আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
দখল দূষণে উত্তরা লেক, প্রকল্প গ্রহণের ৫ বছরেও সংস্কার হয়নি

রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম হলো উত্তরা লেক। কিন্তু এ লেকটি দখল ও দূষণে আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। লেকটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১৩ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এরপর প্রকল্পটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে আগের মতই রয়ে গেছে লেকটি। তবে সম্প্রতি লেকটি উন্নয়নের জন্য আবারো উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। লেকটিকে হাতিরঝিলের ন্যায় করতে বিভিন্ন পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে তা জানাতে পারেনি রাজউক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের উত্তরা লেকটি ব্যবহার করতে পারছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। পানিতে দুর্গন্ধ, ভরাট হয়ে যাওয়াসহ নানা সমস্যার কারণে কেউ আর লেকে ভ্রমণ করতে আসে না। ফলে পরিত্যক্ত প্রায় এ লেকটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লেকটি ৩ নম্বর সেক্টরের সেতুর নিচে, গাউসুল আজম অ্যাভিনিউ অংশে ও সোনারগাঁ জনপথ অংশ ভরাট হওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। পানিও নোংরা। কিছু জায়গায় পাড় ভাঙা, তাই পাড় ধরে নির্বিঘেœ হাঁটা যায় না। ফলে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে লেকটি।

এদিকে, রাজউক জানিয়েছে, লেকটি রক্ষায় নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী লেকটি সংস্কার করা হবে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এই প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে।

জানা গেছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী লেকটি উত্তরা ৩ ও ৫ নম্বর সেক্টর থেকে শুরু হয়ে সোনারগাঁ জনপথ সড়ক ধরে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের সামনে পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ কিলোমিটার, প্রস্থ গড়ে ১০০ মিটার। এ প্রকল্পে লেক ঘেঁষে গড়ে ওঠা উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের পার্কটিও সংস্কার করা হবে।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছে, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লেকের দুই পাড়েই হবে দৃষ্টিনন্দন পায়ে হাঁটার পথ। ৩ নম্বর সেক্টরের সেতু ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউয়ের সেতু ভেঙে উঁচু সেতু বানানো হবে। সোনারগাঁ জনপথ অংশে হবে বড় কালভার্ট। এসবের নিচ দিয়ে ওয়াটার ট্যাক্সি চলার ব্যবস্থা থাকবে। পাড় দিয়ে হাঁটার পাশাপাশি পানিপথেও আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত যাওয়া যাবে। উঁচু সেতুর কারণে যানবাহনও চলতে পারবে যানজট ছাড়া।

রাজউক সূত্রে জানা গেছে, খনন, বর্জ্য অপসারণ ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে নতুন প্রকল্পটি নেয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়াধীন নতুন প্রকল্পটি হবে প্রায় ২০৮ কোটি টাকার। নতুন এই প্রকল্পের আওতায় লেকের দুই পাশে ৮ ফুট চওড়া হাঁটার পথ, চারটি জায়গায় ঝুলন্ত হাঁটা পথ, একটি পদচারীসেতু দুটি বড় সেতু, একটি কালভার্ট, ছয়টি গণশৌচাগার, ২২টি ওয়াটার ডেক (পানির ওপর ঝুলন্ত বসার জায়গা), ১২টি হ্যাংগিং ডেক (আংশিক পানির ওপর ঝুলন্ত বসার জায়গা), দুটি ব্যায়ামের স্থান, চারটি ঝরনা, খাওয়ার পানির ব্যবস্থাসহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু কাজ করা হবে। এছাড়া ১৩ নম্বর সেক্টর পার্কের পাশে লেকের ওপর হাতিরঝিলের আদলে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ বানানো হবে। এখানে উত্তরার বাসিন্দারা অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ পাবেন।
এই প্রকল্পের পরিচালক আমিনুর রহমান বলেন, নানা জটিলতা আগের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তবে প্রকল্পটির কাজ চলাকালীন মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী উত্তরা লেক সংস্কারের জন্য সংশোধিত একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছিল। যাতে সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী পুরো সংস্কারকাজ একবারেই শেষ করা যায়। তবে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে আরেকটি উন্নয়ন পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। সেটির কাজ চলছে। শিগগিরই নতুন পরিকল্পনা জমা দেয়া হবে।

ইতিমধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লেকের পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, পানির গুণগত মান বাড়বে, পথচারীরা লেকের পাড়ে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি ওয়াটার ট্যাক্সির মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ পাবে। কাজ শেষ করার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উত্তরার সেক্টরভিত্তিক কল্যাণ সমিতিকে দেয়া হবে; যাতে লেক নোংরা না হয় ও ব্যবহারকারীরাই লেকটির সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে পারেন। তবে প্রয়োজন হলে রাজউক সংস্কার করে দেবে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরার চেহারাই পাল্টে যাবে। হাতিরঝিলের মতো শুধু লেক দেখার জন্যও অনেকেই সেখানে ঘুরতে যাবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মন্তব্য