আমাদের মেইল করুন abasonbarta2016@gmail.com
গৃহঋণ: সরকারি চাকরিজীবীদের বয়সসীমা নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ নির্মাণ ঋণের আওতায় নিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৬ থেকে বাড়িয়ে ৫৮ বছর করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত ৯ ডিসেম্বর অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো এক সারমর্মে তিনি এ প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজন যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিব পর্ষায়ের কর্মকর্তাদের অনেকের বয়সসীমা পার হয়ে গেছে। এজন্য তারা গৃহ নির্মাণ ঋণ পাচ্ছেন না। তাই অর্থ বিভাগ গোপনে সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়াতে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায়। ওই প্রস্তাবের উত্তরে অর্থমন্ত্রী এই সারমর্ম পাঠান।

সারমর্মে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে এমন কোনো পরিবর্তন বাঞ্ছনীয় নয়। নতুন সরকার আসলে অবসরের বয়স, সব চাকরিজীবীদের গৃহ নির্মাণ ঋণের আওতায় আনা, সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা যাবে।

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরে যাওয়ার বয়সসীমা এখন ৫৯ বছর। আগে এ বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর।

সারমর্মে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুসারে কর্মকর্তাদের বিশেষ অগ্রীম প্রাপ্তির সুবিধা ৫৮ বছর। সে আলোকে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান নীতিমালায় বয়স ৫৮ বছর নির্ধারণ করা হলে উভয় ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা ৪ অনুচ্ছেদ বর্ণিত ঋণ প্রাপ্তির শর্তের ক্ষেত্রে ‘জমিসহ তৈরি বাড়ি ক্রয় বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের’ শব্দগুলো বাদ দেয়া যেতে পারে।

জানা গেছে, গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যেকোনো এলাকায় গৃহনির্মাণ করতে ঋণ নিতে পারবেন। তবে গৃহ নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের নকশা উপর্যুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনের বোর্ডে অনুমোদিত দুইজন সরকারি চাকরিজীবীকে রেডি ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করবে সরকার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের কম সুদে গৃহ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। ওই ঋণের সরল সুদহার হবে ১০ শতাংশ। যার মধ্যে ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। ইতোমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ভর্তুকি বাবদ ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। দেশে মোট ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৭০ ভাগ কর্মচারী।

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহ ঋণ নীতিমালা-২০১৮ অনুযায়ী, এই ঋণ নিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ধরা হয়েছে ৫৬ বছর। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা এই ঋণ নিতে পারবেন। সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ঋণ ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ ২০ বছর।

মন্তব্য