আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
মালয়েশিয়ার ঋণে উত্তরায় ৮ হাজার ৭৩৬টি ফ্ল্যাট, হস্তান্তর ২০২০ সালে

রাজধানীর উত্তরায় আট হাজার ৭৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্তৃক রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে বাস্তবায়নাধীন একটি বেসমেন্টসহ ১৬ তলাবিশিষ্ট ১০৪টি ভবনে এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। ফ্ল্যাট তৈরিতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে মালয়েশিয়া সরকার। আধুনিক ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং সিস্টেম’ ব্যবহার করে ‘ডিজাইন-বিল্ড-ট্রান্সফার’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘রেডটেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ এসব ভবন নির্মাণ করবে। প্রতি বর্গফুট তিন হাজার ৪৩৫ টাকা দরে সর্বমোট এক কোটি ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ২৭৩ বর্গফুট এরিয়া নির্মাণে মোট ব্যয় হবে পাঁচ হাজার ৯৮ কোটি টাকা। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধ্যম ও নি¤œ আয়ের জনগণের জন্য রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন রাজধানীর ‘উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্প’-এর ‘বি’ ও ‘সি’ ব্লকে এসব ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ‘বি’ ব্লকের ৫২টি ভবনের চার হাজার ৩৬৮টি ফ্ল্যাটের প্রতিটির আয়তন হবে এক হাজার ২৫০ বর্গফুট এবং ‘সি’ ব্লকের ৫২টি ভবনের চার হাজার ৩৬৮টি ফ্ল্যাটের প্রতিটির আয়তন হবে ৮৫০ বর্গফুট। বিম ও কলাম বিশিষ্ট স্ট্রাকচারের পরিবর্তে আধুনিক ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড বিল্ডিং সিস্টেম’ প্রযুক্তিতে অ্যালুমিনিয়াম শাটার ব্যবহারের মাধ্যমে এসব ভবন নির্মাণ করা হবে। ফলে নির্মাণে সময় কম লাগবে। ভবন নির্মাণের এ পদ্ধতিতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সম্মতি রয়েছে।
জানা যায়, জি-টু-জির আওতায় মালয়েশিয়া সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এসব ভবন নির্মাণে মালয়েশিয়া সরকারের ‘স্পেশাল এনভয় টু ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়া অন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’-এর আওতায় ২০১১ সালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়। এরপর সংশোধিত সমঝোতা স্মারক সই করা হয় ২০১৪ সালে। প্রথমবার সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর সে দেশের দু’টি কোম্পানিকে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল মালয়েশিয়ার সরকার। কোম্পানি দু’টি হচ্ছে ‘জেমিল্যাং ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এসডিএন বারহাদ’ ও ‘এএলএম বিল্ডার্স এসডিএন বারহাদ’। কিন্তু প্রায় সাত বছর পর চলতি বছরের গত ৪ জানুয়ারির আগে নিয়োগকৃত ওই দুই ভারতীয় কোম্পানিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে অযোগ্য উল্লেখ করে ‘রেডটেন ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’-কে নিয়োগ দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।
চুক্তি অনুযায়ী মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে নির্মিত আনুষঙ্গিক স্থাপনাগুলো মূল নির্মাণকাজের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার পর চার কিস্তিতে ৪২ মাসের মধ্যে (৩০, ৩৮, ৪০ ও ৪২তম মাস) সম্পূর্ণ চুক্তিমূল্য পরিশোধ করতে হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কাস্টম ডিউটি, ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচলিত বিধান কার্যকর হবে।
এ দিকে প্রকল্পের চুক্তিমূল্য পরিশোধে আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় সরকারের কাছে তিন হাজার কোটি টাকা অনুদান বা থোক বরাদ্দ কিংবা স্বল্প সুদে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ চেয়েছে রাজউক। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। রাজউক বলেছে, এ ফ্ল্যাটের ৭৫ ভাগ বিক্রি বিবেচনা করা হলে বেশ কিছু অর্থ ঘাটতি থেকে যাবে। এ ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকারের থোক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে। নয়া দিগন্ত

মন্তব্য