আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
৩ কোটি টাকার প্লটে জালিয়াতি

মামলার তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তরা মডেল টাউনের তিন কোটি টাকা মূল্যের একটি প্লট বিক্রি করে দিয়েছেন প্লট গ্রহীতার ওয়ারিশরা। তাদের এই জালিয়াতিতে জড়িত ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সহকারী পরিচালক (এস্টেট) মো. মেরাজ আলী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেরাজ আলীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

জানা গেছে, উত্তরা মডেল টাউনের ৫ নম্বর সেক্টরের ৯-সি নম্বর রোডের ২৮০ বর্গগজ আয়তনের ১ নম্বর প্লটটি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ পায় দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জালিয়াতির মাধ্যমে উপরি-উল্লিখিত প্লটটি বিক্রি করে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৪ আগস্ট মতিঝিল থানায় মামলা (নম্বর-২০) করা হয়। মামলায় প্লট বিক্রেতার ছয় ওয়ারিশ মোছা. নুরজাহান বেগম, মোস্তফা জামাল, মোস্তফা কামাল, মোস্তফা মহসিন, মিজানুর রহমান, মোছা. নিলুফার রহমান এবং রাজউকের সহকারী পরিচালক মেরাজ আলীকে আসামি করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরা মডেল টাউনের ৫ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ১ নম্বর প্লটটি ১৯৮০ সালে ডিআইটির সহকারী প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমানের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে লে-আউট পরিবর্তনের কারণে প্লটটি ৫ নম্বর সেক্টরের ৯-সি নম্বর রোডের ১ নম্বর প্লটে রূপান্তরিত হয়। মজিবুর রহমান ১৯৮২ সালে প্লটটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকায় কাজী আয়েশা হোমেরার কাছে বিক্রি করে দেন। প্লটের ক্রেতার ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা পরিশোধসাপেক্ষে ১৯৮২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারি অফিসে সেল অ্যাগ্রিমেন্ট দলিল (দলিল নং-১৭৭২৮) সম্পাদিত হয়। সেল অ্যাগ্রিমেন্টের পর ডিআইটি থেকে ট্রান্সফার অনুমতি, আয়কর ছাড়পত্র ও অন্যান্য কাজ সম্পাদন করার আগে ১৯৯২ সালের ১৬ আগস্ট মজিবুর রহমান মারা যান। প্লট বিক্রেতার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশরা প্লটের এসব কাজ সম্পন্ন করে না দেওয়ায় ক্রেতা কাজী আয়েশা হোমেরা প্রথমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। তাতে কাজ না হওয়ায় তিনি প্লট বিক্রেতার ছয় ওয়ারিশ ও রাজউক চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে ১৯৯৬ সালে একটি দেওয়ানি মামলা (নম্বর-১৪৩) দায়ের করেন। বর্ণিত মামলাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১৯৯৭ সালে ৩ মার্চ রাজউক আইন শাখায় একটি নথি খোলা হয়। মামলাটি পরবর্তী সময় মোকাম

পরিবর্তন হয়ে যুগ্ম জেলা জজ তৃতীয় আদালতে দেওয়ানি মামলা ৮৮/২০০৬-এ রূপান্তর হয়। দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর-৮৮/২০০৬-এর রায়, ডিক্রি এবং দেওয়ানি ডিক্রি জারি মামলা নম্বর-১১/২০০৬-এর আলোকে আদালতে মোছা. নুরজাহান বেগম গংরা ২০১১ সালে ১৭ আগস্ট কাজী আয়েশা হোমেরার অনুকূলে রেজিস্ট্রারি দলিল (নং-১০৯৩৭) সম্পাদন করে দেন।

এদিকে, দেওয়ানি মোকদ্দমা নম্বর-৮৮/২০০৬ এবং হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল পিটিশন নম্বর-৩৯৬৪/২০০৭ বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মজিবুর রহমানের ওয়ারিশরা প্লটটি তাদের নামে নামজারি করে দিতে ২০০১ সালে ৪ ডিসেম্বর রাজউকে আবেদন করেন। রাজউক থেকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এর পর ২০০৬ সালে ৫ জানুয়ারি ফের তারা নামজারির জন্য আবেদন করেন। এবারও রাজউক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এরও পরে ২০০৬ সালেরই ১৭ মে নামজারির জন্য তারা ফের আবেদন করেন। উত্তাধিকারের ক্ষেত্রে নামজারির বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য আবেদনটি আইন শাখায় পাঠানো হয়। আইন শাখার ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে প্লটের মালিকানা সংক্রান্ত মামলার তথ্য গোপন করে শুধু এস্টেট শাখার নথি উপস্থাপনের মাধ্যমে আইন শাখার তত্ত্বাবধায়ক (বর্তমানে সহকারী পরিচালক) মো. মেরাজ আলী উপস্থাপিত বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য আইন উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন। আইন উপদেষ্টা নথি পর্যালোচনা করে নামজারিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে মত দেন। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর মজিবুর রহমানের ওয়ারিশদের অনুকূলে নামজারির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর প্লটটি ৩ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। রাজউকের বিধিবিধান অমান্য করে কেউ যদি অনিয়ম করে থাকে, তা হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য