েছে। লটারির জন্য নির্বাচিত ১৮৩২ জন গ্রহীতাদের মধ্যে যারা ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ৪র্থ কিস্তির মূল্য পরিশোধ করেছেন, তাদের লটারি অনুষ্ঠিত হয় আজ রোববার। লটারিতে ১৮৩২ ক্রেতার মধ্যে ৮৩৭জন ক্রেতাকে ৮৩৭টি ফ্ল্যাটের আইডি দেওয়া হয়। বিস্তারিত ফলাফল জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন। Flat Result_uap17

অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে ফ্ল্যাটের জন্য ২০১২ সাল থেকে অনেকেই আবেদন করেছিলেন। ১ হাজার ৬৫৪ বর্গফুটের (মূল ১২৫০) ফ্ল্যাটের প্রতি বর্গফুটের দাম ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ টাকা। সরকারি দলের দুজন সাংসদের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৭৯টি ১৬ তলা ভবন তৈরির কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে কাজের অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে কাজ দেওয়া হয়। এর আগেই ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া ৩৫ শতাংশ আবেদনকারী কিস্তি ও জামানতের টাকা তুলে নেন। অনেক বরাদ্দগ্রহীতা ৫ শতাংশ টাকা ছাড় দিয়ে জমাকৃত কিস্তির টাকা ফেরত নেন। বর্তমানে ৫ হাজার ৮০০ জনের মতো গ্রহীতা রয়েছেন। ভবনগুলোর কাজের অগ্রগতির কারণে নতুন করে কেউ আর টাকা তুলে নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

প্রকল্পে ঢাকা ওয়াসার পানির পাইপলাইন এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) বৈদ্যুতিক লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। গ্যাস-সংযোগ হবে এলপিজি সিলিন্ডারের মাধ্যমে। বিভিন্ন ভবনের পাশে সিলিন্ডার ব্যাংক করা হচ্ছে। সেখান থেকে ফ্ল্যাটগুলোতে লাইন টেনে সংযোগ দেওয়া হবে। সংযোগটি হবে মিটারিং পদ্ধতিতে।

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের উপপরিচালক (এস্টেট) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বরে আরও দুই হাজার ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

উত্তরা ১৮ নং সেক্টরের ‘এ’ ব্লকে নির্মাণাধীন ১৬৫৪ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটের কিস্তির মূল্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের ব্যর্থতায় বিলম্ব ফি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ১২ শতাংশের জায়গায় ৯ শতাংশ করা হয়েছে এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের পর অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ মূল্যের বাৎসরিক কিস্তি সুবিধা ফি ১২ শতাংশের স্থলে ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ‘এ’ ব্লকে যেসব সুবিধা থাকছে:
সমগ্র প্রকল্প এলাকার ৫৫ শতাংশ জমি খেলার মাঠ, পার্ক, সবুজায়ন, রাস্তা ইত্যাদির জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রকল্পের অভ্যন্তরে মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, কিচেন মার্কেট, স্কুলের ব্যবস্থা রেখে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যাবতীয় সার্ভিসেস লাইনসমূহ (পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ইত্যাদি) ভূ-গর্ভস্থ লাইনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হবে। টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় এনে প্রতিটি ভবনে আলাদা আলাদাভাবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে শোধনের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের ব্যবস্থা থাকবে। ওয়াটার নেটওয়ার্কিং মডেলিংয়ের মাধ্যমে পানি সরবরাহের লাইন ডিজাইন করে এর প্রতিটি অংশের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রকল্পের অভ্যন্তরে পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিংয়ের সংস্থান রয়েছে।
উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে ‘এ’ ব্লকের ভবনের অভ্যন্তরীণ সুবিধাদিঃ

‘এ’ ব্লকের প্রতিটি ভবনে একটি বেজমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও ১৪টি ফ্লোর রয়েছে। ১৪টি ফ্লোরের প্রতিটিতে নেট ১২৭৬ বর্গফুট (গ্রস ১৬৫৪ বর্গফুট) এর ৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি ভবনে ৮৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনসমূহের নিচ তলায় মাল্টিপারপাস হল, গার্ডরুম, রিসেপশন লবি, ড্রাইভারস ওয়েটিং রুম, টয়লেট ইত্যাদির ব্যবস্থা রয়েছে। ভবনের বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে গাড়ী পার্কিং এর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ১টি প্রধান সিঁড়ি,২টি অগ্নিনির্বাপক সিঁড়ির ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ভবনে বিশ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটি উন্নতমানের লিফট থাকবে। প্রতিটি ভবনে ২৫০ কেভিএ জেনারেটর ও ৮৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে ৩টি বেড রুম, একটি লিভিং রুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি ফ্যামিলি লিভিং, ৪টি বারান্দা, ৪টি টয়লেট ও কিচেন রয়েছে।

মন্তব্য