আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকীকরণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বন্ধ

এখন থেকে আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক ঘোষণার আদেশ দিতে পারবে না গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত তাদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। গেল সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ফলে বাণিজ্যিকীকরণ প্রক্রিয়াটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউক সূত্রে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউ, বনানীর বিভিন্ন রোড এবং উত্তরার এভিনিউ রাস্তাগুলোর প্লটগুলো বাণিজ্যিক করা যাবে মর্মে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনেক প্লট বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। কিন্তু গুলশান এলাকার ৩০ ফুট রাস্তায় থাকা কিছু প্লট নিয়ে বিপত্তি দেখা দেয়। এরই মধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কিছু প্লটকে বাণিজ্যিক ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। গুলশান এলাকার বেশ কয়েকজন ভিআইপি প্লট মালিক এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা জানায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে। এরপরই আবাসিক প্লটের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নামী এক শিল্প গ্রুপ গুলশান এলাকার চারটি প্লট বাণিজ্যিকীকরণ করতে গিয়েই বিপত্তি দেখা দেয়। গুলশান আবাসিক এলাকার ১০৩ নম্বর রোডের প্লটটি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ করে। এ সময় তারা আবাসিক প্লট বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে যে বাণিজ্য হচ্ছে ওই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানায়। এরপরই দৃশ্যপট বদলে যেতে থাকে। এদিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় আবদুস সালাম মুর্শেদী গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে একটি আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন। ডিও লেটারে তিনি বলেছেন, গুলশান আবাসিক এলাকার ১০৩ নং রাস্তার ২১নং প্লটটি রাজউকের বরাদ্দকৃত লে-আউট প্ল্যানে আবাসিক হিসেবে বরাদ্দকৃত। ২০০৪ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনেও আবাসিক প্লট হিসেবে গণ্য। প্লটটির হস্তান্তর গ্রহীতা জাকিয়া রউফ চৌধুরী অনৈতিকভাবে রাজউক এবং মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে বাণিজ্যিকীকরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে অবগত হয়েছি। ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলশান আবাসিক এলাকার ১০৩নং রাস্তার ২১নং প্লটটির সামনের রাস্তা ৫৪ ফুট। কিন্তু এস্টেট শাখার পরিদর্শক তার সরজমিন রিপোর্টে অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ৬০ ফুট হিসাবে দেখিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০৩নং রাস্তায় পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বসবাস। এছাড়া বৈদেশিক কূটনৈতিক কোরের সদস্যসহ নামি দামি ব্যক্তিরা এ রোডে বসবাস করছেন। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, রাজউকের চেয়ারম্যানসহ সদস্যরা আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিকীকরণের অনুমোদন দেয়ার ঘোর বিরোধী। কিন্তু চাপের কারণে কর্তৃপক্ষের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে বিশেষ এলাকা কেন্দ্রিক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ওই সিন্ডিকেট সব কাজ দ্রুততার সঙ্গে করছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে ওই সিন্ডিকেটের মাথায় বাজ পড়েছে। মানবজমিন

মন্তব্য