আমাদের মেইল করুন dhunatnews@gmail.com
আবাসন সুবিধার বাইরে ৯৫% পুলিশ সদস্য

নিজস্ব ভবন না থাকায় ভাড়া করা একটি বাড়িতে কার্যক্রম চলছে রাজধানীর মতিঝিল থানার। দুই তলা এ ভবনের নিচতলায় সামনের অংশ থানা হিসেবে ব্যবহূত হয়। আর নিচতলার পেছনের অংশ, দোতলা এবং ভবনটির পেছনে টিনশেডে অনেকটা গাদাগাদি করে বাস করেন ৭০ জনের মতো পুলিশ সদস্য। যদিও দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এ থানায় মোট পুলিশ আছে ২০০।

গত মঙ্গলবার মতিঝিল থানা ভবনের নিচতলায় একজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মতিঝিল থানা ভবনটি ভাড়া নেয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও থানাসংলগ্ন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসের সুযোগ থাকলেও তাদের তা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে ভাড়া বাসায় থাকতে হয় পুলিশ সদস্যদের।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা কম্পাউন্ডে পুলিশের বসবাসের জন্য তিনটি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একটি কোনো রকমে বসবাসের মতো অবস্থায় আছে। জরাজীর্ণ এ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করছেন কালীগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্যরা।

কেবল মতিঝিল কিংবা কালীগঞ্জ থানা নয়; চরম আবাসন সংকটে আছেন দেশের প্রায় সবক’টি থানা ও ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা। মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কর্মকর্তারা আবাসন সুবিধা পেলেও থানা-ফাঁড়ির অবস্থা নাজুক।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৯ হাজার ১৯৪ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের মোট অনুমোদিত জনবলের মাত্র ৫ শতাংশ সদস্য আবাসন সুবিধা পেয়ে থাকেন। অবশিষ্ট ৯৫ শতাংশ পুলিশ সদস্য ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসায় ভাড়া থাকেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া) সোহেল রানা বণিক বার্তাকে বলেন, চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। আবাসন চাহিদা পূরণে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুলিশের নিজেদের নিরাপত্তায় আবাসন ব্যবস্থা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

জানা গেছে, দেশের যেসব এলাকায় এখনো পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা নেই, সেসব এলাকার জন্য আলাদা করে প্রকল্প না নিয়ে সব এলাকার জন্য একসঙ্গে বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে গত বছর নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই আলোকে প্রাথমিকভাবে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের জন্য নয়টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৯২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। নভেম্বর ২০১৮ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলায় বাস্তবায়িত হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা। সংস্থাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে ভূমিকা পালনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবায় সদা নিয়োজিত থাকে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ পুলিশের জন্য এখনো আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে তাদের সেবার মান উন্নয়ন এবং পুলিশ সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি ও চাহিদা এবং স্থান সংকটের বিষয় বিবেচনা করে নয়টি স্থানে আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ করা হবে। সামনের দিনে প্রতিটি জেলায় পুলিশের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিতকল্পে বড় প্রকল্প নেয়া হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ তলা ভিতের ওপর ২০ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক ভবনের আয়তন হবে ৫২ হাজার ৩৯৭ বর্গমিটার। ২০ তলা ভিতের ওপর ২০ তলাবিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবনের আয়তন হবে ২৬ হাজার ৯৭৮ বর্গমিটার। ১৫ তলা ভিতের ওপর ১৫ তলাবিশিষ্ট চারটি আবাসিক ভবনের আয়তন ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৬ বর্গমিটার এবং ১৫ তলা ভিতের ওপর ১৫ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক ভবনের আয়তন হবে ১৯ হাজার ৬৪৮ বর্গমিটার। এসব ভবনে লিফট, অগ্নিনির্বাপণ সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা, আনুষঙ্গিক যানবাহন সুবিধা থাকবে।

মন্তব্য