আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
রাজধানীতে ভবন নির্মাণে পদে পদে বাধা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের প্রচলিত ইমারত নির্মাণ বিধিমালার কারণে কোটি কোটি টাকার জমি নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে রাজধানীর অধিকাংশ জমির মালিকরা। এর ফলে মালিকরা খালি জায়গায় না পারছে বাড়ি বানাতে, না পারছে একতলা ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ করতে। ফলে এসব জায়গা এখন তাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেকের। মূলত এ বাঁধার মূল কারণ হলো রাজউকের ফার। (বাড়ি নির্মাণ করতে যে পরিমাণ জমি ছাড় দিতে হয় তাকে ফার বলা হয়)। এছাড়া, উচ্চতা সীমা নিয়েও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন মালিকরা। এছাড়াও ভবন নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির চাঁদা দাবিসহ নানা বাঁধায় পড়ছে মালিকরা। এভাবে পদে পদে বাঁধা পাচ্ছে মালিকরা। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে আবাসন সংকট বাড়লেও বাড়ছে না জায়গার পরিধি। অথচ রাজউকের প্রচলিত ইমারত নির্মাণ বিধিমালার কারণে নতুন ভবন ও এক তলা বাড়ি ভেঙে ভবন নির্মাণ করতে নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে জমির মালিকদের। এর ফলে নগরীর প্রায় ৫০ ভাগ জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। রাজউকের ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, ইমারত নির্মাণের ক্ষেত্রে নিচে প্লটের আকারভেদে ৩০ থেকে ৪৫ ভাগ জমি ছেড়ে ভবন নির্মাণ করতে হবে। সেই অনুপাতে উপরের দিকে ভবনের উচ্চতা বাড়ানো যাবে। তবে বিমান চলাচলের (এয়ার ফানেল) এলাকায় দেড়শ ফুটের বেশি উচ্চতা বরাদ্দ দেয়া হবে না। কিন্তু এই বিধিমালা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে বৃহৎ প্লট মালিকরা প্রায় অর্ধেক জমি ছেড়ে দিলেও উপরে গিয়ে উচ্চতা নিয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, ছোট প্লটের মালিকরা ফার অনুযায়ী জমি ছাড়তে গিয়ে এত অল্প জায়গায় ভবন নির্মাণ করতে পারছেন না। ফলে কোটি টাকা মূল্যে জমি কিনে তারা বেকায়দায় পড়েছেন।

রাজউক সূত্র জানায়, ১৯৫২ সাল থেকে নগরীতে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে আবশ্যিক উন্মুক্ত স্থান বা সেটব্যাক সিস্টেম চালু ছিল। তখন জমির পরিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মূল জমির শতকরা ৩০ ভাগ ছাড়া হতো। ১৯৯৬ সালে রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় এর পরিমাণ সর্বনিম্ন ২৫ ভাগ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের চাপে ২০০৮ সালের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় তা বাড়িয়ে ৩০ ভাগ করে। বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী ৫ কাঠায় শতকরা ৪০ ভাগ ফাঁকা রেখে ৬০ ভাগ ভূমি ব্যবহার করা যাবে। ৩ কাঁঠার ক্ষেত্রে শতকরা ৩৫ ভাগ জমি ফাঁকা রেখে ৬৫ ভাগ ব্যবহার করা যাবে। আর ২০ কাঁঠা বা তার অধিক জমিতে শতকরা ৫০ ভাগ জমি ছাড়তে হবে। এ বিষয়ে জমির মালিক, প্লট মালিক এবং বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-২০০৮ পরিবেশবান্ধব হলেও ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন থেকে উচ্চতা নিতে গিয়ে তারা নানাভাবে বাঁধাগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ উচ্চতা না দেয়ায় তারা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন। তারা অবিলম্বে বিমান চলাচল এরিয়া ছাড়া অন্যান্য স্থানে প্রয়োজনীয় উচ্চতা বরাদ্দের দাবি জানান। প্লট মালিকরা জানান, অল্প পরিমাণ জমি, অধিক পরিমাণ ছাড়ের কারণে তারা অর্থনৈতিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। প্লট মালিকরা ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ সংশোধন করে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত জমি ছাড়ের পরিমাণ কমানো এবং উচ্চতা সীমা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মহানগরীর পরিবেশ রক্ষা, যানজট ও জনঘনত্ব কমাতেই ফারের সিস্টেম চালু করা হয়েছে। উচ্চতা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিমানের ল্যান্ডিং জোনে সিভিল এভিয়েশন ৬ থেকে সর্বোচ্চ ৮ তলার উপরে উচ্চতা বরাদ্দ করে না। তবে এয়ার ফানেল এলাকায় সর্বোচ্চ দেড়শ ফুট উচ্চতা বরাদ্দ করা হয়। তিনি বলেন, ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ ফুট উপর দিয়ে বিমান চলাচল করে। অনেক ক্ষেত্রে বিমান নির্ধারিত সময়ে ল্যান্ডিং করতে না পারলে এয়ারপোর্ট এলাকার চারপাশে চক্কর দিতে থাকে। এর উচ্চতা সর্বোচ্চ ১৫০ ফুট ধরা হয়। এ কারণেই সাধারণত এয়ার ফানেল এলাকায় ভবন তৈরির ক্ষেত্রে উচ্চতা দেড়শ ফুট নির্ধারণ করেছে।

মন্তব্য